Dhaka ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
খিলগাঁও থানা মাদকদ্রব্য , কিশোর গ্যাং ও অস্ত্র ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য রাঙ্গাবালীতে পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে ডাকাতি, আহত ২, আটক ১ ভিজিএফের ৫ টন চাল আটক করে থানায় নেওয়ার পর নাটকীয় রশিদ তৈরি, পরে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ কুড়িগ্রামে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আটঘরিয়ায় অনলাইন জুয়ার চক্রের ৫ সদস্য আটক ডুমুরিয়ায় চুকনগর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সরঞ্জামসহ ২৫১টি সিমকার্ড জব্দ ফায়ার সার্ভিসে ড্রাইভারের দৌরাত্ম্য! নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় মাদকের সিন্ডিকেটে জিম্মি সমাজ, সত্য লিখলেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা কুড়িগ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালীকরণে ওয়ার্ল্ড ভিশনের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্ম-পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভিজিএফের ৫ টন চাল আটক করে থানায় নেওয়ার পর নাটকীয় রশিদ তৈরি, পরে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৩২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৬ Time View

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি


গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ভিজিএফের আনুমানিক প্রায় ৫ টন সরকারি চাল সাদুল্লাপুর উপজেলায় আটক হওয়ার ঘটনায় রহস্য ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সাদুল্লাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোর মাধ্যমে চালগুলো পরিবহনের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সন্দেহ হলে চাল বহনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, চালগুলো ভিজিএফের সরকারি চাল। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় ৫ টন চালসহ পরিবহনে ব্যবহৃত ৫টি ব্যাটারিচালিত অটো জব্দ করেন এবং সেগুলো সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ঘটনাটি পরে নতুন মোড় নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিকেলে চাল আটক করে থানায় নেওয়া হলেও রাতের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা নাটকীয়তা ও কাগজপত্র প্রস্তুতের পর চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার সময় চাল বহনকারীরা কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ক্রয়ের রশিদ দেখাতে পারেননি। কিন্তু পরে তড়িঘড়ি করে চাল ক্রয়ের রশিদ প্রস্তুত করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি চালগুলো বৈধভাবে ক্রয় করা হয়ে থাকে, তাহলে আটক করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো হয়নি কেন? আবার সরকারি ভিজিএফের চাল কীভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় পরিবহন হচ্ছিল এবং কার নির্দেশে তা করা হচ্ছিল—এসব বিষয় নিয়েও জনমনে নানা আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার চাল পাচার কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, থানায় নেওয়ার পর চালগুলো পরে জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজি এলাকার জহুরুলের অটো রাইস মিলে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ইউসুফ নামের এক চাল ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  ফায়ার সার্ভিসে ড্রাইভারের দৌরাত্ম্য! নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড়

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে এমন ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

খিলগাঁও থানা মাদকদ্রব্য , কিশোর গ্যাং ও অস্ত্র ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য

ভিজিএফের ৫ টন চাল আটক করে থানায় নেওয়ার পর নাটকীয় রশিদ তৈরি, পরে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ

সময়: ০৯:৩২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি


গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ভিজিএফের আনুমানিক প্রায় ৫ টন সরকারি চাল সাদুল্লাপুর উপজেলায় আটক হওয়ার ঘটনায় রহস্য ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সাদুল্লাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোর মাধ্যমে চালগুলো পরিবহনের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সন্দেহ হলে চাল বহনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, চালগুলো ভিজিএফের সরকারি চাল। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় ৫ টন চালসহ পরিবহনে ব্যবহৃত ৫টি ব্যাটারিচালিত অটো জব্দ করেন এবং সেগুলো সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ঘটনাটি পরে নতুন মোড় নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিকেলে চাল আটক করে থানায় নেওয়া হলেও রাতের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা নাটকীয়তা ও কাগজপত্র প্রস্তুতের পর চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার সময় চাল বহনকারীরা কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ক্রয়ের রশিদ দেখাতে পারেননি। কিন্তু পরে তড়িঘড়ি করে চাল ক্রয়ের রশিদ প্রস্তুত করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি চালগুলো বৈধভাবে ক্রয় করা হয়ে থাকে, তাহলে আটক করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো হয়নি কেন? আবার সরকারি ভিজিএফের চাল কীভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় পরিবহন হচ্ছিল এবং কার নির্দেশে তা করা হচ্ছিল—এসব বিষয় নিয়েও জনমনে নানা আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার চাল পাচার কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, থানায় নেওয়ার পর চালগুলো পরে জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজি এলাকার জহুরুলের অটো রাইস মিলে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ইউসুফ নামের এক চাল ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  শ্যামনগরে পাঁচ বছর বয়সে ছোটপর্দায় ম্যারাডোনার অভিষেক

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে এমন ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে।