
মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার||ফটো চিত্রে, আপোষ জয়ধর
চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকার নাছিয়া গোনার গাউছিয়া লেকসিটি এলাকায় একটি উঁচু পাহাড় কেটে প্রায় পুরোপুরি সমতল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল সালাম প্রকাশ সালামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দৈর্ঘ্য-প্রস্থে প্রায় ৫শত ফুটেরও বেশি আয়তনের একটি উঁচু পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল ২২ আগস্ট ২০২৬ ইং রোজ শনিবার আনুমানিক দুপুর এক ঘটিকার সময় অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাছিয়া ঘোনার গাউছিয়া লেকসিটি এলাকার ওই পাহাড়ের একটি বড় অংশ কেটে একেবারে সমতল করে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদকের ধারণ করা ভিডিওতেও পাহাড় কাটার চিহ্ন ও মাটি সরিয়ে ফেলার দৃশ্য দেখা যায়। সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন এই প্রতিবেদক।
পাহাড়ের উঁচু অংশে সালামের একটি ঘর রয়েছে বলে দেখা যায়। কেন এত সুন্দর ও উঁচু পাহাড়টি কেটে সমতল করা হয়েছে-সরাসরি এমন প্রশ্ন করা হলে আব্দুল সালাম বলেন, “অত উপরে থাকতে ইচ্ছা করে না, তাই এটা কেটে ঘর বেঁধে থাকব।”
পাহাড় কাটার বিষয়ে সরাসরি আরও প্রশ্ন করা হলে সালাম নিজেকে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় থাকার পরও যদি কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া যায়, তাহলে এর কী লাভ।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাকে কেন পুলিশ খুঁজছে-এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সালামের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের রাতে আকবর শাহ থানা পুলিশ তাকে খুঁজতে সেখানে একাধিকবার আসে। তবে কী কারণে পুলিশ তাকে খুঁজছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এক পর্যায়ে পাহাড় কাটা জায়গাটি নিজের নয় বলেও দাবি করেন সালাম। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জায়গাটি আসলে আমার নয়, একজন লোকের। তিনি বুধবার আসবেন এবং জায়গাটা বেচাকেনা হয়ে গেছে।” তবে জমিটির মালিকানা কিংবা পাহাড় কাটার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পাড়েনি, আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে অত্র এলাকার অধিকাংশ স্থানই সরকারি পাহাড় এবং সরকারের খাস জমি। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার প্রভাবেই অত্র এলাকায় পাহাড় কেটে যত ঘর বাড়ি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আকবর শাহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক পাহাড় কেটে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস ও প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পাহাড় রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
নাছিয়া গোনার গাউছিয়া লেকসিটি এলাকায় পাহাড় কেটে সমতল করার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Reporter Name 























