Dhaka ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সাঁওতাল শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার অভিযোগ মাত্র এক রাতের বৃষ্টিতে নওগাঁর বদলগাছীতে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ১৫ মিনিটে ৩ গোল দিয়ে আর্জেন্টিনার বিজয় বারুইপুর কাণ্ডে মোমবাতি হাতে শত শত মানুষের প্রতিবাদ, রাজনীতি নয়- দোষীর ফাঁসি চাই। দিনাজপুর বীরগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জাল হোসেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সহজ-সরল, কৃষক-শ্রমিক, মজলুম এবং মেহনতি মানুষের মুক্তির কণ্ঠস্বর ও আলোকবর্তিকা নরসিংদীর গ্রীন লাইফ (প্রা:)হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট। অর্থ দন্ড,এক্সরে কক্ষটি সিলগালা নবীনগরে স্কুলকক্ষে অভিযান, মাদক সেবনের অভিযোগে আটক ১ দেশকে বাঁচাতে প্রগতিশীল সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে-মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডিমলায় তীব্র শীতে জনজীবন ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৪০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৮১ Time View

 

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো,ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। চলতি পৌষ মাসের শুরুতেই টানা পাঁচ দিন সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। দিনের বেলাতেও আলো স্বল্পতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ৫ দিন ধরে সূর্যের আলো না থাকায় নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের তীব্রতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

কৃষকরাও পড়েছেন বড় বিপাকে। কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যায় ব্যাহত হচ্ছেন অনেক কৃষক। শীত নিবারণে নিম্ন আয়ের মানুষ পুরোনো শীতবস্ত্র কিনছেন, আবার অনেককে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে কাজে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। তবে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম কম থাকায় ভ্যান চালক অটো রিকশাচাল ভ্যানওঅটো রিস্কা চালকসহ অনেক কর্মজীবী মানুষকে শীতের কাপড় জড়িয়ে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সূর্যের দেখা না থাকায় কুয়াশার মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে। এতে সড়কে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ভ্যান ও অটো চালকেরা জানান, কুয়াশার কারণে লোকজন কম, যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল ও বোরো ধানের বীজতলায় বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল রয়েছে, যেগুলোর পরিচর্যা ঠান্ডার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর(৩০ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সকালে সংবাদকর্মীকে বলেন ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে গাউসিয়া কমিটি ওমান কেন্দ্রীয় পরিষদ

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে এক হাজার ৬০০ কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ছিন্নমূল ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। নতুন করে আরও কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সাঁওতাল শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার অভিযোগ

ডিমলায় তীব্র শীতে জনজীবন ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

সময়: ০৮:৪০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো,ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। চলতি পৌষ মাসের শুরুতেই টানা পাঁচ দিন সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। দিনের বেলাতেও আলো স্বল্পতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ৫ দিন ধরে সূর্যের আলো না থাকায় নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের তীব্রতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

কৃষকরাও পড়েছেন বড় বিপাকে। কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যায় ব্যাহত হচ্ছেন অনেক কৃষক। শীত নিবারণে নিম্ন আয়ের মানুষ পুরোনো শীতবস্ত্র কিনছেন, আবার অনেককে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে কাজে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। তবে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম কম থাকায় ভ্যান চালক অটো রিকশাচাল ভ্যানওঅটো রিস্কা চালকসহ অনেক কর্মজীবী মানুষকে শীতের কাপড় জড়িয়ে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সূর্যের দেখা না থাকায় কুয়াশার মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে। এতে সড়কে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ভ্যান ও অটো চালকেরা জানান, কুয়াশার কারণে লোকজন কম, যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল ও বোরো ধানের বীজতলায় বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল রয়েছে, যেগুলোর পরিচর্যা ঠান্ডার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর(৩০ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সকালে সংবাদকর্মীকে বলেন ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  টানা বর্ষণে মুক্তাগাছা শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে এক হাজার ৬০০ কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ছিন্নমূল ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। নতুন করে আরও কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।