Dhaka ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
পালিত হল,এক হাঁটু জল ও কাদায় দাঁড়িয়ে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস এবং লড়াইয়ের শপথ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কিট প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত কেন্দুয়ায় ওড়না পেঁচিয়ে এক যুবতী মেয়ে মৃত্যু। রথযাত্রার মঙ্গল শোভাযাত্রায় বীর সনাতনী সংঘের বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণ নরসিংদীর দুই হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ভাঙ্গুড়ার সাবেক এমপিপুত্র রাসেল সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ‎ চরভদ্রাসনে খাল কাটা কর্মসূচিতে ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল গুলিকে পার্কিং নিশ্চিত করতে সিডিএর কড়া হুশিয়ারি বদলগাছীতে জমি দখলের পায়তারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পীরগঞ্জের সংস্কৃতির স্মৃতি-কথা ও বর্তমান সংকট

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ  পীরগঞ্জ উপজেলার পরিচয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু ভূগোল বা জনগণনা নয় — এটি ছিল অঞ্চলভিত্তিক লোকসংস্কৃতি, মঞ্চনাটক, কাব্যসভা ও উৎসবের এক জীবন্ত গ্রন্থাগার। স্থানীয় মেলা, স্কুল-কলেজ মিলনমেলা,পাবলিক ক্লাবের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা—এসব মিলিয়ে পীরগঞ্জ কখনো-কখনো ‘সংস্কৃতির আড্ডাঘর’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। এই ঐতিহ্যগত পরিচয়ের বিস্তারে, পীরগঞ্জের ইতিহাস-সংস্কৃতি প্রবাহের চিত্র সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়।

পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞের কেন্দ্র; ইউনিয়ন-উপজেলার আলোচনাসভা, নাটক-আড্ডা এবং স্মরণোৎসবের আয়োজনে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সুপরিচিত। প্রেসক্লাবের বার্ষিক আয়োজন ও ইতিহাসের নথিতে এর স্থায়ী উপস্থিতি জাজ্বল্যমান।

পীরগঞ্জ উপজেলা বরাবরই সংস্কৃতির আতুঁর ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল। গান, নাটক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এখানকার পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব। সাংবাদিকদের সংগঠন হলেও, এটি শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনের জায়গা নয়—এটি ছিল পীরগঞ্জের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

বিগত চার দশকে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব যেভাবে সমাজ ও সংস্কৃতির আলো ছড়িয়েছে, তা শুধু উপজেলাবাসীর জন্য নয়, পুরো ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।
১৯৮০-এর দশকের শুরুতে পীরগঞ্জে সাংবাদিকতা তখনও সংগঠিত আকারে গড়ে ওঠেনি। সংবাদকর্মী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিরা একটি মঞ্চ তৈরির ভাবনা নেন, যেখানে সংবাদ, সংস্কৃতি ও সমাজচেতনা একসাথে বিকশিত হবে।

এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব কেবল সংবাদ সম্মেলন বা সাংবাদিকদের আড্ডাস্থল নয়, বরং এক “জ্ঞান ও সংস্কৃতির ঘর” হিসেবে পরিচিতি পায়। স্বাধীনতা ও মুক্তচেতনার ধারায় অনুপ্রাণিত এই সংগঠন স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে শিল্প-সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করে।

পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের একটি বড় ভূমিকা ছিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করা। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, প্রথম আলো বন্ধুসভা, সমকাল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, দিগন্ত শিল্পীগোষ্ঠী—সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রেসক্লাবের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (পীরগঞ্জ শাখা) জাতীয়ভাবে প্রাণশক্তিশালী উদীচীর স্থানীয় শাখা; স্বাধীনতা, গণজাগরণ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারায় গ্রাম-নগরের পীরগঞ্জেও উদীচীর কার্যক্রম হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতার চেতনায় বিশ্বাসী এ সংগঠন গান, নাটক, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পীরগঞ্জের তরুণদের সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  তাহিরপুরে ইজারা নিয়েও ফাজিলপুর খেয়াঘাটের সম্পূর্ণ দখল না পাওয়ার অভিযোগ

নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা ও মানবিক উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে প্রথম আলো বন্ধুসভা (পীরগঞ্জ শাখা) হয়ে উঠেছিল এক আলোকবর্তিকা। তারা নিয়মিত বইপড়া উৎসব, রক্তদান কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করত।

সমকাল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী স্থানীয় তরুণ শিল্পীদের সংগীত, নাটক ও আবৃত্তির মঞ্চ হিসেবে পীরগঞ্জে সৃজনশীলতার নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিল। সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাটক মঞ্চায়ন এবং কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তারা সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

কালচারাল সোসাইটি অফ পীরগঞ্জ স্থানীয় উদ্যোগে সম্প্রতি গড়ে ওঠা ফেসবুক ভিত্তিক/সামাজিক সংগঠন যারা গান-নাচ-আড্ডা, ভিডিওপ্রজেক্ট আয়োজন করে।এক সময় পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ ও স্কুলগুলোতে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ছিল উৎসবের মতো। নাটক ‘সুজন বাদশা ও রূপবান’, ‘শাপমোচন’ কিংবা রবীন্দ্রসংগীতের সন্ধ্যা—এসব আয়োজন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু নব্বইয়ের দশকের পর ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলো নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা পীরগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এক অদৃশ্য আঘাত হানে। স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যমের অতি নির্ভরতা তরুণদের বাস্তব মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতে।

আজ পীরগঞ্জে “বিনোদন” বলতে বোঝানো হয় ইউটিউব ভিডিও বা টিকটক ক্লিপ। কিন্তু সেই বিনোদনের মধ্যেই ঢুকে পড়েছে অপসংস্কৃতি—অশালীনতা, মাদক ও সহিংসতার প্রকাশ। শহরের অলিতে-গলিতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার সংস্কৃতিপ্রেমী সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যুবকদের সৃজনশীল শক্তি যেখানে সংগীত বা নাটকে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা ধ্বংস হচ্ছে মাদকের কড়াল গ্রাসে। আর্থিক অনুদানের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ঘাটতি, আর সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর অনুপস্থিতি এই পতনের মূল কারণ। পীরগঞ্জের পুরোনো নাট্যমঞ্চটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত, স্থানীয় উদ্যানগুলোতেও বিনোদনের পরিবেশ নেই।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

পালিত হল,এক হাঁটু জল ও কাদায় দাঁড়িয়ে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস এবং লড়াইয়ের শপথ

পীরগঞ্জের সংস্কৃতির স্মৃতি-কথা ও বর্তমান সংকট

সময়: ০৬:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ  পীরগঞ্জ উপজেলার পরিচয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু ভূগোল বা জনগণনা নয় — এটি ছিল অঞ্চলভিত্তিক লোকসংস্কৃতি, মঞ্চনাটক, কাব্যসভা ও উৎসবের এক জীবন্ত গ্রন্থাগার। স্থানীয় মেলা, স্কুল-কলেজ মিলনমেলা,পাবলিক ক্লাবের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা—এসব মিলিয়ে পীরগঞ্জ কখনো-কখনো ‘সংস্কৃতির আড্ডাঘর’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। এই ঐতিহ্যগত পরিচয়ের বিস্তারে, পীরগঞ্জের ইতিহাস-সংস্কৃতি প্রবাহের চিত্র সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়।

পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞের কেন্দ্র; ইউনিয়ন-উপজেলার আলোচনাসভা, নাটক-আড্ডা এবং স্মরণোৎসবের আয়োজনে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সুপরিচিত। প্রেসক্লাবের বার্ষিক আয়োজন ও ইতিহাসের নথিতে এর স্থায়ী উপস্থিতি জাজ্বল্যমান।

পীরগঞ্জ উপজেলা বরাবরই সংস্কৃতির আতুঁর ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল। গান, নাটক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এখানকার পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব। সাংবাদিকদের সংগঠন হলেও, এটি শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনের জায়গা নয়—এটি ছিল পীরগঞ্জের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

বিগত চার দশকে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব যেভাবে সমাজ ও সংস্কৃতির আলো ছড়িয়েছে, তা শুধু উপজেলাবাসীর জন্য নয়, পুরো ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।
১৯৮০-এর দশকের শুরুতে পীরগঞ্জে সাংবাদিকতা তখনও সংগঠিত আকারে গড়ে ওঠেনি। সংবাদকর্মী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিরা একটি মঞ্চ তৈরির ভাবনা নেন, যেখানে সংবাদ, সংস্কৃতি ও সমাজচেতনা একসাথে বিকশিত হবে।

এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব কেবল সংবাদ সম্মেলন বা সাংবাদিকদের আড্ডাস্থল নয়, বরং এক “জ্ঞান ও সংস্কৃতির ঘর” হিসেবে পরিচিতি পায়। স্বাধীনতা ও মুক্তচেতনার ধারায় অনুপ্রাণিত এই সংগঠন স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে শিল্প-সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করে।

পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের একটি বড় ভূমিকা ছিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করা। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, প্রথম আলো বন্ধুসভা, সমকাল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, দিগন্ত শিল্পীগোষ্ঠী—সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রেসক্লাবের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (পীরগঞ্জ শাখা) জাতীয়ভাবে প্রাণশক্তিশালী উদীচীর স্থানীয় শাখা; স্বাধীনতা, গণজাগরণ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারায় গ্রাম-নগরের পীরগঞ্জেও উদীচীর কার্যক্রম হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতার চেতনায় বিশ্বাসী এ সংগঠন গান, নাটক, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পীরগঞ্জের তরুণদের সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর বনানী থেকে আটক

নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা ও মানবিক উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে প্রথম আলো বন্ধুসভা (পীরগঞ্জ শাখা) হয়ে উঠেছিল এক আলোকবর্তিকা। তারা নিয়মিত বইপড়া উৎসব, রক্তদান কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করত।

সমকাল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী স্থানীয় তরুণ শিল্পীদের সংগীত, নাটক ও আবৃত্তির মঞ্চ হিসেবে পীরগঞ্জে সৃজনশীলতার নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিল। সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাটক মঞ্চায়ন এবং কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তারা সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

কালচারাল সোসাইটি অফ পীরগঞ্জ স্থানীয় উদ্যোগে সম্প্রতি গড়ে ওঠা ফেসবুক ভিত্তিক/সামাজিক সংগঠন যারা গান-নাচ-আড্ডা, ভিডিওপ্রজেক্ট আয়োজন করে।এক সময় পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ ও স্কুলগুলোতে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ছিল উৎসবের মতো। নাটক ‘সুজন বাদশা ও রূপবান’, ‘শাপমোচন’ কিংবা রবীন্দ্রসংগীতের সন্ধ্যা—এসব আয়োজন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু নব্বইয়ের দশকের পর ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলো নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা পীরগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এক অদৃশ্য আঘাত হানে। স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যমের অতি নির্ভরতা তরুণদের বাস্তব মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতে।

আজ পীরগঞ্জে “বিনোদন” বলতে বোঝানো হয় ইউটিউব ভিডিও বা টিকটক ক্লিপ। কিন্তু সেই বিনোদনের মধ্যেই ঢুকে পড়েছে অপসংস্কৃতি—অশালীনতা, মাদক ও সহিংসতার প্রকাশ। শহরের অলিতে-গলিতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার সংস্কৃতিপ্রেমী সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যুবকদের সৃজনশীল শক্তি যেখানে সংগীত বা নাটকে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা ধ্বংস হচ্ছে মাদকের কড়াল গ্রাসে। আর্থিক অনুদানের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ঘাটতি, আর সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর অনুপস্থিতি এই পতনের মূল কারণ। পীরগঞ্জের পুরোনো নাট্যমঞ্চটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত, স্থানীয় উদ্যানগুলোতেও বিনোদনের পরিবেশ নেই।