২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এক মুহূর্তেই নায়ক বনে গেলেন ফেররান তোরেস। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে করা তার একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে স্পেন। সেই গোলই স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
২০০০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের ফইওস শহরে জন্ম তোরেসের। লিপ ইয়ারে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড মাত্র ছয় বছর বয়সে ভ্যালেন্সিয়ার বিখ্যাত একাডেমিতে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে ২০১৭ সালে ভ্যালেন্সিয়ার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার।
ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২০ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। সেখানে প্রিমিয়ার লিগ ও ইএফএল কাপ জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নাম লেখান বার্সেলোনায়।
বার্সেলোনার জার্সিতে নিজেকে আরও পরিণত স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তোরেস। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে এক মৌসুমে ১৯ গোল করে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হন। একই মৌসুমে কোপা দেল রে-তে সর্বোচ্চ ছয় গোল করার পাশাপাশি ফাইনালে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন।
জাতীয় দলের হয়েও সমান ধারাবাহিক এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ২০২০ সালে স্পেনের সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকে সাবেক কোচ লুইস এনরিকে এবং বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে নিয়মিত খেলছেন। ২০২১ ইউরোতে দুই গোল করে স্পেনকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে দুটি এবং ২০২৪ ইউরোতে একটি গোল করে জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সবশেষে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের সেরাটা তুলে ধরলেন তোরেস। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোল করে স্পেনকে এনে দেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। এক গোলেই তিনি হয়ে উঠেছেন স্পেনের নতুন ফুটবল নায়ক এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় এক নাম।
Reporter Name 



























