Dhaka ১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের চতুর্থ দফা সম্পন্ন গোদাগাড়ীতে ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, শ্রী সুমন সরদার আটক চার বন্ধুর উদ্যোগে বদলে যেতে পারে যশোরের সবুজ বৈচিত্র্য, ‘BD Tree Man’ গড়ে তুলছে সবুজের স্বপ্ন কালিয়াকৈরে কৃষি বিভাগের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ প্রবীণ সাংবাদিক মাওলানা মোজাহেরুল কাদের ফারুকীর মমতাময়ী মা মোহছেনা খাতুনের ইন্তেকাল হিজরী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডিমলায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সাংবাদিক সুধী সমাবেশ সফল করতে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে হিট প্রজেক্টের কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নির্বাচনী অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও দলীয় ভাবনার বিশ্লেষণ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৩০ Time View

ফারজানা ইসলাম

ভূমিকা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত গত কয়েক দশক ধরে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বিমেরু কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, যেখানে অসংখ্য তরুণ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটবে? এই প্রেক্ষাপটে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে কেন্দ্র করে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ড. ইউনুস দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। এই প্রবন্ধে আলোচিত হবে:

      •  তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে কী অবস্থান নিয়েছেন

      •  প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ প্রসঙ্গে কী ভাবছে

        নতুন উদীয়মান দল ও নাগরিক আন্দোলনের কৌশল

      •  এবং এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে সম্ভাব্য প্রভাব


গবেষণার প্রশ্নসমূহ

    •   ড. ইউনুস নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এখন পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দিয়েছেন?

    •   আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো তাঁর সম্ভাব্য            অংশগ্রহণকে কিভাবে দেখছে?

    •  জুলাই-পরবর্তী নতুন দল ও নাগরিক আন্দোলনগুলো তাঁর প্রতি কেমন

         অবস্থান নিয়েছে?

   •  তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন আনতে পারে?


প্রেক্ষাপট: ড. ইউনুসের রাজনৈতিক অবস্থান

ড. মুহাম্মদ ইউনুস দীর্ঘদিন “অরাজনৈতিক” অবস্থানেই ছিলেন। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর কাজ সমাজসেবা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে সীমাবদ্ধ। ২০০৭ সালে তিনি একবার রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন—নাগরিক শক্তি—যা স্থায়ী রূপ পায়নি।

২০২৪-এর পর তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নতুনভাবে আলোচিত হতে থাকে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তাঁকে “সংকটকালীন নেতৃত্বের” প্রতীক হিসেবে দেখতে চান। যদিও তিনি গণতান্ত্রিক নির্বাচন চাইলেও সরাসরি প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

আরও পড়ুনঃ  ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রধান রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গি

আওয়ামী লীগ:
ড. ইউনুস আওয়ামী লীগের কাছে বিতর্কিত। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধ অস্বীকারযোগ্য নয়। একদিকে, মাইক্রোক্রেডিট ও গ্রামীণ ব্যাংক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে; অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ তাঁকে “ঋণখোর” বা “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী” হিসেবে সমালোচনা করেছে।

ড. ইউনুস যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন, তা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি তরুণ ও নাগরিক সমাজের অংশকে একত্রিত করতে পারেন। ফলে তারা কৌশলগতভাবে তাঁকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে।

বিএনপি:
বিএনপির অবস্থান জটিল। একদিকে, আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তাঁকে তাদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতায় আনতে চায়। অন্যদিকে, তিনি যদি স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক শক্তি গঠন করেন, তবে বিএনপির ভোটের একটি অংশ তাঁর দিকে চলে যেতে পারে।

বিএনপি প্রকাশ্যে তাঁকে স্বাগত জানালেও আভ্যন্তরীণভাবে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখছে। অনেক নেতা মনে করেন, রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সমর্থন আনতে পারে যা বিএনপির জন্য সুযোগ ও ঝুঁকি উভয়।

জামায়াত ও ধর্মভিত্তিক দল:
জামায়াত-ই-ইসলামী ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের জন্য ড. ইউনুস গ্রহণযোগ্য নন। তাঁর সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি তাদের রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ক্ষমতার ভারসাম্যের রাজনীতিতে তারা কৌশলগত জোট গঠন করতে পারে।


নতুন দলের উত্থান ও নাগরিক আন্দোলন

জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের পর অসংখ্য তরুণ ও মধ্যবিত্ত নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে। এর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে। তারা ড. ইউনুসকে “অরাজনৈতিক অথচ গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব” হিসেবে দেখছে।

বিশেষত শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসীরা তাঁর প্রতি আশাবাদী। নতুন দলগুলো মনে করে, ড. ইউনুসের নেতৃত্বে একটি “ক্লিন পলিটিক্স” ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব। তবে মাঠ পর্যায়ে সংগঠন তৈরি, গ্রামাঞ্চলে সমর্থন অর্জন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা মোকাবিলা সহজ নয়।


ড. ইউনুসের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

সম্ভাবনা:

আরও পড়ুনঃ  প্রত্যাশার বাংলাদেশ গঠনের পথে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন

      •  আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক সমর্থন

      •  তরুণ ও শহুরে ভোটারদের সমর্থন

      • মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা

চ্যালেঞ্জ:

      •  গ্রামীণ ভোট ব্যাংকে ঐতিহ্যবাহী দলের আধিপত্য

      •   সংগঠন ও অর্থায়নের অভাব

      •   আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিরোধ

      •  প্রশাসনিক ও আইনি প্রতিবন্ধ


ভবিষ্যৎ প্রভাব

ড. ইউনুস নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো হলো:

   •  দ্বিমেরু রাজনীতির ভাঙন: আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি দ্বন্দ্বে তৃতীয়

      শক্তির   উত্থান

   •  তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা: শিক্ষিত তরুণেরা রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা আনবে

   •  আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বৃদ্ধি

   •  তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি

     নতুনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব


উপসংহার

ড. মুহাম্মদ ইউনুস এখনও সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যেই তাঁর সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৌশল নির্ধারণ করছে।

আওয়ামী লীগ তাঁকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে, বিএনপি দ্বিধায় আছে, জামায়াত দূরে রেখেও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখছে, এবং নতুন দলগুলো তাঁকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে দেখছে।

যদি তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নাড়া দিতে পারে। তবে সংগঠন, অর্থায়ন এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তাঁর ভূমিকা নির্ভর করবে তিনি কেবল প্রতীকী নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ থাকবেন, নাকি কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে পারবেন।


লেখক ও গবেষক: ফারজানা ইসলাম

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের চতুর্থ দফা সম্পন্ন

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নির্বাচনী অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও দলীয় ভাবনার বিশ্লেষণ

সময়: ০৭:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ফারজানা ইসলাম

ভূমিকা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত গত কয়েক দশক ধরে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বিমেরু কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, যেখানে অসংখ্য তরুণ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটবে? এই প্রেক্ষাপটে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে কেন্দ্র করে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ড. ইউনুস দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। এই প্রবন্ধে আলোচিত হবে:

      •  তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে কী অবস্থান নিয়েছেন

      •  প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ প্রসঙ্গে কী ভাবছে

        নতুন উদীয়মান দল ও নাগরিক আন্দোলনের কৌশল

      •  এবং এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে সম্ভাব্য প্রভাব


গবেষণার প্রশ্নসমূহ

    •   ড. ইউনুস নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এখন পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দিয়েছেন?

    •   আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো তাঁর সম্ভাব্য            অংশগ্রহণকে কিভাবে দেখছে?

    •  জুলাই-পরবর্তী নতুন দল ও নাগরিক আন্দোলনগুলো তাঁর প্রতি কেমন

         অবস্থান নিয়েছে?

   •  তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন আনতে পারে?


প্রেক্ষাপট: ড. ইউনুসের রাজনৈতিক অবস্থান

ড. মুহাম্মদ ইউনুস দীর্ঘদিন “অরাজনৈতিক” অবস্থানেই ছিলেন। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর কাজ সমাজসেবা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে সীমাবদ্ধ। ২০০৭ সালে তিনি একবার রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন—নাগরিক শক্তি—যা স্থায়ী রূপ পায়নি।

২০২৪-এর পর তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নতুনভাবে আলোচিত হতে থাকে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তাঁকে “সংকটকালীন নেতৃত্বের” প্রতীক হিসেবে দেখতে চান। যদিও তিনি গণতান্ত্রিক নির্বাচন চাইলেও সরাসরি প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

আরও পড়ুনঃ  ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রধান রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গি

আওয়ামী লীগ:
ড. ইউনুস আওয়ামী লীগের কাছে বিতর্কিত। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধ অস্বীকারযোগ্য নয়। একদিকে, মাইক্রোক্রেডিট ও গ্রামীণ ব্যাংক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে; অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ তাঁকে “ঋণখোর” বা “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী” হিসেবে সমালোচনা করেছে।

ড. ইউনুস যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন, তা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি তরুণ ও নাগরিক সমাজের অংশকে একত্রিত করতে পারেন। ফলে তারা কৌশলগতভাবে তাঁকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে।

বিএনপি:
বিএনপির অবস্থান জটিল। একদিকে, আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তাঁকে তাদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতায় আনতে চায়। অন্যদিকে, তিনি যদি স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক শক্তি গঠন করেন, তবে বিএনপির ভোটের একটি অংশ তাঁর দিকে চলে যেতে পারে।

বিএনপি প্রকাশ্যে তাঁকে স্বাগত জানালেও আভ্যন্তরীণভাবে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখছে। অনেক নেতা মনে করেন, রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সমর্থন আনতে পারে যা বিএনপির জন্য সুযোগ ও ঝুঁকি উভয়।

জামায়াত ও ধর্মভিত্তিক দল:
জামায়াত-ই-ইসলামী ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের জন্য ড. ইউনুস গ্রহণযোগ্য নন। তাঁর সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি তাদের রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ক্ষমতার ভারসাম্যের রাজনীতিতে তারা কৌশলগত জোট গঠন করতে পারে।


নতুন দলের উত্থান ও নাগরিক আন্দোলন

জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের পর অসংখ্য তরুণ ও মধ্যবিত্ত নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে। এর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে। তারা ড. ইউনুসকে “অরাজনৈতিক অথচ গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব” হিসেবে দেখছে।

বিশেষত শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসীরা তাঁর প্রতি আশাবাদী। নতুন দলগুলো মনে করে, ড. ইউনুসের নেতৃত্বে একটি “ক্লিন পলিটিক্স” ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব। তবে মাঠ পর্যায়ে সংগঠন তৈরি, গ্রামাঞ্চলে সমর্থন অর্জন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা মোকাবিলা সহজ নয়।


ড. ইউনুসের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

সম্ভাবনা:

আরও পড়ুনঃ  রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো

      •  আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক সমর্থন

      •  তরুণ ও শহুরে ভোটারদের সমর্থন

      • মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা

চ্যালেঞ্জ:

      •  গ্রামীণ ভোট ব্যাংকে ঐতিহ্যবাহী দলের আধিপত্য

      •   সংগঠন ও অর্থায়নের অভাব

      •   আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিরোধ

      •  প্রশাসনিক ও আইনি প্রতিবন্ধ


ভবিষ্যৎ প্রভাব

ড. ইউনুস নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো হলো:

   •  দ্বিমেরু রাজনীতির ভাঙন: আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি দ্বন্দ্বে তৃতীয়

      শক্তির   উত্থান

   •  তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা: শিক্ষিত তরুণেরা রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা আনবে

   •  আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বৃদ্ধি

   •  তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি

     নতুনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব


উপসংহার

ড. মুহাম্মদ ইউনুস এখনও সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যেই তাঁর সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৌশল নির্ধারণ করছে।

আওয়ামী লীগ তাঁকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে, বিএনপি দ্বিধায় আছে, জামায়াত দূরে রেখেও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখছে, এবং নতুন দলগুলো তাঁকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে দেখছে।

যদি তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নাড়া দিতে পারে। তবে সংগঠন, অর্থায়ন এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তাঁর ভূমিকা নির্ভর করবে তিনি কেবল প্রতীকী নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ থাকবেন, নাকি কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে পারবেন।


লেখক ও গবেষক: ফারজানা ইসলাম