Dhaka ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ঢাকাগামী বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক হেল্পার রাউজানে বিভিন্ন ইউনিয়ন এর পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা যুবদল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মা: সন্তানের জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

  • ফারজানা ইসলাম
  • সময়: ০১:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • ২২৭ Time View

লেখক:ফারজানা ইসলাম

 

ভূমিকা
মানুষের জীবন পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। পরিবার মানেই সম্পর্কের বাঁধন, দায়িত্ব, ভালোবাসা আর ত্যাগ। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো পারিবারিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন, আর সন্তান হলো সেই সম্পর্কের পরিপূর্ণতা। কিন্তু জীবনে সবসময় সম্পর্কের পথ মসৃণ হয় না। কখনো মৃত্যুর ছোবল, কখনো বাস্তবতার কঠিন আঘাত পরিবারকে ভেঙে দেয়।

এই পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো মা। স্বামী মারা গেলে মা একাই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রাখেন, লালন করেন, মানুষ করে তোলেন। কিন্তু স্ত্রী মারা গেলে একজন বাবার পক্ষে সন্তানের যত্ন একা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আত্মীয়স্বজন মিলে সেই শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করেন। এটাই জীবনের নির্মম সত্য।


স্ত্রী মারা গেলে সন্তানের অবস্থান
স্ত্রী হলো সংসারের কেন্দ্রবিন্দু। সংসারের ভেতরকার ভারসাম্য ধরে রাখেন তিনি। রান্না থেকে শুরু করে সন্তান লালন-পালন, পরিবারের সকল সদস্যের খেয়াল রাখা এসবই একজন স্ত্রীর দৈনন্দিন দায়িত্ব।

কিন্তু যখন স্ত্রী মারা যান, তখন সন্তানরা হঠাৎ করেই মায়ের স্নেহ, যত্ন, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। একজন বাবা যতই দায়িত্বশীল হন না কেন, মায়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন না। তখন আত্মীয়স্বজন—দাদি, নানি, খালা, ফুফু এগিয়ে আসেন। তারা মায়ের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সত্যি বলতে, মা ছাড়া সংসার কখনো পূর্ণ হয় না। সন্তানের ছোট ছোট চাহিদা, তার অনুভূতির গভীরতা, তার মনের কথা এসব সবচেয়ে আগে বোঝেন মা। তাই স্ত্রী মারা গেলে পরিবার ভেঙে পড়ে, আর সন্তান হয়ে যায় সবচেয়ে অসহায়।


স্বামী মারা গেলে মায়ের সংগ্রাম
অন্যদিকে, যখন স্বামী মারা যান, তখন একজন নারীর পৃথিবী যেন একেবারে ভেঙে যায়। তবু মা সন্তানদের আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকেন। স্বামীর মৃত্যুর শোকের ভেতর থেকেও তিনি সন্তানদের জন্য শক্ত হয়ে দাঁড়ান।

আরও পড়ুনঃ  মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

তিনি একাই হয়ে ওঠেন মা ও বাবার সমান। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষা, জীবনের প্রতিটি চাহিদা পূরণ—সবকিছু একাই সামলান। স্বামী হারানোর যন্ত্রণা হৃদয়ে ধারণ করেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি নতুন করে লড়াই শুরু করেন।

একজন মা যেন সন্তানদের জন্য এক অদম্য যোদ্ধা। স্বামী হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব একাই বহন করেন তিনি। সমাজের নানা বাঁধা, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক কটূক্তি—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে সন্তানদের মানুষ করেন।


মায়ের ভূমিকা বনাম বাবার ভূমিকা
বাবা সন্তানদের জীবনে দৃঢ়তা, দায়িত্ব আর নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু মা হলো স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার আশ্রয়। বাবা দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে পারেন, আত্মীয়দের সাহায্য নিতে পারেন, কিন্তু মা সব দায়িত্ব একাই নিতে পারেন।

সন্তানের ক্ষুধা, অসুখ-বিসুখ, পড়াশোনা, মানসিক চাহিদা—সবকিছু মা একাই সামলাতে পারেন। হয়তো অর্থনৈতিকভাবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন, কিন্তু মানসিকভাবে সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমে না।


সমাজের দৃষ্টিতে পার্থক্য
আমাদের সমাজেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। একজন স্ত্রী মারা গেলে মানুষ সাধারণত ভাবে—“এই সংসার কেমন চলবে?” সবাই মনে করে অন্য কাউকে এনে মায়ের জায়গা পূরণ করতে হবে। অথচ স্বামী মারা গেলে খুব কম মানুষই ভাবে যে এই পরিবার চলবে না। কারণ তখন সবার ধারণা থাকে “মা আছে, তিনিই যথেষ্ট।”

এখানেই প্রমাণ হয়, মায়ের শক্তি কতটা অপরিসীম। মা সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমর্থন।


বাস্তব উদাহরণ
আমরা চারপাশে অসংখ্য উদাহরণ দেখি। অনেক নারী স্বামী হারিয়ে একা হাতে সন্তান মানুষ করেছেন। দুঃখ-কষ্টের ভেতর দিয়েও তারা সন্তানদের শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একজন মায়ের চোখে পানি থাকতে পারে, কিন্তু সেই চোখেই সন্তানের জন্য অদম্য শক্তি লুকিয়ে থাকে। তিনি নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে শুধু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভাবেন।

অন্যদিকে, একজন বাবা স্ত্রী হারালে সন্তান মানুষ করার জন্য একা টিকে থাকতে পারেন না। অনেক সময় তিনি নতুন সংসার শুরু করেন। এতে সন্তানরা মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড, সংসদে বিল পাস:  শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

মা কেন একাই যথেষ্ট
১. অন্তহীন ত্যাগ – মা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সন্তানের জন্য সবকিছু দেন।
২. অপরিসীম ধৈর্য – যত কষ্টই হোক, সন্তানকে কখনো বোঝা মনে করেন না।
৩. মানসিক শক্তি – স্বামী মারা যাওয়ার পরও সন্তানদের আগলে রাখেন, বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য খুঁজে পান।
৪. সন্তানের প্রথম শিক্ষক – মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষা দেন, তাকে মানুষ করে তোলেন।
৫. অদম্য ভালোবাসা – পৃথিবীর সব সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু মা-সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন।


উপসংহার
“স্ত্রী মারা গেলে সন্তান মানুষ করার জন্য দাদি, নানি, খালা, ফুফু লাগে। স্বামী মারা গেলে সন্তান যতজনই হোক, মা একাই যথেষ্ট।” – এটি শুধু একটি প্রবাদ নয়, জীবনের নির্মম সত্য।

মায়ের জায়গা পৃথিবীতে আর কেউ নিতে পারে না। তিনি একাই পরিবারকে টিকিয়ে রাখেন, সন্তানদের মানুষ করেন। তাই মা শুধু একটি শব্দ নয়, মা হলো সন্তানের জীবনের আলো, শক্তি আর আশ্রয়।

আমরা যদি প্রতিটি মায়ের ত্যাগকে সম্মান করতে শিখি, তবে সমাজ আরো সুন্দর হবে। কারণ মা-ই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কখনো হার মানেন না, কখনো ভেঙে পড়েন না—সন্তানের জন্য তিনি চিরকাল লড়াই করে যান।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার

মা: সন্তানের জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

সময়: ০১:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

লেখক:ফারজানা ইসলাম

 

ভূমিকা
মানুষের জীবন পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। পরিবার মানেই সম্পর্কের বাঁধন, দায়িত্ব, ভালোবাসা আর ত্যাগ। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো পারিবারিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন, আর সন্তান হলো সেই সম্পর্কের পরিপূর্ণতা। কিন্তু জীবনে সবসময় সম্পর্কের পথ মসৃণ হয় না। কখনো মৃত্যুর ছোবল, কখনো বাস্তবতার কঠিন আঘাত পরিবারকে ভেঙে দেয়।

এই পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো মা। স্বামী মারা গেলে মা একাই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রাখেন, লালন করেন, মানুষ করে তোলেন। কিন্তু স্ত্রী মারা গেলে একজন বাবার পক্ষে সন্তানের যত্ন একা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আত্মীয়স্বজন মিলে সেই শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করেন। এটাই জীবনের নির্মম সত্য।


স্ত্রী মারা গেলে সন্তানের অবস্থান
স্ত্রী হলো সংসারের কেন্দ্রবিন্দু। সংসারের ভেতরকার ভারসাম্য ধরে রাখেন তিনি। রান্না থেকে শুরু করে সন্তান লালন-পালন, পরিবারের সকল সদস্যের খেয়াল রাখা এসবই একজন স্ত্রীর দৈনন্দিন দায়িত্ব।

কিন্তু যখন স্ত্রী মারা যান, তখন সন্তানরা হঠাৎ করেই মায়ের স্নেহ, যত্ন, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। একজন বাবা যতই দায়িত্বশীল হন না কেন, মায়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন না। তখন আত্মীয়স্বজন—দাদি, নানি, খালা, ফুফু এগিয়ে আসেন। তারা মায়ের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সত্যি বলতে, মা ছাড়া সংসার কখনো পূর্ণ হয় না। সন্তানের ছোট ছোট চাহিদা, তার অনুভূতির গভীরতা, তার মনের কথা এসব সবচেয়ে আগে বোঝেন মা। তাই স্ত্রী মারা গেলে পরিবার ভেঙে পড়ে, আর সন্তান হয়ে যায় সবচেয়ে অসহায়।


স্বামী মারা গেলে মায়ের সংগ্রাম
অন্যদিকে, যখন স্বামী মারা যান, তখন একজন নারীর পৃথিবী যেন একেবারে ভেঙে যায়। তবু মা সন্তানদের আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকেন। স্বামীর মৃত্যুর শোকের ভেতর থেকেও তিনি সন্তানদের জন্য শক্ত হয়ে দাঁড়ান।

আরও পড়ুনঃ   উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত ৮, সবাই কন্যাশিশু

তিনি একাই হয়ে ওঠেন মা ও বাবার সমান। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষা, জীবনের প্রতিটি চাহিদা পূরণ—সবকিছু একাই সামলান। স্বামী হারানোর যন্ত্রণা হৃদয়ে ধারণ করেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি নতুন করে লড়াই শুরু করেন।

একজন মা যেন সন্তানদের জন্য এক অদম্য যোদ্ধা। স্বামী হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব একাই বহন করেন তিনি। সমাজের নানা বাঁধা, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক কটূক্তি—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে সন্তানদের মানুষ করেন।


মায়ের ভূমিকা বনাম বাবার ভূমিকা
বাবা সন্তানদের জীবনে দৃঢ়তা, দায়িত্ব আর নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু মা হলো স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার আশ্রয়। বাবা দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে পারেন, আত্মীয়দের সাহায্য নিতে পারেন, কিন্তু মা সব দায়িত্ব একাই নিতে পারেন।

সন্তানের ক্ষুধা, অসুখ-বিসুখ, পড়াশোনা, মানসিক চাহিদা—সবকিছু মা একাই সামলাতে পারেন। হয়তো অর্থনৈতিকভাবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন, কিন্তু মানসিকভাবে সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমে না।


সমাজের দৃষ্টিতে পার্থক্য
আমাদের সমাজেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। একজন স্ত্রী মারা গেলে মানুষ সাধারণত ভাবে—“এই সংসার কেমন চলবে?” সবাই মনে করে অন্য কাউকে এনে মায়ের জায়গা পূরণ করতে হবে। অথচ স্বামী মারা গেলে খুব কম মানুষই ভাবে যে এই পরিবার চলবে না। কারণ তখন সবার ধারণা থাকে “মা আছে, তিনিই যথেষ্ট।”

এখানেই প্রমাণ হয়, মায়ের শক্তি কতটা অপরিসীম। মা সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমর্থন।


বাস্তব উদাহরণ
আমরা চারপাশে অসংখ্য উদাহরণ দেখি। অনেক নারী স্বামী হারিয়ে একা হাতে সন্তান মানুষ করেছেন। দুঃখ-কষ্টের ভেতর দিয়েও তারা সন্তানদের শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একজন মায়ের চোখে পানি থাকতে পারে, কিন্তু সেই চোখেই সন্তানের জন্য অদম্য শক্তি লুকিয়ে থাকে। তিনি নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে শুধু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভাবেন।

অন্যদিকে, একজন বাবা স্ত্রী হারালে সন্তান মানুষ করার জন্য একা টিকে থাকতে পারেন না। অনেক সময় তিনি নতুন সংসার শুরু করেন। এতে সন্তানরা মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  ইসলামি ঐতিহ্য ও সমকালীন শিক্ষা, কামরাঙ্গীরচরে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে দারুল উলুম ইসলামনগর মাদ্রাসা: এক অনন্য বাতিঘর

মা কেন একাই যথেষ্ট
১. অন্তহীন ত্যাগ – মা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সন্তানের জন্য সবকিছু দেন।
২. অপরিসীম ধৈর্য – যত কষ্টই হোক, সন্তানকে কখনো বোঝা মনে করেন না।
৩. মানসিক শক্তি – স্বামী মারা যাওয়ার পরও সন্তানদের আগলে রাখেন, বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য খুঁজে পান।
৪. সন্তানের প্রথম শিক্ষক – মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষা দেন, তাকে মানুষ করে তোলেন।
৫. অদম্য ভালোবাসা – পৃথিবীর সব সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু মা-সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন।


উপসংহার
“স্ত্রী মারা গেলে সন্তান মানুষ করার জন্য দাদি, নানি, খালা, ফুফু লাগে। স্বামী মারা গেলে সন্তান যতজনই হোক, মা একাই যথেষ্ট।” – এটি শুধু একটি প্রবাদ নয়, জীবনের নির্মম সত্য।

মায়ের জায়গা পৃথিবীতে আর কেউ নিতে পারে না। তিনি একাই পরিবারকে টিকিয়ে রাখেন, সন্তানদের মানুষ করেন। তাই মা শুধু একটি শব্দ নয়, মা হলো সন্তানের জীবনের আলো, শক্তি আর আশ্রয়।

আমরা যদি প্রতিটি মায়ের ত্যাগকে সম্মান করতে শিখি, তবে সমাজ আরো সুন্দর হবে। কারণ মা-ই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কখনো হার মানেন না, কখনো ভেঙে পড়েন না—সন্তানের জন্য তিনি চিরকাল লড়াই করে যান।