
সংগ্রহে- প্রফেসর ড. হামিদা খানম
আমি বার্ধক্যে কারও বোঝা হতে চাই না
আমি বার্ধক্যকে ভয় পাই না।
বয়সের সংখ্যা বাড়তে থাকলে, আমি অস্বস্তি বোধ করি না।
আমার ত্বকে কুঁচকে যাওয়া, চুলের রূপালী বর্ণ,
কিংবা হাটুর ব্যথা, আমাকে বিব্রত করে না।
আমি জানি, বয়স মানেই পরিবর্তন – শরীরে, মনে, জীবন যাপনে।
আমি একাকিত্বকেও ভয় পাই না।
সময়ের সাথে আমি বুঝেছি, একাকিত্ব কারও শাস্তি নয়,বরং
নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর আরেক নাম।
আমি নিঃসঙ্গতার গহ্বরে হারিয়ে যেতে চাই না, বরং একাকিত্বকে বন্ধু করে নিতে চাই,
নিজের ভাবনার বিস্তীর্ণ আকাশে উড়তে চাই মুক্ত বিহঙ্গের মতো।
কিন্তু একটাই ভয় তাড়া করে ফিরে –
আমি যেন কারও জন্য বোঝা না হয়ে যাই।
আমি যেন কারও জন্য দ্বায়িত্বের ভার হয়ে না দাড়াই,
কারও জীবনের হিসাব-নিকাশে এক অপ্রত্যাশিত সংযোজন হয়ে না থাকি।
আমি চাই না, কেউ আমাকে শুধুমাত্র করুণার দৃষ্টিতে দেখুক।
আমি চাই না, আমার দূর্বলতাকে কেউ নিজের আত্মত্যাগের গল্পে পরিণত করুক।
আমি চাই না, বার্ধক্য কারও কপালে চিন্তার ভাঁজ হয়ে উঠুক।
আমি চাই, আমার বয়স হোক অভিজ্ঞতার সম্পদ,
যার প্রতিটি দিন বয়ে আনবে নতুন উপলব্ধির আলো।
আমি চাই, বৃদ্ধ বয়সে আমি এক অগ্রন্থিত কবিতা হয়ে থাকি,
যার প্রতিটি শব্দে থাকবে বেঁচে থাকার আনন্দ, জীবনের গভীরতা।
আমি চাই, আমার শেষ বয়স হোক, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের মতো –
যার প্রতিটি চুমুক থাকবে, অতীতের উষ্ণতা,
জীবনের গল্পের মিষ্টতা, আর একান্ত নিজস্বতার প্রশান্তি।
সংগ্রহে- প্রফেসর ড. হামিদা খানম 



























