Dhaka ০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
মা ইলিশ রক্ষায় কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার নরসিংদীর শিবপুরে মাদক মামলায় একজনের দুই মাসের কারাদণ্ড, শব্দদূষণে জরিমানা ঝিকরগাছা থানার ভেতরে মারধর, অর্থ দাবি ও টাকা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এএসআই আশরাফুলের বিরুদ্ধে চুয়েটে শাটডাউন প্রত্যাহার, ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত স্বল্প আয়েও সুখী জীবন, উদাহরণ সৃষ্টি করলেন কুমিল্লার খালেক মিয়া ঠাকুরগাঁওয়ে ১১০ পিস টাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ২ রাষ্ট্রপতি দেখতে গেলেন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীকে বগুড়ায় ৪৫ দিনের নবজাতককে কোলে নিয়ে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার!!
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

” শৈশবের সেকাল, একাল; স্ক্রিনের ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাটিমের হাসি“

 

সাকিব আহসান,প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ মাটির মাঠে লাটিম ঘুরছে না, মার্বেল ছিটকে গোধূলি পর্যন্ত বাপে-মাতের ডাকেই ছেলেরা স্ক্রিনে ঝুঁকে পড়ে—এই দৃশ্য আজকের অনেক গ্রাম ও শহরের জন্য আর অদ্ভুত কিছু নয়। স্মার্টফোন-ভিত্তিক পৃথিবীতেড় শিশু-কিশোরদের ব্যস্ততা বদলে গেছে; খেলার মাঠ সরসাম, সাবলীল মুখ-মুখো কথা কমে, এবং ছোটখাটো জিনিসেই দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

গত দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ফলে দেখা যায় ক্ষুদ্রতর সংঘাতেও অতিরিক্ত উত্তেজনা ও তুচ্ছ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া,পরমতসহিষ্ণুতা কমে আসা,মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া,সাইবারবুলিং, অনুচিত কনটেন্টের গ্রহণ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন,শারীরিক ক্রিয়াশীলতার হ্রাস এবং সামাজিকভাবে মিশে থাকার দক্ষতা কমে যাওয়া।

এগুলো সমষ্টিগতভাবে শিশুমনের বিকাশে, বিদ্যালয় জীবনে ও পারিবারিক সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র ফোন দায়ী নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা একসাথে কাজ করছে,স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সাশ্রয়ী হওয়া,বাবা-মায়ের ব্যস্ততা,অনেকে শিশুকে ‘নীরব রাখার’ জন্য স্ক্রিন দেন। তাছাড়া খোলা মাঠের অভাব তো রয়েছেই।

স্ক্রিন-নির্ভর শিশুমনে দ্রুত অনুভূতি-প্রসূত প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেলে সমাজে নেতিবাচক ফলও দেখা দেয়—বহু সময় ছোট সামাজিক বিরোধ ইন্টারনেটে তীব্র হয়ে ওঠে, যাকে অনলাইনে বাড়তি জোরালো প্রতিক্রিয়া জবরদস্তি করে।

স্থানীয় সংস্কৃতির উপচয়—সহমর্মিতা, মুখোমুখি আলোচনা ও সম্পর্ক মেরামত—সব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্কুলে মনোনিবেশ কমে পড়লে শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়। অথচ পুরনো দিনের লাটিম, মার্বেল, গোল্লাছুট–এসব সামান্য খেলা নয়—এসব ছিলো শারীরিক মোটর স্কিল ও হাত-চোখের সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যম,কৌশলভিত্তিক চিন্তা, পরিশ্রমে প্রতিদান শেখার প্ল্যাটফর্ম,দলে সঙ্গে খেলায় সহযোগিতা, নিয়ম মেনে চলার শিক্ষা,ক্ষতি-লাভ, হেরে যাওয়া -জিতে যাওয়ার মানসিক অন্তর্বৃত্তি ও সহনশীলতা গড়ে তোলা,স্থানীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ড শক্তিশালী করা।

এই সব গুণাবলী কেবল খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ ছিল না—এগুলো পরিণত করতো পরিপক্ক নাগরিক এবং সৃজনশীল চিন্তাবিদ।

আরও পড়ুনঃ  আমরাও একদিন মরে যাব!
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

মা ইলিশ রক্ষায় কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার

” শৈশবের সেকাল, একাল; স্ক্রিনের ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাটিমের হাসি“

সময়: ০৮:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

সাকিব আহসান,প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ মাটির মাঠে লাটিম ঘুরছে না, মার্বেল ছিটকে গোধূলি পর্যন্ত বাপে-মাতের ডাকেই ছেলেরা স্ক্রিনে ঝুঁকে পড়ে—এই দৃশ্য আজকের অনেক গ্রাম ও শহরের জন্য আর অদ্ভুত কিছু নয়। স্মার্টফোন-ভিত্তিক পৃথিবীতেড় শিশু-কিশোরদের ব্যস্ততা বদলে গেছে; খেলার মাঠ সরসাম, সাবলীল মুখ-মুখো কথা কমে, এবং ছোটখাটো জিনিসেই দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

গত দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ফলে দেখা যায় ক্ষুদ্রতর সংঘাতেও অতিরিক্ত উত্তেজনা ও তুচ্ছ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া,পরমতসহিষ্ণুতা কমে আসা,মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া,সাইবারবুলিং, অনুচিত কনটেন্টের গ্রহণ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন,শারীরিক ক্রিয়াশীলতার হ্রাস এবং সামাজিকভাবে মিশে থাকার দক্ষতা কমে যাওয়া।

এগুলো সমষ্টিগতভাবে শিশুমনের বিকাশে, বিদ্যালয় জীবনে ও পারিবারিক সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র ফোন দায়ী নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা একসাথে কাজ করছে,স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সাশ্রয়ী হওয়া,বাবা-মায়ের ব্যস্ততা,অনেকে শিশুকে ‘নীরব রাখার’ জন্য স্ক্রিন দেন। তাছাড়া খোলা মাঠের অভাব তো রয়েছেই।

স্ক্রিন-নির্ভর শিশুমনে দ্রুত অনুভূতি-প্রসূত প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেলে সমাজে নেতিবাচক ফলও দেখা দেয়—বহু সময় ছোট সামাজিক বিরোধ ইন্টারনেটে তীব্র হয়ে ওঠে, যাকে অনলাইনে বাড়তি জোরালো প্রতিক্রিয়া জবরদস্তি করে।

স্থানীয় সংস্কৃতির উপচয়—সহমর্মিতা, মুখোমুখি আলোচনা ও সম্পর্ক মেরামত—সব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্কুলে মনোনিবেশ কমে পড়লে শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়। অথচ পুরনো দিনের লাটিম, মার্বেল, গোল্লাছুট–এসব সামান্য খেলা নয়—এসব ছিলো শারীরিক মোটর স্কিল ও হাত-চোখের সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যম,কৌশলভিত্তিক চিন্তা, পরিশ্রমে প্রতিদান শেখার প্ল্যাটফর্ম,দলে সঙ্গে খেলায় সহযোগিতা, নিয়ম মেনে চলার শিক্ষা,ক্ষতি-লাভ, হেরে যাওয়া -জিতে যাওয়ার মানসিক অন্তর্বৃত্তি ও সহনশীলতা গড়ে তোলা,স্থানীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ড শক্তিশালী করা।

এই সব গুণাবলী কেবল খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ ছিল না—এগুলো পরিণত করতো পরিপক্ক নাগরিক এবং সৃজনশীল চিন্তাবিদ।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান