Dhaka ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
পালিত হল,এক হাঁটু জল ও কাদায় দাঁড়িয়ে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস এবং লড়াইয়ের শপথ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কিট প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত কেন্দুয়ায় ওড়না পেঁচিয়ে এক যুবতী মেয়ে মৃত্যু। রথযাত্রার মঙ্গল শোভাযাত্রায় বীর সনাতনী সংঘের বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণ নরসিংদীর দুই হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ভাঙ্গুড়ার সাবেক এমপিপুত্র রাসেল সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ‎ চরভদ্রাসনে খাল কাটা কর্মসূচিতে ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল গুলিকে পার্কিং নিশ্চিত করতে সিডিএর কড়া হুশিয়ারি বদলগাছীতে জমি দখলের পায়তারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

২১ জুলাই: গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মৌন মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

কর্মসূচিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

 

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে তারা আগ্রহী। এ লক্ষ্যে কর পরিশোধের পর প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ১০ কোটি টাকা প্রদানের ভিত্তিতে সমঝোতার একটি প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের দাবি, এমন সমঝোতা হলে রাষ্ট্রও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর রাজস্ব পেতে পারে।

 

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

 

রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬-এর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এ রিটের কারণে শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। তারা দাবি করেন, রিটের আবেদনকারীদের একজন গ্রামীণফোনের কর্মরত কর্মকর্তা ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট তহবিলের সুবিধাভোগী হওয়ায় বিষয়টি স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পর্যালোচনার আহ্বান জানান তারা।

আরও পড়ুনঃ  নেত্রকোনা কেন্দুয়ার দুলাল ও তার ভাতিজার দাপটে গ্রামবাসী অতিষ্টত থানার অভিযোগ

 

বক্তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি রিটের ফলে শ্রমিকদের ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণ বা বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে তা দেশের অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অধিকারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধান করবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

পালিত হল,এক হাঁটু জল ও কাদায় দাঁড়িয়ে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস এবং লড়াইয়ের শপথ

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন

সময়: ১০:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

২১ জুলাই: গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মৌন মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

কর্মসূচিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

 

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে তারা আগ্রহী। এ লক্ষ্যে কর পরিশোধের পর প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ১০ কোটি টাকা প্রদানের ভিত্তিতে সমঝোতার একটি প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের দাবি, এমন সমঝোতা হলে রাষ্ট্রও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর রাজস্ব পেতে পারে।

 

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

 

রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬-এর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এ রিটের কারণে শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। তারা দাবি করেন, রিটের আবেদনকারীদের একজন গ্রামীণফোনের কর্মরত কর্মকর্তা ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট তহবিলের সুবিধাভোগী হওয়ায় বিষয়টি স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পর্যালোচনার আহ্বান জানান তারা।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

 

বক্তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি রিটের ফলে শ্রমিকদের ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণ বা বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে তা দেশের অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অধিকারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধান করবে।