উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে সতর্কতা সংকেত জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ সতর্কতা জারি করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে পানির প্রবাহ বাড়ছে। ফলে আগামী সময়ে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগর ও বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৪ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ১২২ মিলিমিটার, নীলফামারীতে ৬১ দশমিক ২ মিলিমিটার, সৈয়দপুরে ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ১০৬ দশমিক ৭ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১২ মিলিমিটার, লালমনিরহাটে ২৩ মিলিমিটার এবং রংপুরে ৫৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দিনগুলোতেও রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
এ অবস্থায় তিস্তা অববাহিকার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর 


























