আদমদীঘিতে বাইকের ধাক্কায় পথচারী আহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি গাড়ি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পাশের জেলা নওগাঁর টু-স্টার হোটেল মল্লিকা ইনে চা-পার্টিতে যাওয়ার সময় পথচারী আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন এসিল্যান্ডের চা-পার্টির বহরে থাকা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রোস্তম আলী নামের এক পথচারী গুরুতর আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চালক মারুফ, বহরে থাকা কয়েকজন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম গণপিটুনির শিকার হন বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব ঢাকা রোড নামক এলাকায়। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার নওগাঁর মল্লিকা ইনে চা-পার্টিতে যাওয়ার সময় পূর্ব ঢাকা রোডের পশ্চিম সিংড়া এলাকায় মারুফের দ্রুতগতির মোটরসাইকেল পথচারী রোস্তম আলীকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা মোটরসাইকেল চালক মারুফকে গণপিটুনি থেকে রক্ষা করতে একটি ঘরে আটকে রাখেন। পরে আহত রোস্তমকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনাটি মোবাইল ফোনে জানার পর স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার সমাধান প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে কয়েকজন নেতাকর্মীর উচ্ছৃঙ্খল কথাবার্তায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ওই নেতাকর্মীদের দলবল এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তা ছুটির দিনে সরকারি গাড়ি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত না করে ব্যক্তিগত কাজে চা-পার্টিতে যাওয়ায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই দিনের ঘটনা জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুক্রবার ছুটির দিনে বন্ধুদের নিয়ে নওগাঁর মল্লিকা ইনে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে যাওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা দেখে আমি থামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি মাত্র।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ ধরনের হট্টগোল বা মারামারির ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে কেন গিয়েছিলেন, তা তাঁর জানা নেই।
এসিল্যান্ড ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন কি না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘যেতে পারে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তেলের চালানের আবেদন করে যেতে পারে। তবে তিনি কোনো চালান বা লিখিতভাবে আমাকে জানাননি।’
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Reporter Name 




















