Dhaka ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন: তরুণ শক্তির কাছে হার মানল অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য নিয়ে হাজির খুলনার জুলাই কন্যারা ২১ জুলাই মৃত্যুঞ্জয়ী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহের বীরউত্তম এর ৫০তম হত্যাদিবস পালন করবে জাসদ একুশে জুলাই শহীদ দিবসের প্রস্তুতির মুহূর্তে, প্রচন্ড বর্ষণে কলকাতা ভাসালো প্রবাসী কার্ড ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবি নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা আজ সাতক্ষীরায় কানের দুলের লোভে শিশুকে অপহরণ করে হত্যা, ঘাতক মহিলাকে গণধোলাইয়ে হত্যা মাওলানা সাইফুল ইসলামের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩!! চাঁদা না পেয়ে কাজ বন্ধ ও ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি মামলা হলেও ব্যবস্থা নিতে অজানা কারণে ব্যর্থ প্রশাসন কুষ্টিয়ায় চারদিন ছাত্রাবাসে আটকে রেখে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক-০১
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বুড়িচংয়ে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১০ Time View

মো. আবদুল্লাহ, বুড়িচং (কুমিল্লা):


বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলের বিল, ঝিল, খাল, পুকুর ও জলাভূমিজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ ছিল। বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে লাল, সাদা, বেগুনি, নীল ও হলুদ রঙের শাপলায় মুখরিত থাকত জলাশয়গুলো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে শাপলার বিস্তার দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় ফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

উদ্ভিদবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সাদা, লাল, বেগুনি, হলুদ ও নীল—এই পাঁচ ধরনের শাপলা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদা শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হিসেবে স্বীকৃত। একসময় নদী, খাল, বিল ও স্থির জলাশয়জুড়ে শাপলার সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎকাল ছিল শাপলার প্রধান ফুল ফোটার মৌসুম।

গ্রামীণ জীবনে শাপলার গুরুত্ব শুধু সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শাপলার ডাঁটা বা লতা দিয়ে সুস্বাদু সবজি রান্না করা হতো। এর ফল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ড্যাঁপ’ নামে পরিচিত, সিদ্ধ বা ভেজে খাওয়ার প্রচলনও ছিল। শিশু-কিশোররা শাপলার মালা গেঁথে খেলাধুলা করত এবং অনেক কৃষক ও সংগ্রহকারী শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতেন।

বুড়িচং উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আগে সামান্য পানিযুক্ত জমিতেও স্বাভাবিকভাবে শাপলা জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে অথবা কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শাপলার স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আগের মতো শাপলার দেখা মেলে না।

বর্তমানে উপজেলার কিছু গভীর জলাশয়ে সীমিত পরিসরে সাদা শাপলা দেখা গেলেও লাল, বেগুনি কিংবা নীল শাপলা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা হতে বাঁচার জন্য বাদির বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা,কালিগঞ্জ থানা ও পিবিআই তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত,বাদীর শেষ না রাজীতে তদন্তে পুলিশ

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, জাতীয় ফুল শাপলাসহ জলজ উদ্ভিদের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, জলাভূমি ভরাট বন্ধ এবং কৃষিজমিতে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতাতেই শাপলার পরিচয় খুঁজে পাবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন: তরুণ শক্তির কাছে হার মানল অভিজ্ঞতা

বুড়িচংয়ে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা

সময়: ১২:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মো. আবদুল্লাহ, বুড়িচং (কুমিল্লা):


বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলের বিল, ঝিল, খাল, পুকুর ও জলাভূমিজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ ছিল। বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে লাল, সাদা, বেগুনি, নীল ও হলুদ রঙের শাপলায় মুখরিত থাকত জলাশয়গুলো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে শাপলার বিস্তার দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় ফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

উদ্ভিদবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সাদা, লাল, বেগুনি, হলুদ ও নীল—এই পাঁচ ধরনের শাপলা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদা শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হিসেবে স্বীকৃত। একসময় নদী, খাল, বিল ও স্থির জলাশয়জুড়ে শাপলার সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎকাল ছিল শাপলার প্রধান ফুল ফোটার মৌসুম।

গ্রামীণ জীবনে শাপলার গুরুত্ব শুধু সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শাপলার ডাঁটা বা লতা দিয়ে সুস্বাদু সবজি রান্না করা হতো। এর ফল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ড্যাঁপ’ নামে পরিচিত, সিদ্ধ বা ভেজে খাওয়ার প্রচলনও ছিল। শিশু-কিশোররা শাপলার মালা গেঁথে খেলাধুলা করত এবং অনেক কৃষক ও সংগ্রহকারী শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতেন।

বুড়িচং উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আগে সামান্য পানিযুক্ত জমিতেও স্বাভাবিকভাবে শাপলা জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে অথবা কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শাপলার স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আগের মতো শাপলার দেখা মেলে না।

বর্তমানে উপজেলার কিছু গভীর জলাশয়ে সীমিত পরিসরে সাদা শাপলা দেখা গেলেও লাল, বেগুনি কিংবা নীল শাপলা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আরও পড়ুনঃ  নটরডেমিয়ান্স ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা সেবা ও খাবার বিতরণে বন্যার্তদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, জাতীয় ফুল শাপলাসহ জলজ উদ্ভিদের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, জলাভূমি ভরাট বন্ধ এবং কৃষিজমিতে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতাতেই শাপলার পরিচয় খুঁজে পাবে।