Dhaka ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের চতুর্থ দফা সম্পন্ন গোদাগাড়ীতে ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, শ্রী সুমন সরদার আটক চার বন্ধুর উদ্যোগে বদলে যেতে পারে যশোরের সবুজ বৈচিত্র্য, ‘BD Tree Man’ গড়ে তুলছে সবুজের স্বপ্ন কালিয়াকৈরে কৃষি বিভাগের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ প্রবীণ সাংবাদিক মাওলানা মোজাহেরুল কাদের ফারুকীর মমতাময়ী মা মোহছেনা খাতুনের ইন্তেকাল হিজরী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডিমলায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সাংবাদিক সুধী সমাবেশ সফল করতে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে হিট প্রজেক্টের কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মহাকালের সমাপনী (বেগম খালেদা জিয়া)

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৯ Time View

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,


২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় জীবনে এমন এক শূন্যতার সূচনা হয়েছে, যা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়—এটি ছিলো এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর ইন্তেকাল ঘটে সকাল ৬টা নাগাদ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ, দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে।

তার মৃত্যু শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা নয়, বরং একটি প্রজন্মের সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন—যেখানে বাংলাদেশের রাজনীতির দুই মহাপ্রভাবশালী নারীর দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতা হয়ে উঠেছিলো নিজস্ব ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।
১. জীবন ও রাজনৈতিক উত্থান: বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার জীবন বাংলাদেশে গিয়ে মুড়িয়ে নেয় এক সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও সংগ্রামী পথে। তিনি প্রথম মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সফল নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে আবদ্ধ হন, যখন ১৯৯১ সালে তিনি গৃহীত বাংলাদেশের পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের পর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর আসনে বহাল হন।

যদিও তার রাজনৈতিক কেরিয়ার ছিলো বিতর্কিত—পুরস্কৃত যেখানে উন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারসহ নারীর ক্ষমতায়নের মতো পদক্ষেপে, তেমনি সমালোচিত ছিলো রাজনৈতিক সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধিতায়—তবুও তাকে বাংলাদেশি রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঝকঝকে চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বৈচিত্র্য: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিলো তার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা—বিশেষ করে শেখ হাসিনা-র সঙ্গে, যিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন। এই দ্বৈরথ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই মহাকাব্যিক শত্রু ও সহযোদ্ধার গল্পে পরিণত হয়েছিলো—একদিকে খালেদা জিয়া, অন্যদিকে হাসিনা—যাদের বর্জিত ঐতিহ্য ও সংঘর্ষ হাজার হাজার মানুষের জীবনে গভীর প্রতিফলিত হয়েছে।

কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়, যেখানে তিনি চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসেন এবং দেশের রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী মানচিত্রে মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ  ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

৩. অসুস্থতা ও শেষ সময়: কয়েক মাস ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে এসে খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫-এ মৃত্যুবরণ করেন। তার শরীরে জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে ছিলো লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, আর্থ্রাইটিস এবং কিডনি জটিলতা, যা চিকিৎসকদের বিশ্লেষণে তার শারীরিক অবস্থাকে দীর্ঘদিন বেশ দুর্বল করে তুলেছিলো।

এ দিন সকালে জামাত-টা-ফাজ্জর নামাজের পর তার মৃত্যু হয় এবং তার ছেলে তারিক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।

৪. রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ও সমাবেত শোক: খালেদা জিয়ার জানাজা ও শেষকৃত্য জাতীয় সাংকেতিক গুরুত্ব পায়। তাকে রাজকীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সম্মানে ঢাকা তে দাফন করা হয়। শত হাজারো সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব, স্বরাষ্ট্র, সামরিক ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নেতারা ও প্রতিনিধি-দলও আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যেমন ভারতের ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্কর, যারা তার পরিবারকে সমবেদনা জানান।

দেশজুড়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয় এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় তার শ্রদ্ধায়, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অতুলনীয় ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫. রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: খালেদা জিয়ার মৃত্যুর অক্ষরে বাংলাদেশের সামনের রাজনীতিতে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে এখন তারিক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যিনি ইতোমধ্যেই দেশের সামনে BNP-কে নেতৃত্ব দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যত ও ক্ষমতার ভারসাম্য এখন নতুন প্রেক্ষাপটে বসেছে, যেখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আগামী নির্বাচনের ফলাফল ও সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।

৬. মহা কালের সমাপনী: বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধুমাত্র একজন নেত্রীকে হারানো নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত—যেখানে একজন শক্তিশালী নারী নেতা তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ভ্রমণের পর চির বিশ্রামে প্রস্থান করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলো-ছায়া, সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমালোচকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, জটিল ও গভীর রাজনৈতিক ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দীর্ঘদিন স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে অবস্থিত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  হারানো বিজ্ঞপ্তি

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি; তাঁর অবদান ও ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের মাঝে স্মৃতিসৃত্তি হয়ে থাকবে।

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, গবেষক ও কলামিষ্ট।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের চতুর্থ দফা সম্পন্ন

মহাকালের সমাপনী (বেগম খালেদা জিয়া)

সময়: ১২:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,


২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় জীবনে এমন এক শূন্যতার সূচনা হয়েছে, যা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়—এটি ছিলো এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর ইন্তেকাল ঘটে সকাল ৬টা নাগাদ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ, দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে।

তার মৃত্যু শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা নয়, বরং একটি প্রজন্মের সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন—যেখানে বাংলাদেশের রাজনীতির দুই মহাপ্রভাবশালী নারীর দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতা হয়ে উঠেছিলো নিজস্ব ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।
১. জীবন ও রাজনৈতিক উত্থান: বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার জীবন বাংলাদেশে গিয়ে মুড়িয়ে নেয় এক সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও সংগ্রামী পথে। তিনি প্রথম মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সফল নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে আবদ্ধ হন, যখন ১৯৯১ সালে তিনি গৃহীত বাংলাদেশের পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের পর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর আসনে বহাল হন।

যদিও তার রাজনৈতিক কেরিয়ার ছিলো বিতর্কিত—পুরস্কৃত যেখানে উন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারসহ নারীর ক্ষমতায়নের মতো পদক্ষেপে, তেমনি সমালোচিত ছিলো রাজনৈতিক সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধিতায়—তবুও তাকে বাংলাদেশি রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঝকঝকে চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বৈচিত্র্য: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিলো তার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা—বিশেষ করে শেখ হাসিনা-র সঙ্গে, যিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন। এই দ্বৈরথ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই মহাকাব্যিক শত্রু ও সহযোদ্ধার গল্পে পরিণত হয়েছিলো—একদিকে খালেদা জিয়া, অন্যদিকে হাসিনা—যাদের বর্জিত ঐতিহ্য ও সংঘর্ষ হাজার হাজার মানুষের জীবনে গভীর প্রতিফলিত হয়েছে।

কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়, যেখানে তিনি চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসেন এবং দেশের রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী মানচিত্রে মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ  নবীনগরে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

৩. অসুস্থতা ও শেষ সময়: কয়েক মাস ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে এসে খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫-এ মৃত্যুবরণ করেন। তার শরীরে জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে ছিলো লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, আর্থ্রাইটিস এবং কিডনি জটিলতা, যা চিকিৎসকদের বিশ্লেষণে তার শারীরিক অবস্থাকে দীর্ঘদিন বেশ দুর্বল করে তুলেছিলো।

এ দিন সকালে জামাত-টা-ফাজ্জর নামাজের পর তার মৃত্যু হয় এবং তার ছেলে তারিক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।

৪. রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ও সমাবেত শোক: খালেদা জিয়ার জানাজা ও শেষকৃত্য জাতীয় সাংকেতিক গুরুত্ব পায়। তাকে রাজকীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সম্মানে ঢাকা তে দাফন করা হয়। শত হাজারো সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব, স্বরাষ্ট্র, সামরিক ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নেতারা ও প্রতিনিধি-দলও আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যেমন ভারতের ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্কর, যারা তার পরিবারকে সমবেদনা জানান।

দেশজুড়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয় এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় তার শ্রদ্ধায়, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অতুলনীয় ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫. রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: খালেদা জিয়ার মৃত্যুর অক্ষরে বাংলাদেশের সামনের রাজনীতিতে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে এখন তারিক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যিনি ইতোমধ্যেই দেশের সামনে BNP-কে নেতৃত্ব দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যত ও ক্ষমতার ভারসাম্য এখন নতুন প্রেক্ষাপটে বসেছে, যেখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আগামী নির্বাচনের ফলাফল ও সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।

৬. মহা কালের সমাপনী: বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধুমাত্র একজন নেত্রীকে হারানো নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত—যেখানে একজন শক্তিশালী নারী নেতা তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ভ্রমণের পর চির বিশ্রামে প্রস্থান করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলো-ছায়া, সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমালোচকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, জটিল ও গভীর রাজনৈতিক ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দীর্ঘদিন স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে অবস্থিত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  গণ'বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খানের আয়োজনে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি; তাঁর অবদান ও ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের মাঝে স্মৃতিসৃত্তি হয়ে থাকবে।

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, গবেষক ও কলামিষ্ট।