
স্টাফ রিপোর্টার:
গুরুদাসপুর উপজেলার বামনকোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মাসুদ রানা (সুমন) দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিজ্ঞ আমলী আদালত, গুরুদাসপুরে দায়ের করা সি.আর-৬৫১/২০২৪ (গুরু) মামলার মাধ্যমে নিজের পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় জমিতে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ এবং ফসল নষ্টের বিচার চেয়েছিলেন তিনি।
দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪২৭/৫০৬(II) ধারায় দায়ের করা মামলাটির তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মিললেও বিচারিক প্রক্রিয়ার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাক্ষীদের নিরাপত্তা সংকট।
ঘটনার বিবরণ
মামলার আরজি ও ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ সকালে ১১ জন অভিযুক্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুদ রানার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে রোপণ করা খেজুরি কলাই ও খেসারি কলাই উপড়ে ফেলেন এবং কীটনাশক ছিটিয়ে ফসল নষ্ট করেন। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযুক্তদের পরিচয়
মামলায় অভিযুক্ত ১১ জনই মশিন্দা শিকারপাড়া গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রয়েছেন সোরাব মন্ডল, লতিফ মন্ডল, সরোয়ার মন্ডল, নূর মন্ডল, নিজাম মন্ডল, নাজিম মন্ডল, মিজান মন্ডল, নাজমুল মন্ডল, রিপন মন্ডল, কাশেম প্রামাণিক ও রাজু মন্ডল।
অসহায় এক পিতার আর্তনাদ
শারীরিক প্রতিবন্ধী মাসুদ রানার দুই সন্তান—সাদিয়া পারভীন মুক্তা ও আনাস ইকবাল আসিরও গুরুতর প্রতিবন্ধকতার শিকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া, সন্তানদের চিকিৎসা ও পড়াশোনার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
নির্ধারিত দিনেও সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, আসামিদের হুমকির মুখে সাক্ষীরা প্রাণভয়ে আদালতে আসতে পারছেন না।
মাসুদ রানা বলেন, “নিজের অধিকার আদায়ের চেয়ে অন্যের জীবনের নিরাপত্তা আমার কাছে বড়। যে মামলা চালাতে গিয়ে নিরপরাধ সাক্ষীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, সে মামলা আমি আর চালাতে চাই না।”
তিনি তার ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Reporter Name 






















