হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পেনশন সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার। একই সঙ্গে সংগঠনের ঘোষিত ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) যুক্তরাজ্য সময় সন্ধ্যা ৬টায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএএম ঈসা এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এমএ রউফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জেএসএফ-বাংলাদেশের সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন।
সভায় প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের অধিকার, বিশেষ করে একটি স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা চালুর দাবি এবং সংগঠনের ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, “প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে নন। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি পরিবর্তন হয় না। তাই সরকার যেই থাকুক না কেন, প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ আমদানিতে ব্যয় হলেও প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ, পারিবারিক অর্থনীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রবাসীদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সভায় বক্তব্য দেন রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন্সেস শাহিদা পারভীন রত্না, নাসরিন আক্তার তরফদার, কর্নেল (অব.) ফেরদৌসী আজিজ, সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, বিশিষ্ট লেখক মির্জা সুমন, জালাল উদ্দীন, গোলাম কিবরিয়া, আমিনুল রাশেদ, শাহিন তালুকদার, হেলাল উদ্দিন, রেয়াজ আবু, সাঈদ দিদার সরদার, আবুল হোসেন সরদার, এস এম আব্দুস সাত্তার, ইসমাইল মিয়া (কাতার), অ্যাডভোকেট মিয়া সিরাজ, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, হাজী ড. সফি সাকি, দৈনিক দেশ কণ্ঠের সম্পাদক এমএ ওয়াহাব রিংকু, মেজর (অব.) এমরান মিয়া, তাজউদ্দীন, এমএ মালেক খান, বিদ্যুৎ, রেজা নবী, সফিক মিয়া, এনাম চৌধুরী খোকন, কবির আহমেদ মাসুম, কাপ্তান মিয়া, সৈয়দ খালিদ মিয়া অলিদ, মোস্তাদিক মিয়া মানিকসহ অর্ধশতাধিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারের প্রতিনিধি।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সরকারি চাকরিজীবীদের মতো একটি পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা উচিত। তারা বলেন, “যারা যৌবনের সেরা সময় বিদেশে কাটিয়ে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন, তারা দেশে ফিরে বার্ধক্যে ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। এটি কোনো দয়া নয়, বরং তাদের অবদানের স্বীকৃতি।”
সভায় আরও বলা হয়, অর্থ পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবারের নেতারা বলেন, প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে এই আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে যেমন প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি ধৈর্য, ঐক্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পেনশন সুবিধাসহ অন্যান্য দাবিও একদিন বাস্তবায়িত হবে। শেষে তারা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
Reporter Name 




























