Dhaka ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শ্রেণিকক্ষে ছুরিকাঘাতে নবীনগরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গুরুতর আহত, আটক ৪ কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পুশইন চেষ্টা: নারী-শিশুসহ ৯ জন শূন্যরেখায়, সমাধানহীন অবস্থান বকশীগঞ্জে দুই ফার্মেসিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূরুঙ্গামারীতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা সান্তাহারে শিশু রাখার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন তিন মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি মমতাজ বেগম লালমনিরহাট সদরে স্বপ্নসারথি কিশোরীদের ১ম পর্ব সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ভিশনের বার্ষিক কমিউনিটি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎সাভারে শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের মানববন্ধন বালিয়াডাঙ্গীতে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে বাবাকে হত্যা, দুই বছর পর গ্রেপ্তার ঘাতক ছেলে ও তার সহযোগী

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৩ Time View

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ করতে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে দুই বছর পর ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই ঘটনায় তার সহযোগী হিসেবে এক স্বজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৪ জুন(রবিবার) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেলাল হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় বাবুর্চি ছিলেন।

তিনি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য নিজের মালিকানাধীন জমি বিক্রি করছিলেন। একপর্যায়ে অবশিষ্ট ভিটেমাটিও বিক্রির উদ্যোগ নিলে ক্ষুব্ধ হন প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন।
তদন্তে জানা যায়, জমির দালাল পরিচয়ে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হন বেলাল। পরে এক নারী বন্ধুর মাধ্যমে বাবাকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করেন নিজেরই ছেলে বেলাল।

ওই নারী নিহত মুজিবুর রহমানের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কৌশলে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে তুলে মুজিবুর রহমানকে চট্টগ্রাম নগরীতে দেখা করার জন্য ডেকে আনেন।
২০২৪ সালের ৭ জুন নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় গেলে ঘাতক ছেলে বেলালের সুপরিকল্পনায় ঐ নারী শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মুজিবুর রহমানকে অচেতন করা হয়। পরে রাতের যেকোন সময় তাকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এবং পরে একটি মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম নগরের আউটার রিং রোড এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বেলাল ও তার সহযোগী আবদুল জলিল গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে রাস্তার পাশের জঙ্গলে লাশ ফেলে দেয়।

পরদিন হালিশহর রিং রোড এলাকার জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সালমা বেগম ২০২৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খননে বিক্ষোভে উত্তাল মনিরামপুর, তদন্তে সহকারী কমিশনার ভূমি

আদালতের নির্দেশে মামলাটি প্রথমে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত শনিবার নগরের মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে এবং মিরসরাই থেকে তার ভায়রা আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বেলাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সম্পত্তি রক্ষার উদ্দেশ্যেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন বেলাল। ঘটনায় জড়িত ওই নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ।
নিহতের মেয়ে সালমা বেগম বলেন, “জন্মদাতা বাবাকে যে সন্তান হত্যা করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তান এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শ্রেণিকক্ষে ছুরিকাঘাতে নবীনগরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গুরুতর আহত, আটক ৪

সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে বাবাকে হত্যা, দুই বছর পর গ্রেপ্তার ঘাতক ছেলে ও তার সহযোগী

সময়: ০৮:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ করতে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে দুই বছর পর ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই ঘটনায় তার সহযোগী হিসেবে এক স্বজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৪ জুন(রবিবার) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেলাল হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় বাবুর্চি ছিলেন।

তিনি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য নিজের মালিকানাধীন জমি বিক্রি করছিলেন। একপর্যায়ে অবশিষ্ট ভিটেমাটিও বিক্রির উদ্যোগ নিলে ক্ষুব্ধ হন প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন।
তদন্তে জানা যায়, জমির দালাল পরিচয়ে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হন বেলাল। পরে এক নারী বন্ধুর মাধ্যমে বাবাকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করেন নিজেরই ছেলে বেলাল।

ওই নারী নিহত মুজিবুর রহমানের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কৌশলে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে তুলে মুজিবুর রহমানকে চট্টগ্রাম নগরীতে দেখা করার জন্য ডেকে আনেন।
২০২৪ সালের ৭ জুন নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় গেলে ঘাতক ছেলে বেলালের সুপরিকল্পনায় ঐ নারী শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মুজিবুর রহমানকে অচেতন করা হয়। পরে রাতের যেকোন সময় তাকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এবং পরে একটি মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম নগরের আউটার রিং রোড এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বেলাল ও তার সহযোগী আবদুল জলিল গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে রাস্তার পাশের জঙ্গলে লাশ ফেলে দেয়।

পরদিন হালিশহর রিং রোড এলাকার জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সালমা বেগম ২০২৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  দুই বোনের গোসলের গোপন ভিডিও ধারণ, মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি; যুবক কারাগারে

আদালতের নির্দেশে মামলাটি প্রথমে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত শনিবার নগরের মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে এবং মিরসরাই থেকে তার ভায়রা আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বেলাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সম্পত্তি রক্ষার উদ্দেশ্যেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন বেলাল। ঘটনায় জড়িত ওই নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ।
নিহতের মেয়ে সালমা বেগম বলেন, “জন্মদাতা বাবাকে যে সন্তান হত্যা করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তান এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”