
জাহাঙ্গীর আলম মানিক,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলা সাপাহার উপজেলার আম্রপালী আম সুমিষ্টঘ্রাণের জন্য সারা দেশের মানুষের কাছে এর চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে।
ভোর থেকেই নাটোর, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে ক্যারেট ভর্তি করে হাটে আম বিক্রি করতে আসেন বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। রাস্তার ওপর হাজার হাজার ভ্যানগাড়িতে করে আম্রপালী আম সাজিয়ে রেখেছেন। আর পাইকাররা দর দাম করে কিনে সেই আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন এই হাট থেকে।
দেশের বৃহত্তম আম্রপালী আমের বাজার সাপাহার আমের হাটের দৈনিক কোটি টাকার আম্রপালী আম কেনা বেচা হয়।
এ বছর জেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন করেছেন চাষিরা। যার মধ্যে আম্রপালী আম ১৮ হাজার ৩১৩ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন চাষিরা। আর সাপাহারের আম্রপালী আম সুমিষ্টঘ্রাণের জন্য সারা দেশের মানুষের কাছে এর চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে।
উত্তরের শস্যভান্ডার খ্যাত জেলা নওগাঁ বর্তমানে ধানের পাশাপাশি আম উৎপাদনে দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নওগাঁ। নওগাঁর আম্রপালী আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছে। আর জেলার মধ্যে আম্রপালী আম উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে সাপাহার উপজেলা।
এখানেই দেশের বৃহত্তম আম্রপালী আমের হাট। সকাল থেকে হাটটিতে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমারোহে মুখরিত থাকে রাত পর্যন্ত। প্রতিদিন কেনা বেচা হয় কোটি টাকার আম। দুর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে ভিড় করেন রুপালী আম সংগ্রহে।
তাদের মতে, সাপাহার আমের হাটের মত এতো বড় আম্রপালী আমের হাট দেশের কোথাও নাই। ভালো জাত এবং রুপালী আমের সু-ঘ্রাণ এর জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত এই আমের হাটটি।
জেলা কৃষিবিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ জানান, আম্রপালী আম মূলত বারী-৩ জাতের আম। এই আম নওগাঁ জেলায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়ে থাকে। উৎপাদনের পাশাপাশি দেশে-বিদেশে ব্রান্ডিং করার ক্ষেত্রে এই জেলা এগিয়ে আছে। এছাড়াও অনেক বেকার যুবক মৌসুমী আম ব্যবস্যার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাদের বেকারত্ব দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বাগানিদের কাছে থেকে আম সংগ্রহ করে তারা হাটে বিক্রি করে ভাগ্য ফেরাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আম পরিবহনে যথাযথ সুযোগসুবিধা পেলে এর ব্যবসায়ীক চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে আমের দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ পরিবহন খরচ। সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে আম পরিবহনে সুবিধা প্রদান করে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ থেকে ব্যবসায়ীদের খুব দ্রুত মুক্তি দেবেন বলে দাবি জানান।
এদিকে সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রী কার্তিক সাহা জানান, সাপাহারের আম্রপালী আম দেশ ও বিদেশে খ্যাতি লাভ করেছে। সরকার যদি সংরক্ষণের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তবে ভোক্তা পর্যায়ে সারা বছর আম সরবারাহ করা সম্ভব হতো। এছাড়া যদি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা করা যেত তাহলে সারা দেশের সাথে আম বাণিজ্যে অনেক সুবিধা হতো।
নওগাঁ জেলায় এ বছর প্রায় ৪ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। যার বাজার মুল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে শুধু আম্রপালী আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পায় দুই লাখ ৩০ মেট্রিকটন। সাপাহারে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।
Reporter Name 



























