Dhaka ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ঢাকাগামী বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক হেল্পার রাউজানে বিভিন্ন ইউনিয়ন এর পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা যুবদল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

 মিনিমালিস্টিক জীবনযাপন: কৃপণতা নয়, বরং সচেতনতা ও আত্মিক প্রশান্তি 

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৬ Time View
​মিনিমালিজম বা স্বল্পতাবাদ হলো এমন একটি জীবনদর্শন যা আমাদের শেখায় ‘কমই আসলে বেশি’ (Less is More). এটি মূলত অপ্রয়োজনীয় বস্তু, চিন্তা এবং কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত করে জীবনের আসল উদ্দেশ্য ও আনন্দের দিকে মনোনিবেশ করার একটি প্রক্রিয়া।
অনেকে একে কৃপণতা মনে করলেও আসলে এটি একটি উচ্চতর সচেতনতা; যেখানে একজন ব্যক্তি সস্তা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্তূপ না জমিয়ে কেবল সেই জিনিসগুলোই নিজের কাছে রাখেন যা তার জীবনে প্রকৃত মূল্য যোগ করে। সহজ কথায়, আপনার ঘরের আলমারি থেকে শুরু করে মনের কোণ পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা পরিষ্কার করে কেবল প্রয়োজনীয় এবং প্রিয় বিষয়গুলো নিয়ে শান্তিতে থাকাই হলো মিনিমালিজম। এটি দরিদ্রতা নয়, বরং প্রাচুর্যের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে না ফেলার এক আধুনিক কৌশল।
​এই পরিমিতিবোধ এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন:
​”আর যারা ব্যয় করার সময় অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের পন্থা হয় এই দুইয়ের মাঝামাঝি।”
(সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)
​কেন আমাদের মিনিমালিস্ট হওয়া উচিত, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আধুনিক যুগের মানসিক চাপের গভীরে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (UCLA) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা অগোছালো পরিবেশ মানুষের মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারণ।
মিনিমালিজম আমাদের শেখায় ‘ইচ্ছাকৃত জীবন যাপন’ (Intentional Living) করতে—অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে কিছু না কিনে নিজের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সরলতা ও অনাসক্তির শিক্ষা দিয়ে বলেছেন:
​”দুনিয়ায় এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন মুসাফির বা পথচারী।”
(সহীহ বুখারী)
​আধুনিক এই দর্শনের গভীর প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষায়। তিনি শিখিয়েছেন যে, বস্তুগত জিনিসের অতিরিক্ত মোহ মানুষকে তার স্রষ্টা এবং জীবনের আসল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সম্পদের প্রকৃত ব্যবহার এবং মনের অনাসক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন:
​”সেই ব্যক্তিই প্রকৃত সুখী, যে তার হৃদয়কে দুনিয়ার মাল-সম্পদের মহব্বত থেকে পবিত্র করে নেয় এবং নিজের জীবনকে আল্লাহ্‌র পথে উৎসর্গ করে।”
(মালফুযাত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৮)
​তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, যারা কেবল দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে দৌড়ায়, তারা কখনো প্রকৃত শান্তি পায় না:
​”দুনিয়া একটি মৃতদেহের মতো, আর এর অন্বেষণকারীরা কুকুরের মতো। যারা এর পেছনে পড়ে, তারা কখনো পরিতৃপ্ত হয় না।”
​এটি একটি বড় সচেতনতা কারণ এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষা করে, কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং আমাদের পকেটের অর্থের অপচয় রোধ করে। যখন আমরা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধ করি, তখন আমাদের হাতে প্রিয়জনদের দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় এবং সৃজনশীল কাজের জন্য মানসিক শক্তি অবশিষ্ট থাকে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের অপচয়কারী অত্যন্ত ঘৃণিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
​”নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।”
(সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)
​মিনিমালিস্টিক জীবন যাপন মানে নিজেকে বঞ্চিত করা নয়, বরং নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ঝক্কি থেকে মুক্ত করে প্রকৃত স্বাধীনতা উপভোগ করা। এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের সার্থকতা তার সংগ্রহ করা বস্তুর সংখ্যায় নয়, বরং তার অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং মনের শান্তিতে নিহিত। মহাত্মা গান্ধীর সেই বিখ্যাত উক্তিটি এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক:
​”পৃথিবীতে প্রত্যেকের প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ আছে, কিন্তু প্রত্যেকের লোভ মেটানোর মতো সম্পদ নেই।”
​হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর এই বাণীটি আমাদের সেই অভ্যন্তরীণ সচেতনতাকে আরও জাগ্রত করে:
​”তোমরা কি মনে করো যে, এই তুচ্ছ দুনিয়ার আসবাবপত্রই তোমাদের আসল সম্পদ? না, বরং আসল সম্পদ হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি। যার অন্তরে তাকওয়া আছে, সেই প্রকৃত ধনী।”
(মালফুযাত, ৫ম খণ্ড)
​এই আধ্যাত্মিক ধনী বা মনের তুষ্টির কথাই নবী কারীম (সা.) যুগে যুগে মানুষকে শিখিয়েছেন:
​”প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেই প্রকৃত ধনাঢ্যতা আসে না, বরং মনের ধনাঢ্যতাই (তুষ্টি) হলো আসল ধনাঢ্যতা।”
(সহীহ মুসলিম)
​যখন আমরা বস্তুগত আসক্তি ত্যাগ করে সরলতার পথ বেছে নিই, তখনই জীবনের আসল সৌন্দর্য আমাদের সামনে ধরা দেয়। তাই মিনিমালিজম কোনো সাময়িক ফ্যাশন নয়, এটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার এক সচেতন বিপ্লব। আসুন আমরা আমাদের চারপাশ এবং চিন্তাগুলো পরিষ্কার রাখি, যাতে অল্প সম্পদেও এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া যায়।
​হে মহান রাব্বুল আলামিন,
আপনি আমাদের হৃদয়ে দুনিয়ার মোহ নয়, বরং আপনার মহব্বত ও সন্তুষ্টির নূর দান করুন। আমাদের জীবনকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা ও বস্তুগত আসক্তি থেকে মুক্ত করে সহজ ও সুন্দর করার তৌফিক দিন। আমাদের যা দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকার (কানাআত) গুণ দান করুন এবং আমাদের অন্তরকে অমুখাপেক্ষী ও সমৃদ্ধ করে দিন। হে আল্লাহ, আমাদের বিলাসিতার মরীচিকা থেকে বাঁচিয়ে সরল ও শান্তিময় জীবনের অধিকারী করুন।
​আল্লাহুম্মা আমীন,
ছুম্মা আমীন।
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার

 মিনিমালিস্টিক জীবনযাপন: কৃপণতা নয়, বরং সচেতনতা ও আত্মিক প্রশান্তি 

সময়: ০৮:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
​মিনিমালিজম বা স্বল্পতাবাদ হলো এমন একটি জীবনদর্শন যা আমাদের শেখায় ‘কমই আসলে বেশি’ (Less is More). এটি মূলত অপ্রয়োজনীয় বস্তু, চিন্তা এবং কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত করে জীবনের আসল উদ্দেশ্য ও আনন্দের দিকে মনোনিবেশ করার একটি প্রক্রিয়া।
অনেকে একে কৃপণতা মনে করলেও আসলে এটি একটি উচ্চতর সচেতনতা; যেখানে একজন ব্যক্তি সস্তা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্তূপ না জমিয়ে কেবল সেই জিনিসগুলোই নিজের কাছে রাখেন যা তার জীবনে প্রকৃত মূল্য যোগ করে। সহজ কথায়, আপনার ঘরের আলমারি থেকে শুরু করে মনের কোণ পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা পরিষ্কার করে কেবল প্রয়োজনীয় এবং প্রিয় বিষয়গুলো নিয়ে শান্তিতে থাকাই হলো মিনিমালিজম। এটি দরিদ্রতা নয়, বরং প্রাচুর্যের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে না ফেলার এক আধুনিক কৌশল।
​এই পরিমিতিবোধ এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন:
​”আর যারা ব্যয় করার সময় অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের পন্থা হয় এই দুইয়ের মাঝামাঝি।”
(সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)
​কেন আমাদের মিনিমালিস্ট হওয়া উচিত, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আধুনিক যুগের মানসিক চাপের গভীরে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (UCLA) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা অগোছালো পরিবেশ মানুষের মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারণ।
মিনিমালিজম আমাদের শেখায় ‘ইচ্ছাকৃত জীবন যাপন’ (Intentional Living) করতে—অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে কিছু না কিনে নিজের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সরলতা ও অনাসক্তির শিক্ষা দিয়ে বলেছেন:
​”দুনিয়ায় এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন মুসাফির বা পথচারী।”
(সহীহ বুখারী)
​আধুনিক এই দর্শনের গভীর প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষায়। তিনি শিখিয়েছেন যে, বস্তুগত জিনিসের অতিরিক্ত মোহ মানুষকে তার স্রষ্টা এবং জীবনের আসল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সম্পদের প্রকৃত ব্যবহার এবং মনের অনাসক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন:
​”সেই ব্যক্তিই প্রকৃত সুখী, যে তার হৃদয়কে দুনিয়ার মাল-সম্পদের মহব্বত থেকে পবিত্র করে নেয় এবং নিজের জীবনকে আল্লাহ্‌র পথে উৎসর্গ করে।”
(মালফুযাত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৮)
​তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, যারা কেবল দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে দৌড়ায়, তারা কখনো প্রকৃত শান্তি পায় না:
​”দুনিয়া একটি মৃতদেহের মতো, আর এর অন্বেষণকারীরা কুকুরের মতো। যারা এর পেছনে পড়ে, তারা কখনো পরিতৃপ্ত হয় না।”
​এটি একটি বড় সচেতনতা কারণ এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষা করে, কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং আমাদের পকেটের অর্থের অপচয় রোধ করে। যখন আমরা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধ করি, তখন আমাদের হাতে প্রিয়জনদের দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় এবং সৃজনশীল কাজের জন্য মানসিক শক্তি অবশিষ্ট থাকে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের অপচয়কারী অত্যন্ত ঘৃণিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
​”নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।”
(সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)
​মিনিমালিস্টিক জীবন যাপন মানে নিজেকে বঞ্চিত করা নয়, বরং নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ঝক্কি থেকে মুক্ত করে প্রকৃত স্বাধীনতা উপভোগ করা। এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের সার্থকতা তার সংগ্রহ করা বস্তুর সংখ্যায় নয়, বরং তার অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং মনের শান্তিতে নিহিত। মহাত্মা গান্ধীর সেই বিখ্যাত উক্তিটি এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক:
​”পৃথিবীতে প্রত্যেকের প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ আছে, কিন্তু প্রত্যেকের লোভ মেটানোর মতো সম্পদ নেই।”
​হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর এই বাণীটি আমাদের সেই অভ্যন্তরীণ সচেতনতাকে আরও জাগ্রত করে:
​”তোমরা কি মনে করো যে, এই তুচ্ছ দুনিয়ার আসবাবপত্রই তোমাদের আসল সম্পদ? না, বরং আসল সম্পদ হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি। যার অন্তরে তাকওয়া আছে, সেই প্রকৃত ধনী।”
(মালফুযাত, ৫ম খণ্ড)
​এই আধ্যাত্মিক ধনী বা মনের তুষ্টির কথাই নবী কারীম (সা.) যুগে যুগে মানুষকে শিখিয়েছেন:
​”প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেই প্রকৃত ধনাঢ্যতা আসে না, বরং মনের ধনাঢ্যতাই (তুষ্টি) হলো আসল ধনাঢ্যতা।”
(সহীহ মুসলিম)
​যখন আমরা বস্তুগত আসক্তি ত্যাগ করে সরলতার পথ বেছে নিই, তখনই জীবনের আসল সৌন্দর্য আমাদের সামনে ধরা দেয়। তাই মিনিমালিজম কোনো সাময়িক ফ্যাশন নয়, এটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার এক সচেতন বিপ্লব। আসুন আমরা আমাদের চারপাশ এবং চিন্তাগুলো পরিষ্কার রাখি, যাতে অল্প সম্পদেও এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া যায়।
​হে মহান রাব্বুল আলামিন,
আপনি আমাদের হৃদয়ে দুনিয়ার মোহ নয়, বরং আপনার মহব্বত ও সন্তুষ্টির নূর দান করুন। আমাদের জীবনকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা ও বস্তুগত আসক্তি থেকে মুক্ত করে সহজ ও সুন্দর করার তৌফিক দিন। আমাদের যা দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকার (কানাআত) গুণ দান করুন এবং আমাদের অন্তরকে অমুখাপেক্ষী ও সমৃদ্ধ করে দিন। হে আল্লাহ, আমাদের বিলাসিতার মরীচিকা থেকে বাঁচিয়ে সরল ও শান্তিময় জীবনের অধিকারী করুন।
​আল্লাহুম্মা আমীন,
ছুম্মা আমীন।