
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে গত ১৭ মাসে দায়ের করা ১৫৯টি অভিযোগের অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পৃথক তদন্তে অভিযোগগুলোর সিংহভাগের সত্যতা না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলামের করা এসব অভিযোগের বেশিরভাগই তদন্ত শেষে খারিজ বা অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিককে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।
খায়রুল আলম রফিক দাবি করেন, গত ১১ বছরে তিনি দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয়ে প্রায় ৯০০টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এসব প্রতিবেদনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৪৪টি মামলা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে এবং একটি মামলায় তিনি তিন বছরের সাজা পান। এসব মামলার কারণে তাঁকে ২১ বার গ্রেপ্তার হতে হয় এবং প্রায় এক বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনবার নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন,
“আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকতা করেছি। নানা ধরনের হয়রানি, মামলা ও নির্যাতনের মুখেও সত্য প্রকাশের পথ থেকে সরে আসিনি। প্রতিটি আইনি লড়াই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই করেছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করায় পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ধন্যবাদ জানাই।”
এদিকে অভিযোগকারী মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি মানহানির মামলায় ২০২৬ সালের ৫ মার্চ পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সুশীল সমাজের অনেকের মতে, কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিককে হয়রানির উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন মামলা বা অভিযোগ দায়েরের প্রবণতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
বর্তমানে মোঃ খায়রুল আলম রফিক দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডি২৪লাইভ-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগ, মামলা ও তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারাধীন বা বিতর্কিত বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
Reporter Name 

























