Dhaka ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবলের ফাইনালে সদর উপজেলা কালিয়াকৈরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত ধর্মপাশায় জলমহালের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: মাঈন উদ্দিন নটুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, তিন বোনের স্ট্যাম্পে টিপসই নেওয়ার দাবি পাইকগাছায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ভাঙ্গুড়ায় দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান খোকন বীরগঞ্জে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি মনজুরুল ইসলাম কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সংস্কারের পরামর্শ সেন্ট মার্টিনের কাছে ডুবতে থাকা বোট থেকে ৭৬ জন উদ্ধার, আটক ১১
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

লালমনিরহাট সদরে টিআর-কাবিখা ও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ Time View

মুহাম্মদ রাওফুল বরাত বাঁধন ঢালী


সাপটানা আবাসন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ

লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের আওতাধীন টিআর, কাবিখা-কাবিটা ও আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাপটানা আবাসন প্রকল্পে বাবা-মা হারা তিন ভাই-বোনের জন্য নির্মিত ঘরের কাজের মান, প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদপত্র ‘লালমনিরহাট চিত্র’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সাপটানা আবাসন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশ, দরজা-জানালা ও ফ্যান না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে প্রকল্প সভাপতি রাশেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দুটি প্রকল্পে মোট ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পিআইও মো. আল আমিন সরকার দাবি করেন, প্রকল্প সভাপতি কাজ না করায় তাঁর অংশের ৩ লাখ টাকা ফেরত নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রকল্পের অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া, অর্থের হিসাব সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে কাজ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, বরাদ্দপত্র, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত, মাপজোক বই, বিল-ভাউচার ও অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে মো. আল আমিন সরকারকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তাঁকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পিআইও হিসেবে দেখানো হয়েছে।

শুধু আবাসন প্রকল্প নয়, সদর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের আওতায় টিআর ও কাবিখা-কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদিত কাজের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত কাজের মিল, কাজের পরিমাণ ও মান, প্রকৃত ব্যয় এবং বিল-ভাউচার যাচাই করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা: ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার তাগিদ

বিশেষ করে সাপটানা আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্মিত ঘরের বর্তমান অবস্থা, অনুমোদিত নকশা ও সুবিধার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের সামঞ্জস্য এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো ঘরে নির্মাণের পরপরই পানি প্রবেশ বা অনুমোদিত সুবিধা না থাকার অভিযোগ সত্য হলে তা নির্মাণমান ও তদারকির বিষয়টি সামনে আনবে।

এদিকে প্রকল্প সভাপতি কাগজে থাকলেও বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা সীমিত ছিল—এমন অভিযোগও প্রকাশিত প্রতিবেদনে করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়ভাবে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের কাজ স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে—

১. বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে;

২. অনুমোদিত প্রকল্পের কাজের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজের কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না;

৩. প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন, ব্যয়, ফেরত ও বিল পরিশোধে সরকারি বিধি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও পরিষ্কার করার সুযোগ থাকবে।

সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের অর্থ হওয়ায় এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই সাপটানা আবাসন প্রকল্পসহ লালমনিরহাট সদর পিআইও কার্যালয়ের আওতাধীন আলোচিত প্রকল্পগুলোর নথি, হিসাব ও মাঠপর্যায়ের কাজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবলের ফাইনালে সদর উপজেলা

লালমনিরহাট সদরে টিআর-কাবিখা ও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

সময়: ০৯:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মুহাম্মদ রাওফুল বরাত বাঁধন ঢালী


সাপটানা আবাসন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ

লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের আওতাধীন টিআর, কাবিখা-কাবিটা ও আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাপটানা আবাসন প্রকল্পে বাবা-মা হারা তিন ভাই-বোনের জন্য নির্মিত ঘরের কাজের মান, প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদপত্র ‘লালমনিরহাট চিত্র’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সাপটানা আবাসন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশ, দরজা-জানালা ও ফ্যান না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে প্রকল্প সভাপতি রাশেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দুটি প্রকল্পে মোট ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পিআইও মো. আল আমিন সরকার দাবি করেন, প্রকল্প সভাপতি কাজ না করায় তাঁর অংশের ৩ লাখ টাকা ফেরত নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রকল্পের অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া, অর্থের হিসাব সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে কাজ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, বরাদ্দপত্র, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত, মাপজোক বই, বিল-ভাউচার ও অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে মো. আল আমিন সরকারকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তাঁকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পিআইও হিসেবে দেখানো হয়েছে।

শুধু আবাসন প্রকল্প নয়, সদর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের আওতায় টিআর ও কাবিখা-কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদিত কাজের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত কাজের মিল, কাজের পরিমাণ ও মান, প্রকৃত ব্যয় এবং বিল-ভাউচার যাচাই করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

আরও পড়ুনঃ  ধর্মপাশায় জলমহালের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা

বিশেষ করে সাপটানা আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্মিত ঘরের বর্তমান অবস্থা, অনুমোদিত নকশা ও সুবিধার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের সামঞ্জস্য এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো ঘরে নির্মাণের পরপরই পানি প্রবেশ বা অনুমোদিত সুবিধা না থাকার অভিযোগ সত্য হলে তা নির্মাণমান ও তদারকির বিষয়টি সামনে আনবে।

এদিকে প্রকল্প সভাপতি কাগজে থাকলেও বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা সীমিত ছিল—এমন অভিযোগও প্রকাশিত প্রতিবেদনে করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়ভাবে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের কাজ স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে—

১. বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে;

২. অনুমোদিত প্রকল্পের কাজের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজের কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না;

৩. প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন, ব্যয়, ফেরত ও বিল পরিশোধে সরকারি বিধি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও পরিষ্কার করার সুযোগ থাকবে।

সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের অর্থ হওয়ায় এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই সাপটানা আবাসন প্রকল্পসহ লালমনিরহাট সদর পিআইও কার্যালয়ের আওতাধীন আলোচিত প্রকল্পগুলোর নথি, হিসাব ও মাঠপর্যায়ের কাজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।