Dhaka ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ অন্তত ১,৫০০ নরসিংদীর শিবপুরে বিধবা নারীকে সংঘবদ্ধ গণধ’র্ষণের অ’ভিযোগ ৪ জন আ’টক” ডুমুরিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ও যৌথ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: ইউএও সবিতা সরকার বকশীগঞ্জে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হরিণাকুন্ডুতে আইন-শৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস, নাশকতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.)’র জসনে জুলুস পরিচ্ছন্ন কালিগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ বাজারে ডাস্টবিন বিতরণে উদ্বোধন করলেন নির্বাহী কর্মকর্তা দেশে সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি আদমদীঘির নসরতপুর খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ-মজুত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বকশিগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক ৩
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“শক্তির ওজন”

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩১ Time View

 

 

শক্তির ওজন
 অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

একদিন এক বাদশাহ গেলেন
এক দরবেশের দরবারে—
দেখলেন, দরবেশ ডুবে আছে অজানা মন্ত্রে,
যে মন্ত্রে আল্লাহর রহমতে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠত অলৌকিকভাবে।

বাদশাহ বললেন বিনয়ের সুরে—
“হে দরবেশ, আমাকে শেখাও সেই মন্ত্রটি।”
দরবেশ মাথা নত করে বললেন—
“এ শিক্ষা সকলের জন্য নয়,
এটা আমানত… আমি দিতে পারব না।”

বাদশাহ রেগে ফিরে গেলেন
শাসনের অহংকারে ভর করে;
কিন্তু অদূরে নিয়তি অপেক্ষা করছিল
এক নতুন সত্যের দরজায়।

কয়েকদিন পর বাদশাহ ডাকলেন সেই দরবেশকে—
দরবার যখন ভরা, সিংহাসন যখন গৌরবে দীপ্ত,
বাদশাহ বললেন,
“তোমার না বলা মন্ত্র আমি অন্যের কাছে শিখেছি।
কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

এখন তুমি বলো—
আমার ভুল কোথায়?
কোন আয়াতে, কোন ব্যাখ্যায় সমস্যা?
না বললে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।”

দরবেশ তখন শান্তভাবে বললেন—
“হে বাদশাহ, সিপাহীদের বলো—
তোমাকে বন্দী করতে।”

সিপাহীরা স্তব্ধ—
বাদশাহও বিস্ময়ে;
দরবেশ আবার বললেন উচ্চস্বরে—
“সিপাহী! বাদশাহকে বন্দী করো!”

কেউ নড়ল না।
এক ইঞ্চিও না।
দরবার নিস্তব্ধ।

বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে চিৎকার করলেন—
“এই দরবেশকে বন্দী করো এখনই!”
তলোয়ার ঝনঝন শব্দে
সব সিপাহী ছুটে গেল দরবেশের দিকে,
চোখে আগুন, হাতে শাসনের শক্তি।

দরবেশ হেসে বললেন—
“দেখলে বাদশাহ?
আমার কথাও ছিল হুকুম,
তোমার কথাও ছিল হুকুম।

কিন্তু পার্থক্য হলো—
আমার কথার পেছনে কোন শক্তি নেই,
তোমার কথার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে।

এই কারণেই
তোমার শিখে আনা মন্ত্র কাজ করেনি।
মন্ত্র নয়—
মানুষের অবস্থানই আসল ক্ষমতা।

যেমন কোরআনও—
আয়াত তো সবার হাতে,
কিন্তু তার আলো সবার হৃদয়ে নামে না।

আল্লাহ বলেন:
“পাক ঘরে তা-ই প্রবেশ করে,
যার অন্তর পবিত্র।”
(সূরা নূর ২৪:২১)

প্রশ্ন কখনোই এটা নয়—
কোরআনে প্রতিকার আছে কি নেই।
প্রশ্ন হলো—
কে কোরআন পড়ছে?
তার নিয়ত কতটা সত্য?
তার তাওয়াক্কুল কতটা দৃঢ়?
তার হৃদয় কতটা পরিষ্কার?
সে কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ?

আরও পড়ুনঃ  ক্যানসার শনাক্ত, নতুন লড়াইয়ে সামিয়া আফরিন

সুরা আনফাল বলে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে,
যাদের ঈমান দৃঢ়।”
(৮:২)

সুরা শোরা বলে—
“যার কর্ম শুদ্ধ,
তাদের জন্য রহমতের দরজা খোলা।”
(৪২:২৬)

সুরা ত্বালাক বলে—
“যে আল্লাহকে ভয় করে,
আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।”
(৬৫:২)

মন্ত্রের শক্তি নয়,
ধর্মগ্রন্থের বাণী নয়—
হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাই
আল্লাহর রহমতকে ডেকে আনে।

দরবেশ বললেন—
“হে বাদশাহ,
কথার ওজন নয়,
কথা বলার মানুষের ওজন-ই আসল সত্য।

হৃদয় যদি পরিশুদ্ধ হয়,
নিয়ত যদি সৎ হয়,
তাহলে একটি আয়াতই
হাজার মন্ত্রের সমান শক্তি বহন করে।

আর যদি হৃদয় হয় কলুষিত,
নিয়ত হয় স্বার্থপর,
তাহলে হাজার মন্ত্র, হাজার আয়াত—
কোনোটিই কাজে আসে না।”

বাদশাহের চোখে জল এল—
গর্ব ভেঙে পড়ল নরম ধুলোর মতো।

দরবেশ শেষবার বললেন—
“শুনে রাখো বাদশাহ,
আল্লাহ মানুষকে চেনেন
তার ভাষায় নয়, তার মুখোশে নয়—
তার নিয়ত, তার ঈমান, তার হৃদয়ের আলোয়।

এই আলো যার আছে,
তার দোয়া মঞ্জুর হয়
বজ্রের মতো শক্তিতে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ অন্তত ১,৫০০

“শক্তির ওজন”

সময়: ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

শক্তির ওজন
 অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

একদিন এক বাদশাহ গেলেন
এক দরবেশের দরবারে—
দেখলেন, দরবেশ ডুবে আছে অজানা মন্ত্রে,
যে মন্ত্রে আল্লাহর রহমতে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠত অলৌকিকভাবে।

বাদশাহ বললেন বিনয়ের সুরে—
“হে দরবেশ, আমাকে শেখাও সেই মন্ত্রটি।”
দরবেশ মাথা নত করে বললেন—
“এ শিক্ষা সকলের জন্য নয়,
এটা আমানত… আমি দিতে পারব না।”

বাদশাহ রেগে ফিরে গেলেন
শাসনের অহংকারে ভর করে;
কিন্তু অদূরে নিয়তি অপেক্ষা করছিল
এক নতুন সত্যের দরজায়।

কয়েকদিন পর বাদশাহ ডাকলেন সেই দরবেশকে—
দরবার যখন ভরা, সিংহাসন যখন গৌরবে দীপ্ত,
বাদশাহ বললেন,
“তোমার না বলা মন্ত্র আমি অন্যের কাছে শিখেছি।
কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

এখন তুমি বলো—
আমার ভুল কোথায়?
কোন আয়াতে, কোন ব্যাখ্যায় সমস্যা?
না বললে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।”

দরবেশ তখন শান্তভাবে বললেন—
“হে বাদশাহ, সিপাহীদের বলো—
তোমাকে বন্দী করতে।”

সিপাহীরা স্তব্ধ—
বাদশাহও বিস্ময়ে;
দরবেশ আবার বললেন উচ্চস্বরে—
“সিপাহী! বাদশাহকে বন্দী করো!”

কেউ নড়ল না।
এক ইঞ্চিও না।
দরবার নিস্তব্ধ।

বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে চিৎকার করলেন—
“এই দরবেশকে বন্দী করো এখনই!”
তলোয়ার ঝনঝন শব্দে
সব সিপাহী ছুটে গেল দরবেশের দিকে,
চোখে আগুন, হাতে শাসনের শক্তি।

দরবেশ হেসে বললেন—
“দেখলে বাদশাহ?
আমার কথাও ছিল হুকুম,
তোমার কথাও ছিল হুকুম।

কিন্তু পার্থক্য হলো—
আমার কথার পেছনে কোন শক্তি নেই,
তোমার কথার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে।

এই কারণেই
তোমার শিখে আনা মন্ত্র কাজ করেনি।
মন্ত্র নয়—
মানুষের অবস্থানই আসল ক্ষমতা।

যেমন কোরআনও—
আয়াত তো সবার হাতে,
কিন্তু তার আলো সবার হৃদয়ে নামে না।

আল্লাহ বলেন:
“পাক ঘরে তা-ই প্রবেশ করে,
যার অন্তর পবিত্র।”
(সূরা নূর ২৪:২১)

প্রশ্ন কখনোই এটা নয়—
কোরআনে প্রতিকার আছে কি নেই।
প্রশ্ন হলো—
কে কোরআন পড়ছে?
তার নিয়ত কতটা সত্য?
তার তাওয়াক্কুল কতটা দৃঢ়?
তার হৃদয় কতটা পরিষ্কার?
সে কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ?

আরও পড়ুনঃ  সংসদে উঠল তিন বিল, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটিতে

সুরা আনফাল বলে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে,
যাদের ঈমান দৃঢ়।”
(৮:২)

সুরা শোরা বলে—
“যার কর্ম শুদ্ধ,
তাদের জন্য রহমতের দরজা খোলা।”
(৪২:২৬)

সুরা ত্বালাক বলে—
“যে আল্লাহকে ভয় করে,
আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।”
(৬৫:২)

মন্ত্রের শক্তি নয়,
ধর্মগ্রন্থের বাণী নয়—
হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাই
আল্লাহর রহমতকে ডেকে আনে।

দরবেশ বললেন—
“হে বাদশাহ,
কথার ওজন নয়,
কথা বলার মানুষের ওজন-ই আসল সত্য।

হৃদয় যদি পরিশুদ্ধ হয়,
নিয়ত যদি সৎ হয়,
তাহলে একটি আয়াতই
হাজার মন্ত্রের সমান শক্তি বহন করে।

আর যদি হৃদয় হয় কলুষিত,
নিয়ত হয় স্বার্থপর,
তাহলে হাজার মন্ত্র, হাজার আয়াত—
কোনোটিই কাজে আসে না।”

বাদশাহের চোখে জল এল—
গর্ব ভেঙে পড়ল নরম ধুলোর মতো।

দরবেশ শেষবার বললেন—
“শুনে রাখো বাদশাহ,
আল্লাহ মানুষকে চেনেন
তার ভাষায় নয়, তার মুখোশে নয়—
তার নিয়ত, তার ঈমান, তার হৃদয়ের আলোয়।

এই আলো যার আছে,
তার দোয়া মঞ্জুর হয়
বজ্রের মতো শক্তিতে।”