আজিজুল গাজী, জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট :
বাগেরহাট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মধুদিয়া ইচ্ছাময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার) বাবু চম্পক কুমার চক্রবর্তীর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা এক আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মাসুদ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।
শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে বরণ করে নেন। পুরো মিলনায়তনজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল অশ্রু আর কণ্ঠে ছিল প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
প্রায় ১৫ বছর আগে গ্রন্থাগার শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন বাবু চম্পক কুমার চক্রবর্তী। তবে তার অসাধারণ শিক্ষাদান পদ্ধতি ও ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতার কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে “ইংরেজির জাহাজ” নামে পরিচিতি লাভ করেন। কঠিন ইংরেজি গ্রামারকে সহজ ও আনন্দঘনভাবে উপস্থাপন করার দক্ষতা তাকে শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।
শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, মানবিক ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেও তিনি সকলের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে তার আন্তরিক আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতি বসু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চম্পক স্যার শুধু আমাদের শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো। স্যার ভালোবেসে শিখিয়েছেন।”
শেখ রাফি বলেন, “ইংরেজিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা সময় দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন স্যার। স্যারের মতো শিক্ষক পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।”
প্রজ্ঞা চৌধুরী বলেন, “স্যারের ক্লাস মানেই ছিল আনন্দ। তিনি কখনো আমাদের বিরক্ত হতে দেননি।”
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি বাগদী বলেন, “স্যার সবসময় বলতেন—‘জীবনে বড় হতে হলে আগে মানুষ হতে হবে।’ স্যারের কথা আমরা কখনো ভুলবো না।”
শিক্ষার্থীদের আবেগঘন বক্তব্যে পুরো মিলনায়তনে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নবাগত শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, “খুব অল্প সময়েই বুঝেছি চম্পক স্যার কত বড় মনের মানুষ।”
সহকারী শিক্ষিকা মুক্তা রানী সরকার বলেন, “তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আন্তরিক একজন শিক্ষক ছিলেন।”
সিনিয়র শিক্ষক শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের ইতিহাসে চম্পক স্যারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, “আজকের আয়োজন শুধু বিদায় নয়, একজন মহান শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।”
সহকারী শিক্ষক ঝর্না সিকদার বলেন, “তার মানবিক গুণাবলি আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।”
প্রাক্তন শিক্ষক বাবু দেবনাথ কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন, “চম্পক কুমার চক্রবর্তী একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।”
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। পরে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবনের কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।
Reporter Name 


























