
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে বেড়ে ওঠা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আজকের মাফিয়া ডন আজিজুল ইসলাম ওরফে আজিজ তার সহযোগী শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া শিবপুর গ্রামের আদম ব্যবসায়ি, মাটি খেকো কাবিদুল ইসলাম এখনো সক্রিয়। নিজ পরিবারের লোকজন এর অন্য-বস্ত্র যোগানের তাগিদে অভাবের তাড়ানায় মানুষের বাড়ী বাড়ীতে আজিজুল ইসলাম ও কাবিদুল ইসলাম কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু ও হাস-মোরগের রাখালি করতেন।
রাখালি করলেও যুবক বয়সে আজিজ ও কাবিদুলের ছিলো টাকা কামানোর নেশা। দার-দেনা করে ১০/১১ বছর পূর্বে সুনামগঞ্জের আরেক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি জমায় আজিজ। এরপর নিজেই গড়ে তুলেন দেশবিদেশে মাফিয়া চক্র। তার গড়া মাফিয়া চক্রের কবলে পড়ে অনেক পরিবার জায়গা-জমি ও বাড়ী-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে জীবন দিতে হয়েছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ যুবকসহ বাংলাদেশের ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘুরে ফিরে এই আজিজুল নামক মাফিয়ার নাম আসছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী সক্রিয় দালালকাবিদুল ইসলামও। এমনকি এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়েরও হয়েছে। কিন্তু ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েগেছেন কাবিদুল ইসলাম। তাকে কেউ বলেন কাবিদুল ইসলাম আবার কেউ বলেন তাবিদুল ইসলাম। তবে লিবিয়ায় বাংলাদেশী এই মানবপাচারকারী দালাল মাফিয়া ডন কাবিদুল নামেই পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সয়লাব কাবিদুলের ছবিতে। শাস্তির দাবি উঠেছে তার। বলা হচ্ছে তার মাধ্যমেই লিবিয়ায় গিয়ে ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে সুনামগঞ্জের ১২ জনের। এই মাফিয়া ডন খ্যাত আজিজ মাঝে মধ্যে দেশে আসলেও দালাল কাবিদুল ইসলামের সাথে অন্যত্র কয়েকমাস সময় কাটিয়ে আবার দেশ ছাড়েন আজিজ।
তবে ভয়ে জগন্নাথপুর কিংবা সুনামগঞ্জে আসে না।আজিজ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত ইছগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজ উল্লাহ্ বয়স চল্লিশের কাছা-কাছি । তাকে নিজ এলাকার বেশীর ভাগ লোকই চিনেন না। তবে দালাল কাবিদুল ইসলামকে বেশি চিনেন। কোটি টাকা খরচা করে নিজের বাড়ি-ঘর তৈরি করেছেন। পূর্বে কাবিদুলের ঘর বাড়ির কোনো অস্তিত্ব ছিল না।স্বশিক্ষিত অর্থাৎ নাম দস্তখত জানা আজিজ যুবক বয়স পর্যন্ত বাড়িতেই থেকেছে। পরিবারও খুব বেশি সচ্ছল ছিল না। নিম্নআয়ের মানুষ হিসেবেই তার পরিবার ছিল। প্রায় ১০ বছর আগে আজিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। কোথায় গেছে প্রথম দিকে কেউ জানতো না। পরে অবশ্য এলাকার মানুষেরা কাবিদুল ইসলামের কাছে জানতে পেরেছে-আজিজ লিবিয়ায় আছে। আরো জানাযায়, বাড়িতে আজিজের ভাই, চাচারা রয়েছেন। বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আজিজের সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ নেই। শুধু কাবিদুল ইসলামের সাথে ছিল। হঠাৎ একদিন আজিজ তার বউ বাচ্চাকে বাড়ি থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। তারা জেনেছেন আজিজ তার পরিবারকে সিলেট শহরে নিয়ে গেছে। পরে অবশ্য কাবিদুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্ত্রী-সন্তানদেরও লিবিয়া নিয়ে গেছে। এখন বাড়িতে আজিজের ভিটে থাকলেও কোনো ঘর নেই। বাড়িতে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই কাবিদুল ইসলাম ছাড়া। স্বজনরা তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না।
বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে আরো জানা যায়, জগন্নাথপুর ও পাশ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এই মাফিয়া ডন আজিজের মানব পাচার নেটওয়ার্ক রয়েছে কাবিদুল ইসলামের মাধ্যমে।এতে দালাল কাবিদুল ইসলাম সহ ৫/৬ জন মানবপাচারের কাজে বর্তমানেও সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে আজিজ গেমের মাধ্যমে ইউরোপ পাঠানোর নামে লোক খুঁজে। এবং দেশের এই চক্রের সক্রিয় সদস্যরা লিবিয়া গমনেচ্ছু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আজিজুল ইসলাম এর নিকট পাঠায়। এমনকি সুকৌশলে টাকার লেনদেন করে থাকেন কাবিদুল ইসলাম। এবার যারা ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন তাদের রমজানের আগে দেশ থেকে সৌদি আরব, মিশর হয়ে লিবিয়া নেয়া হয়। কাবিদুল সহ যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তারা গোপনেই কাজ করছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও কথিত মাফিয়া ডন আজিজ এর সহযোগী কাবিদুল ইসলাম মানবপাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকের আত্মীয় -স্বজন এখনো এই মাফিয়া চক্রের কবলে রয়েছে। বিধায় কথিত মাফিয়া ডন আজিজ এর সহযোগী কাবিদুল ইসলাম দেশে বসবাসরত মানবপাচারকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর প্রতি আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মানবপাচারকারী কাবিদুল ইসলাম বলেন,আমি মানবপাচারকারী চক্রের সাথে যুক্ত নই। আমার ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি। সরকারি ভূমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, মাটি উত্তোলনের জন্য আবেদন করে উত্তোলন করছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো শাহজাহান মিয়া বলেন,উনার মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।##
Reporter Name 


















