
মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের খোজালীপুর গ্রামে নারকেল গাছে উঠে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আলমগীর হোসেন (৩৫) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ঘটে হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেন দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে থাকা একটি উঁচু নারকেল গাছে ওঠেন। মূলত পাশের আম গাছ থেকে আম পাড়ার উদ্দেশ্যেই তিনি গাছের মাথায় উঠেছিলেন। এ সময় তাঁর হাতে ছিল কাঁচা বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি আঁকশি। আম পাড়ার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত আঁকশিটি গাছের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেইন লাইনের তারের সঙ্গে স্পর্শ করে। মুহূর্তের মধ্যেই কাঁচা বাঁশের আঁকশিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং তীব্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আলমগীর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যুতের শক্তিশালী শকে তিনি গাছের মাথাতেই আটকে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে কেউ কাছে যেতে পারেননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হন উপস্থিত লোকজন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িক বন্ধ রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাছের ওপর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন পরিবারের একজন পরিশ্রমী ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, আলমগীর ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পরউপকারী মানুষ। গ্রামের সবার সঙ্গে তাঁর ছিল আন্তরিক সম্পর্ক। তাই তাঁর মৃত্যু কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে, এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অনেক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুতের তার গাছের খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন অপসারণ বা নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ লাইনের পাশের গাছে ওঠা বা ফল সংগ্রহের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কাঁচা বাঁশ, ধাতব বস্তু বা লম্বা আঁকশি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সামান্য অসচেতনতাও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
Reporter Name 




























