Dhaka ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ত্রিশালে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেফতার শরিফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গ্রীন রোড শো মানুষকে পরিবেশ সচেতন করে তুলবে ভালো বেতনের চাকুরির দেওয়ার প্রলোভন দেকিয়ে নোয়াখালীর যুবক কে কালীগঞ্জে ডেকে এনে অপহরণ করে মুক্তি পনের জন্য নির্যাতন চার যুবক আটক বুড়িচংয়ে ৩ হাজার ৩৩০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন মরিচ ক্ষেতে ১০ ফুট লম্বা গাঁজা গাছ উদ্ধার, কৃষকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি জামালপুর বিএনপির উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত- জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে জুলাই যোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন। আদর্শিক ও সাংগঠনিক উন্নয়নে মণিরামপুরে ইসলামী আন্দোলনের তালিম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ‎সুপার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে পুরাইকলা সবুজ বাংলা একাডেমির মুখ উজ্জ্বল করল সিদরাতুল মুনতাহা লামিয়া
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

আমেরিকার সামরিক চুক্তি নিয়ে চাপ প্রয়োগে ঢাকায় পল কাপুর

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ১২১ Time View

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:


দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এক বিশেষ মিশনে ঢাকা সফরে এসেছেন। সূত্র বলছে, কাপুরের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ নয়, বরং বিএনপি-নেতৃত্বাধীন কথিত সরকারের ওপর বিতর্কিত দুটি সামরিক চুক্তি—ACSA (অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং GSOMIA (জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট)—স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাপুরের ঢাকা পৌঁছানোর আগেই নেপালের কাঠমান্ডুতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর রিসোর্টে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও আমেরিকান প্রতিনিধিদলের এক নারী সদস্যের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই রিসোর্টটি আমেরিকান কূটনীতিক ও পরিকল্পনাকারীদের নিয়মিত বৈঠকের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে জানা যায়। বর্তমান ইউনুস সরকারের মাধ্যমে এই সামরিক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৯ ও ২০২২ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বাংলাদেশকে একটি ‘সফট বেস’ হিসেবে ব্যবহার করতে, যাতে প্রয়োজনে তাদের যুদ্ধবিমান ঢাকা ও কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবহার করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে। ACSA চুক্তির মাধ্যমে কক্সবাজার ও কুতুবদিয়ায় মার্কিন মেরিন সেনাদের অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পথও সুগম হতে পারে। অন্যদিকে, GSOMIA চুক্তির ফলে বাংলাদেশ মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে বাধ্য থাকবে এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই সামরিক মেরুকরণে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির কারণে দিল্লির সম্মতি ছাড়া ঢাকা এমন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ঠিক এই কারণেই পল কাপুর দিল্লি হয়ে ঢাকায় এসেছেন এবং একই সময়ে বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশীদের সংক্ষিপ্ত দিল্লি সফর অনেক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

পাশাপাশি, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন কৃষি, আইন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। একে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (ART)’ বাস্তবায়নের নামে পরোক্ষ চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বোয়িং বিমান বিক্রি থেকে শুরু করে কৃষিপণ্যের বাজার দখল—সবকিছুর আড়ালে মূলত সামরিক এজেন্ডা হাসিলই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৫ আগস্টের পর মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঘনঘন সফর এবং নভেম্বর মাসে সাবেক পররাষ্ট্র সচিবের ওয়াশিংটন সফর বাংলাদেশের নমনীয় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তির উপস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক কৌশলগত সমঝোতার মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র:

  • আইবিএননিউজ

  • হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ত্রিশালে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেফতার

আমেরিকার সামরিক চুক্তি নিয়ে চাপ প্রয়োগে ঢাকায় পল কাপুর

সময়: ০২:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:


দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এক বিশেষ মিশনে ঢাকা সফরে এসেছেন। সূত্র বলছে, কাপুরের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ নয়, বরং বিএনপি-নেতৃত্বাধীন কথিত সরকারের ওপর বিতর্কিত দুটি সামরিক চুক্তি—ACSA (অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং GSOMIA (জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট)—স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাপুরের ঢাকা পৌঁছানোর আগেই নেপালের কাঠমান্ডুতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর রিসোর্টে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও আমেরিকান প্রতিনিধিদলের এক নারী সদস্যের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই রিসোর্টটি আমেরিকান কূটনীতিক ও পরিকল্পনাকারীদের নিয়মিত বৈঠকের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে জানা যায়। বর্তমান ইউনুস সরকারের মাধ্যমে এই সামরিক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৯ ও ২০২২ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বাংলাদেশকে একটি ‘সফট বেস’ হিসেবে ব্যবহার করতে, যাতে প্রয়োজনে তাদের যুদ্ধবিমান ঢাকা ও কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবহার করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে। ACSA চুক্তির মাধ্যমে কক্সবাজার ও কুতুবদিয়ায় মার্কিন মেরিন সেনাদের অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পথও সুগম হতে পারে। অন্যদিকে, GSOMIA চুক্তির ফলে বাংলাদেশ মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে বাধ্য থাকবে এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই সামরিক মেরুকরণে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির কারণে দিল্লির সম্মতি ছাড়া ঢাকা এমন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ঠিক এই কারণেই পল কাপুর দিল্লি হয়ে ঢাকায় এসেছেন এবং একই সময়ে বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশীদের সংক্ষিপ্ত দিল্লি সফর অনেক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  হারানো বিজ্ঞপ্তি

পাশাপাশি, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন কৃষি, আইন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। একে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (ART)’ বাস্তবায়নের নামে পরোক্ষ চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বোয়িং বিমান বিক্রি থেকে শুরু করে কৃষিপণ্যের বাজার দখল—সবকিছুর আড়ালে মূলত সামরিক এজেন্ডা হাসিলই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৫ আগস্টের পর মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঘনঘন সফর এবং নভেম্বর মাসে সাবেক পররাষ্ট্র সচিবের ওয়াশিংটন সফর বাংলাদেশের নমনীয় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তির উপস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক কৌশলগত সমঝোতার মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র:

  • আইবিএননিউজ

  • হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ