Dhaka ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৬০ হাজার টাকার জাল নোটসহ সংঘবদ্ধ চক্রের দুই নারী সদস্য আটক ডিমলায় ত্রৈমাসিক রোকন সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত মমিনুল মউজদীন স্মৃতি ফুটবল লীগের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে” লাউড়েরগড়ে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বৈদ্যুতিক কুটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর’ ঝিনাইদহে রাতের আঁধারে মাল্টা বাগান কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কালিয়াকৈরে দুই মণ ধানের দামে এক মণ ওজনের কামলা, পানি-কাদায় ধান কাটলে মজুরি ১৪০০ টাকা নবীগঞ্জের আউশকান্দি থেকে ৪৫ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারী র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক রেলকর্মকর্তা?
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক রেলকর্মকর্তা?

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ১১ Time View

 

মোঃ গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:


বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা (সিপিও) ও সাবেক যুগ্ম মহাপরিচালক (ইএমই) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার নানা অনিয়ম নিয়ে বর্তমানে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুদরত-ই-খুদা রাজশাহীতে কর্মরত থাকাকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি সেখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ওই সিন্ডিকেটে কয়েকজন ঠিকাদার ও সুবিধাভোগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের মাধ্যমে তিনি রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন।

এছাড়া বিরোধী মতাদর্শের রেল শ্রমিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে দায়িত্ব পালনের সুবাদে কুদরত-ই-খুদা শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে রয়েছে—

রাজশাহীতে: বহরমপুর এলাকায় একটি ৫ তলা আলিশান বাড়ি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এছাড়া শিরোইল কলোনিতে একটি ৫ তলা ভবন এবং পদ্মা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকায়: বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে একটি করে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়িক বিনিয়োগ: রাজধানীর একটি নামকরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার অংশীদারিত্ব বা পার্টনারশিপ রয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রেলভবনে মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার এসব কর্মকাণ্ড ও অর্থ লোপাটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  নবীনগরের, জুয়া, মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের ঘোষণা এমপি মান্নানের

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, স্বচ্ছতার স্বার্থে এই কর্মকর্তার সম্পদের উৎস এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক রেলকর্মকর্তা?

সময়: ০৯:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

 

মোঃ গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:


বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা (সিপিও) ও সাবেক যুগ্ম মহাপরিচালক (ইএমই) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার নানা অনিয়ম নিয়ে বর্তমানে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুদরত-ই-খুদা রাজশাহীতে কর্মরত থাকাকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি সেখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ওই সিন্ডিকেটে কয়েকজন ঠিকাদার ও সুবিধাভোগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের মাধ্যমে তিনি রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন।

এছাড়া বিরোধী মতাদর্শের রেল শ্রমিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে দায়িত্ব পালনের সুবাদে কুদরত-ই-খুদা শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে রয়েছে—

রাজশাহীতে: বহরমপুর এলাকায় একটি ৫ তলা আলিশান বাড়ি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এছাড়া শিরোইল কলোনিতে একটি ৫ তলা ভবন এবং পদ্মা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকায়: বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে একটি করে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়িক বিনিয়োগ: রাজধানীর একটি নামকরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার অংশীদারিত্ব বা পার্টনারশিপ রয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রেলভবনে মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার এসব কর্মকাণ্ড ও অর্থ লোপাটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  রামুতে ডা-কা-তি-র প্র-স্তু-তি-কা-লে 'অস্ত্র-গুলি'সহ আ-ট-ক ৭

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, স্বচ্ছতার স্বার্থে এই কর্মকর্তার সম্পদের উৎস এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।