
মোহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ্
বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো দৈনিক আমার কাগজ-এর ২৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা সুশাসন এবং গণতন্ত্র একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে বলেছেন, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। আর সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
গতকাল প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁও-এর পদ্মা হলরুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম, যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, এন্টি টেরোরিজম ইউনিট প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বিএফইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বিএসআরএফ’র সাবেক সভাপতি ফসিহউদ্দিন মাহতাব, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি, লেখক ও কলামিস্ট পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক কাজী জিয়া উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূইয়া রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক রখফার সুলতানা খানম এবং দৈনিক আমার কাগজ-এর বার্তা সম্পাদক তোফায়েল হোসেন।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও বিদগ্ধজনদের উপস্থিতি এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। সেখানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, সাবেক সচিব বেলায়েত হোসেন, সাবেক সচিব আবু সাঈদ, সাবেক সচিব নূর মোহাম্মদ মজুমদার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রতন পন্ডিত, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ইমরুল চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ভূবন বিশ্বাস, সাবেক বিএডিসি চেয়ারম্যান গ্রেড-১ এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফ হোসেন, ডাক্তার আতাউল্যা, ডাক্তার নাজমুল হক মুন্না, ডাক্তার আসিফ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর-ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম, প্রশিকার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রোকেয়া ইসলাম, গণপূর্তের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল কবীর, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক ও সাবেক সচিব মেজবাহুন নবী, ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ চৌধুরী, স্টার লাইন গ্রুপের পরিচালক মাঈন উদ্দিন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ফায়জুল হক, সাবেক তথ্য কর্মকর্তা এ এফ এম আমিনুল হক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সুশাসন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা একে অপরের পরিপূরক। এই দুইয়ের সহাবস্থান না থাকলে একটি রাষ্ট্র কখনও টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতি কিংবা আন্তর্জাতিক মর্যাদায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বচ্ছতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন তথ্য প্রবাহ মুক্ত এবং সাংবাদিকতা দায়িত্বশীলভাবে স্বাধীন।
আরো বলা হয়, সুশাসন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ, এবং গণমাধ্যম, সবাই একসাথে কাজ করে। কিন্তু এই সমন্বয়ের ভেতরে গণমাধ্যমের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যম অন্য সবার মতো শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, এটি পর্যবেক্ষক, এটি বিশ্লেষক, এবং অনেক সময় এটি সতর্ক সংকেত প্রদানকারী। যখন রাষ্ট্র সঠিক পথে থাকে, গণমাধ্যম সেটিকে শক্তিশালী করে। আর যখন রাষ্ট্র ভুল পথে যায়, গণমাধ্যম সেটিকে সতর্ক করে। এই ভারসাম্যটিই সুশাসনের মূল।
এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং অনুসন্ধানী গণমাধ্যমÑ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, বরং রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
Reporter Name 





















