Dhaka ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে ৬ দিনে ১৭৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ভাঙ্গুড়ায় অসুস্থ যুবদল নেতাকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াতের এমপি আলী আছগার চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ্যালামনাই এসোসিয়েশন কতৃক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম ১০ সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাঈদ আল নোমান নিউইয়র্কের কিংবদন্তি সংবাদ উপস্থাপক কাইটি টং অবসরের ঘোষণা দিলেন রামপালে স্কুল ছাত্রী ও তার বাবাকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ র‍্যাবের অভিযানে ভারতীয় কম্বলসহ ৪ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনে দেশের নেতৃত্ব দিবে মনজুর এলাহী এমপি রুহিয়ায় জমি বিক্রি ও বন্ধকের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী ঐক্য মঞ্চের যৌথ আহ্বানে, মহা মিছিল শেয়ারবাজার নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি চিন্তিত মার্কিন নাগরিকরা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ত্রাণ চাই না, নদী বাঁচাও, টিআরএম চালু করো” — ভবদহ বিল ও স্লুইস গেটে জীবনের দুর্ভোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

 

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা থেকে


ডুমুরিয়া (খুলনা) বুধবার ৫আগষ্ট‌ ২০২৬
দক্ষিণাঞ্চলের ‘দুঃখ’ বলে পরিচিত ভবদহ বিল এলাকা ও ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট চত্বরে পা রাখতেই চোখে পড়ে এক করুণ দৃশ্য। একদিকে পলি জমে স্তব্ধ হতে বসা নদীর গতিপথ, অন্যদিকে কপাটের জং ধরা কাঠামো। বর্ষা মৌসুম এলেই অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুরের শত শত গ্রামের মানুষের চোখ থেকে ঘুম কেড়ে নেয় জলাবদ্ধতা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেটের পলি সরাতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে ড্রেজিং চললেও স্থানীয়দের মনে স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো রয়ে গেছে চরম সংশয়।

স্লুইস গেটের ওপর দাঁড়িয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া এলাকার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক অখিল দাসের সাথে। জীবনের বহু সময় ধরে এই অভিশপ্ত জলাবদ্ধতার সাথে লড়াই করে চলছেন তিনি।

প্রতিবেদক: অখিল কাকা, ভবদহ স্লুইস গেটের এখন যে অবস্থা দেখছেন, এতে কি আপনাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমছে?

অখিল দাস: (গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে) “বাপু, গেটের কপাট দু-একটা খোলা থাকলেও পলি জমে নদীর তলা উঁচু হয়ে গেছে। উজুড়ে পানি নামবে কীভাবে? পাম্প দিয়ে পানি সেচে সাময়িক ধান চাষের চেষ্টা করা হয় বটে, কিন্তু এক পশলা ভারী বৃষ্টি হলেই বিলের পর বিল ভেসে যায়। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই।”

প্রতিবেদক: পানি উন্নয়ন বোর্ড তো নদী খনন আর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চালাচ্ছে। আপনাদের মূল দাবিটা আসলে কী?

অখিল দাস: “পানি বোর্ডের এই ঠিকাদারদের খননে আমাদের কিস্যু লাভ হয় না। পলি তো নদী কেটে ঠেকানো যাবে না! কুদরতি নিয়ম না মানলে ভবদহের মুক্তি নেই। একমাত্র উপায় হলো বিলে বিলে ‘টিআরএম’ (জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা) চালু করা। জোয়ারের সাথে পলি বিলে ঢুকুক, বিলে পলি জমে উঁচু হোক আর নদী নাব্য থাকুক। নদী বাঁচার রাস্তা না দিলে আমাদের পুরো অঞ্চল একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলীর

প্রতিবেদক: প্রশাসনের প্রতি আপনাদের বার্তা কী?
অখিল দাস: “আমরা একটাই কথা বলি—প্রকল্পের নামে টাকা নষ্ট না করে মানুষের কথা শুনুক। আন্দোলন করতে করতে আমাদের চুল পেকে গেল। কপাট আর গেট নয়, নদীকে নিজের পথে চলতে দেওয়া হোক। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই, নিজেদের জমিতে সোনার ফসল ফলাতে চাই।”

প্রতিবেদকের টীকা: দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সাময়িক পাম্পিং বা অপরিকল্পিত খনন যথেষ্ট নয়। স্থানীয় কৃষিজীবী ও ভুক্তভোগীদের সাথে একাত্ম হয়ে বিজ্ঞদের মতামত—প্রাকৃতিক নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) নিশ্চিত না করলে ভবদহের অভিশাপ চিরতরে মোছা সম্ভব নয়।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে ৬ দিনে ১৭৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

ত্রাণ চাই না, নদী বাঁচাও, টিআরএম চালু করো” — ভবদহ বিল ও স্লুইস গেটে জীবনের দুর্ভোগ

সময়: ০৫:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা থেকে


ডুমুরিয়া (খুলনা) বুধবার ৫আগষ্ট‌ ২০২৬
দক্ষিণাঞ্চলের ‘দুঃখ’ বলে পরিচিত ভবদহ বিল এলাকা ও ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট চত্বরে পা রাখতেই চোখে পড়ে এক করুণ দৃশ্য। একদিকে পলি জমে স্তব্ধ হতে বসা নদীর গতিপথ, অন্যদিকে কপাটের জং ধরা কাঠামো। বর্ষা মৌসুম এলেই অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুরের শত শত গ্রামের মানুষের চোখ থেকে ঘুম কেড়ে নেয় জলাবদ্ধতা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেটের পলি সরাতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে ড্রেজিং চললেও স্থানীয়দের মনে স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো রয়ে গেছে চরম সংশয়।

স্লুইস গেটের ওপর দাঁড়িয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া এলাকার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক অখিল দাসের সাথে। জীবনের বহু সময় ধরে এই অভিশপ্ত জলাবদ্ধতার সাথে লড়াই করে চলছেন তিনি।

প্রতিবেদক: অখিল কাকা, ভবদহ স্লুইস গেটের এখন যে অবস্থা দেখছেন, এতে কি আপনাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমছে?

অখিল দাস: (গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে) “বাপু, গেটের কপাট দু-একটা খোলা থাকলেও পলি জমে নদীর তলা উঁচু হয়ে গেছে। উজুড়ে পানি নামবে কীভাবে? পাম্প দিয়ে পানি সেচে সাময়িক ধান চাষের চেষ্টা করা হয় বটে, কিন্তু এক পশলা ভারী বৃষ্টি হলেই বিলের পর বিল ভেসে যায়। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই।”

প্রতিবেদক: পানি উন্নয়ন বোর্ড তো নদী খনন আর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চালাচ্ছে। আপনাদের মূল দাবিটা আসলে কী?

অখিল দাস: “পানি বোর্ডের এই ঠিকাদারদের খননে আমাদের কিস্যু লাভ হয় না। পলি তো নদী কেটে ঠেকানো যাবে না! কুদরতি নিয়ম না মানলে ভবদহের মুক্তি নেই। একমাত্র উপায় হলো বিলে বিলে ‘টিআরএম’ (জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা) চালু করা। জোয়ারের সাথে পলি বিলে ঢুকুক, বিলে পলি জমে উঁচু হোক আর নদী নাব্য থাকুক। নদী বাঁচার রাস্তা না দিলে আমাদের পুরো অঞ্চল একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  শিশু রিক্তা লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল

প্রতিবেদক: প্রশাসনের প্রতি আপনাদের বার্তা কী?
অখিল দাস: “আমরা একটাই কথা বলি—প্রকল্পের নামে টাকা নষ্ট না করে মানুষের কথা শুনুক। আন্দোলন করতে করতে আমাদের চুল পেকে গেল। কপাট আর গেট নয়, নদীকে নিজের পথে চলতে দেওয়া হোক। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই, নিজেদের জমিতে সোনার ফসল ফলাতে চাই।”

প্রতিবেদকের টীকা: দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সাময়িক পাম্পিং বা অপরিকল্পিত খনন যথেষ্ট নয়। স্থানীয় কৃষিজীবী ও ভুক্তভোগীদের সাথে একাত্ম হয়ে বিজ্ঞদের মতামত—প্রাকৃতিক নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) নিশ্চিত না করলে ভবদহের অভিশাপ চিরতরে মোছা সম্ভব নয়।