Dhaka ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
পালিত হল,এক হাঁটু জল ও কাদায় দাঁড়িয়ে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস এবং লড়াইয়ের শপথ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কিট প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত কেন্দুয়ায় ওড়না পেঁচিয়ে এক যুবতী মেয়ে মৃত্যু। রথযাত্রার মঙ্গল শোভাযাত্রায় বীর সনাতনী সংঘের বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণ নরসিংদীর দুই হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ভাঙ্গুড়ার সাবেক এমপিপুত্র রাসেল সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ‎ চরভদ্রাসনে খাল কাটা কর্মসূচিতে ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল গুলিকে পার্কিং নিশ্চিত করতে সিডিএর কড়া হুশিয়ারি বদলগাছীতে জমি দখলের পায়তারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার

 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে সরকারি হালট দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বহিরাগত লোকজন দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তাইনুস শাহী।সরকারি হালট উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনের নির্ধারিত কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে বহিরাগত লোকজনের অংশগ্রহণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে প্রায় এক শতক সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৬৯ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট অবৈধ দখলের অভিযোগে গত ২৮ জুন আবেদন করেন শরিফ হাসান ভূঁইয়া। পরবর্তীতে পরিমাপ ও তদন্তে হালটের একটি অংশ দখলের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে প্রশাসন। এ ছাড়া হালটের ওপর দিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।ভুক্তভোগী তাইনুস শাহী বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জায়গা পরিমাপ সঠিক হয়নি জানিয়ে আপত্তি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। আমার দখলীয় জমির প্রায় এক হাত ভেতর পর্যন্ত মাপ নেওয়া হয়েছে। বাড়ি উচ্ছেদের আগে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময়ও জানানো হয়নি। আমি পুনরায় পরিমাপের জন্য আবেদন করব।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের সময় তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।অন্যদিকে, গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনকারী শরিফ হাসান ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিনের দখল থেকে সরকারি হালট উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী লুটপাট ভাংচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ আমি সকাল ১১টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থলে নিজে উপস্থিত ছিলাম। আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় লুটপাটের কোন অভিযোগ পাইনি এবং আমি নিজেও এমন কিছু দেখিনি। তবে এমন কিছু যদি হয়ে থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারেন। সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত ও পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি হালটের অবৈধ দখল চিহ্নিত করে আইনানুগভাবে তা উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুনঃ  তা'মীরুল মিল্লাত থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত ও ছাত্র সংসদে বিজয়ী প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা প্রদান

সরকারি উচ্ছেদ অভিযানে বহিরাগত লোকজনের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল কি না এবং লুটপাটের অভিযোগ সত্য হলে এর দায় কার এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

পালিত হল,এক হাঁটু জল ও কাদায় দাঁড়িয়ে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস এবং লড়াইয়ের শপথ

কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

সময়: ০৯:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার

 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে সরকারি হালট দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বহিরাগত লোকজন দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তাইনুস শাহী।সরকারি হালট উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনের নির্ধারিত কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে বহিরাগত লোকজনের অংশগ্রহণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে প্রায় এক শতক সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৬৯ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট অবৈধ দখলের অভিযোগে গত ২৮ জুন আবেদন করেন শরিফ হাসান ভূঁইয়া। পরবর্তীতে পরিমাপ ও তদন্তে হালটের একটি অংশ দখলের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে প্রশাসন। এ ছাড়া হালটের ওপর দিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।ভুক্তভোগী তাইনুস শাহী বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জায়গা পরিমাপ সঠিক হয়নি জানিয়ে আপত্তি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। আমার দখলীয় জমির প্রায় এক হাত ভেতর পর্যন্ত মাপ নেওয়া হয়েছে। বাড়ি উচ্ছেদের আগে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময়ও জানানো হয়নি। আমি পুনরায় পরিমাপের জন্য আবেদন করব।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের সময় তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।অন্যদিকে, গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনকারী শরিফ হাসান ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিনের দখল থেকে সরকারি হালট উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী লুটপাট ভাংচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ আমি সকাল ১১টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থলে নিজে উপস্থিত ছিলাম। আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় লুটপাটের কোন অভিযোগ পাইনি এবং আমি নিজেও এমন কিছু দেখিনি। তবে এমন কিছু যদি হয়ে থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারেন। সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত ও পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি হালটের অবৈধ দখল চিহ্নিত করে আইনানুগভাবে তা উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুনঃ  কালিয়াকৈরে বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সরকারি উচ্ছেদ অভিযানে বহিরাগত লোকজনের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল কি না এবং লুটপাটের অভিযোগ সত্য হলে এর দায় কার এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।