Dhaka ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় নদী খননের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উপজেলা প্রশাসন ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ঢাকাগামী বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক হেল্পার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“শক্তির ওজন”

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০৯ Time View

 

 

শক্তির ওজন
 অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

একদিন এক বাদশাহ গেলেন
এক দরবেশের দরবারে—
দেখলেন, দরবেশ ডুবে আছে অজানা মন্ত্রে,
যে মন্ত্রে আল্লাহর রহমতে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠত অলৌকিকভাবে।

বাদশাহ বললেন বিনয়ের সুরে—
“হে দরবেশ, আমাকে শেখাও সেই মন্ত্রটি।”
দরবেশ মাথা নত করে বললেন—
“এ শিক্ষা সকলের জন্য নয়,
এটা আমানত… আমি দিতে পারব না।”

বাদশাহ রেগে ফিরে গেলেন
শাসনের অহংকারে ভর করে;
কিন্তু অদূরে নিয়তি অপেক্ষা করছিল
এক নতুন সত্যের দরজায়।

কয়েকদিন পর বাদশাহ ডাকলেন সেই দরবেশকে—
দরবার যখন ভরা, সিংহাসন যখন গৌরবে দীপ্ত,
বাদশাহ বললেন,
“তোমার না বলা মন্ত্র আমি অন্যের কাছে শিখেছি।
কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

এখন তুমি বলো—
আমার ভুল কোথায়?
কোন আয়াতে, কোন ব্যাখ্যায় সমস্যা?
না বললে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।”

দরবেশ তখন শান্তভাবে বললেন—
“হে বাদশাহ, সিপাহীদের বলো—
তোমাকে বন্দী করতে।”

সিপাহীরা স্তব্ধ—
বাদশাহও বিস্ময়ে;
দরবেশ আবার বললেন উচ্চস্বরে—
“সিপাহী! বাদশাহকে বন্দী করো!”

কেউ নড়ল না।
এক ইঞ্চিও না।
দরবার নিস্তব্ধ।

বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে চিৎকার করলেন—
“এই দরবেশকে বন্দী করো এখনই!”
তলোয়ার ঝনঝন শব্দে
সব সিপাহী ছুটে গেল দরবেশের দিকে,
চোখে আগুন, হাতে শাসনের শক্তি।

দরবেশ হেসে বললেন—
“দেখলে বাদশাহ?
আমার কথাও ছিল হুকুম,
তোমার কথাও ছিল হুকুম।

কিন্তু পার্থক্য হলো—
আমার কথার পেছনে কোন শক্তি নেই,
তোমার কথার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে।

এই কারণেই
তোমার শিখে আনা মন্ত্র কাজ করেনি।
মন্ত্র নয়—
মানুষের অবস্থানই আসল ক্ষমতা।

যেমন কোরআনও—
আয়াত তো সবার হাতে,
কিন্তু তার আলো সবার হৃদয়ে নামে না।

আল্লাহ বলেন:
“পাক ঘরে তা-ই প্রবেশ করে,
যার অন্তর পবিত্র।”
(সূরা নূর ২৪:২১)

প্রশ্ন কখনোই এটা নয়—
কোরআনে প্রতিকার আছে কি নেই।
প্রশ্ন হলো—
কে কোরআন পড়ছে?
তার নিয়ত কতটা সত্য?
তার তাওয়াক্কুল কতটা দৃঢ়?
তার হৃদয় কতটা পরিষ্কার?
সে কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ?

আরও পড়ুনঃ  সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান

সুরা আনফাল বলে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে,
যাদের ঈমান দৃঢ়।”
(৮:২)

সুরা শোরা বলে—
“যার কর্ম শুদ্ধ,
তাদের জন্য রহমতের দরজা খোলা।”
(৪২:২৬)

সুরা ত্বালাক বলে—
“যে আল্লাহকে ভয় করে,
আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।”
(৬৫:২)

মন্ত্রের শক্তি নয়,
ধর্মগ্রন্থের বাণী নয়—
হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাই
আল্লাহর রহমতকে ডেকে আনে।

দরবেশ বললেন—
“হে বাদশাহ,
কথার ওজন নয়,
কথা বলার মানুষের ওজন-ই আসল সত্য।

হৃদয় যদি পরিশুদ্ধ হয়,
নিয়ত যদি সৎ হয়,
তাহলে একটি আয়াতই
হাজার মন্ত্রের সমান শক্তি বহন করে।

আর যদি হৃদয় হয় কলুষিত,
নিয়ত হয় স্বার্থপর,
তাহলে হাজার মন্ত্র, হাজার আয়াত—
কোনোটিই কাজে আসে না।”

বাদশাহের চোখে জল এল—
গর্ব ভেঙে পড়ল নরম ধুলোর মতো।

দরবেশ শেষবার বললেন—
“শুনে রাখো বাদশাহ,
আল্লাহ মানুষকে চেনেন
তার ভাষায় নয়, তার মুখোশে নয়—
তার নিয়ত, তার ঈমান, তার হৃদয়ের আলোয়।

এই আলো যার আছে,
তার দোয়া মঞ্জুর হয়
বজ্রের মতো শক্তিতে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় নদী খননের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উপজেলা প্রশাসন

“শক্তির ওজন”

সময়: ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

শক্তির ওজন
 অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

একদিন এক বাদশাহ গেলেন
এক দরবেশের দরবারে—
দেখলেন, দরবেশ ডুবে আছে অজানা মন্ত্রে,
যে মন্ত্রে আল্লাহর রহমতে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠত অলৌকিকভাবে।

বাদশাহ বললেন বিনয়ের সুরে—
“হে দরবেশ, আমাকে শেখাও সেই মন্ত্রটি।”
দরবেশ মাথা নত করে বললেন—
“এ শিক্ষা সকলের জন্য নয়,
এটা আমানত… আমি দিতে পারব না।”

বাদশাহ রেগে ফিরে গেলেন
শাসনের অহংকারে ভর করে;
কিন্তু অদূরে নিয়তি অপেক্ষা করছিল
এক নতুন সত্যের দরজায়।

কয়েকদিন পর বাদশাহ ডাকলেন সেই দরবেশকে—
দরবার যখন ভরা, সিংহাসন যখন গৌরবে দীপ্ত,
বাদশাহ বললেন,
“তোমার না বলা মন্ত্র আমি অন্যের কাছে শিখেছি।
কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

এখন তুমি বলো—
আমার ভুল কোথায়?
কোন আয়াতে, কোন ব্যাখ্যায় সমস্যা?
না বললে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।”

দরবেশ তখন শান্তভাবে বললেন—
“হে বাদশাহ, সিপাহীদের বলো—
তোমাকে বন্দী করতে।”

সিপাহীরা স্তব্ধ—
বাদশাহও বিস্ময়ে;
দরবেশ আবার বললেন উচ্চস্বরে—
“সিপাহী! বাদশাহকে বন্দী করো!”

কেউ নড়ল না।
এক ইঞ্চিও না।
দরবার নিস্তব্ধ।

বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে চিৎকার করলেন—
“এই দরবেশকে বন্দী করো এখনই!”
তলোয়ার ঝনঝন শব্দে
সব সিপাহী ছুটে গেল দরবেশের দিকে,
চোখে আগুন, হাতে শাসনের শক্তি।

দরবেশ হেসে বললেন—
“দেখলে বাদশাহ?
আমার কথাও ছিল হুকুম,
তোমার কথাও ছিল হুকুম।

কিন্তু পার্থক্য হলো—
আমার কথার পেছনে কোন শক্তি নেই,
তোমার কথার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে।

এই কারণেই
তোমার শিখে আনা মন্ত্র কাজ করেনি।
মন্ত্র নয়—
মানুষের অবস্থানই আসল ক্ষমতা।

যেমন কোরআনও—
আয়াত তো সবার হাতে,
কিন্তু তার আলো সবার হৃদয়ে নামে না।

আল্লাহ বলেন:
“পাক ঘরে তা-ই প্রবেশ করে,
যার অন্তর পবিত্র।”
(সূরা নূর ২৪:২১)

প্রশ্ন কখনোই এটা নয়—
কোরআনে প্রতিকার আছে কি নেই।
প্রশ্ন হলো—
কে কোরআন পড়ছে?
তার নিয়ত কতটা সত্য?
তার তাওয়াক্কুল কতটা দৃঢ়?
তার হৃদয় কতটা পরিষ্কার?
সে কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ?

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, পর্যায়ক্রমে পাবে প্রশিক্ষণ ও নতুন সুবিধা

সুরা আনফাল বলে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে,
যাদের ঈমান দৃঢ়।”
(৮:২)

সুরা শোরা বলে—
“যার কর্ম শুদ্ধ,
তাদের জন্য রহমতের দরজা খোলা।”
(৪২:২৬)

সুরা ত্বালাক বলে—
“যে আল্লাহকে ভয় করে,
আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।”
(৬৫:২)

মন্ত্রের শক্তি নয়,
ধর্মগ্রন্থের বাণী নয়—
হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাই
আল্লাহর রহমতকে ডেকে আনে।

দরবেশ বললেন—
“হে বাদশাহ,
কথার ওজন নয়,
কথা বলার মানুষের ওজন-ই আসল সত্য।

হৃদয় যদি পরিশুদ্ধ হয়,
নিয়ত যদি সৎ হয়,
তাহলে একটি আয়াতই
হাজার মন্ত্রের সমান শক্তি বহন করে।

আর যদি হৃদয় হয় কলুষিত,
নিয়ত হয় স্বার্থপর,
তাহলে হাজার মন্ত্র, হাজার আয়াত—
কোনোটিই কাজে আসে না।”

বাদশাহের চোখে জল এল—
গর্ব ভেঙে পড়ল নরম ধুলোর মতো।

দরবেশ শেষবার বললেন—
“শুনে রাখো বাদশাহ,
আল্লাহ মানুষকে চেনেন
তার ভাষায় নয়, তার মুখোশে নয়—
তার নিয়ত, তার ঈমান, তার হৃদয়ের আলোয়।

এই আলো যার আছে,
তার দোয়া মঞ্জুর হয়
বজ্রের মতো শক্তিতে।”