Dhaka ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কমলগঞ্জে নবাগত ইউএনওর সাথে নিসচা কমলগঞ্জ শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নোয়াখালীর পৌর এলাকার শ্রীপুরে ব্যবসায়ী ফরহাদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার শ্রীনগর উপজেলা সচেতন নাগরিক তন্তর ইউনিয়ন শাখার ৬ মাস মেয়াদি কমিটি ঘোষণা সিরাজদিখানে কৃষি পরিবারের সন্তানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হরমুজ ইস্যুতে ওমানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি কৃষি ও পল্লী ঋণে এবার ৬০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য জালিয়াতির অভিযোগে দুই মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অর্থবছরের সময় বদলাচ্ছে, এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন হিসাব বছর মামলা থাকলে মিলবে না নীতি সহায়তা, আগে প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক সড়ক-বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে বিন্না ঘাস ব্যবহারের উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

আলপনা মোসাদ্দেক; সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতার এক অনুপ্রেরণার নাম

  • Reporter Name
  • সময়: ০১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ২০৪ Time View

স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যারা পথচলা শুরু করেন, সময় একদিন তাদের পরিচয়কে সম্মানের আসনে পৌঁছে দেয়। প্রতিকূলতার ভেতর থেকেও যারা নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলেন, তাদের জীবন হয়ে ওঠে অন্যদের জন্য প্রেরণার গল্প। তেমনই এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব আলপনা মোসাদ্দেক। চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সাফল্য, ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মানবজীবনের রির্পোটার জান্নাত প্রীতি কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে।

 

মানবজীবন: আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে জানতে চাই।

আলপনা মোসাদ্দেক: আমার জন্ম ১৯৬৮ সালের ১ অক্টোবর জামালপুরের সরিষাবাড়ির নানা বাড়িতে। তবে আমার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। ছোটবেলা থেকেই জীবনের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছি। পরিবার, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেছে নিজের একটি অবস্থান গড়ে তুলতে।

মানবজীবন: বর্তমানে আপনি বিভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত। নিজের কর্মজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং হোপেজ হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ‘আলপনা বুটিকস’ পরিচালনা করছি। এছাড়া মানবজীবন পত্রিকার সহ-সম্পাদক, একটি মাদ্রাসার সহ-সভাপতি, মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী ও রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত আছি। কৃষি খামার ও জমি ব্যবসার মতো ক্ষেত্রেও কাজ করছি।

মানবজীবন: আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রামের সময় কোনটি ছিল?

আলপনা মোসাদ্দেক: অল্প বয়সেই আমার বিয়ে হয়। তখন সামনে ছিল এসএসসি পরীক্ষার স্বপ্ন। কিন্তু সংসার ও বাস্তবতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে মাতৃত্বের দায়িত্ব আসে। সংসার, সন্তান ও নানা বাধা মিলিয়ে নিজের স্বপ্নগুলো যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি কখনো ভেঙে পড়িনি।

 

 

মানবজীবন: দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনায় ফিরে আসার সাহস কীভাবে পেলেন?

আরও পড়ুনঃ  শরিয়াহভিত্তিক নৈতিক ব্যবসার প্রত্যয়ে BICCI-এর প্রথম সদস্য সম্মেলন

আলপনা মোসাদ্দেক: ভেতরে সবসময় একটা ইচ্ছা কাজ করত যে আমাকে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। সেই ইচ্ছাশক্তিই আমাকে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনে। ২০০৮ সালে উন্মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। আমার কাছে এটি শুধু পরীক্ষায় পাস নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে ফিরে পাওয়ার গল্প।

 

মানবজীবন: নিজের সফলতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি মনে করি জীবনের প্রতিটি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারাই সফলতা। সংসার, সন্তান, পড়াশোনা, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে আমি নিজেকে প্রায় শতভাগ সফল মনে করি। সফলতা শুধু অর্থ বা পদবিতে নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেও রয়েছে।

মানবজীবন: নারী জীবনের সংগ্রামকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি মনে করি নারী মানেই এক অবিরাম যুদ্ধ। একজন নারীকে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। কখনো সংসারের দায়িত্ব, কখনো সামাজিক বাধা, আবার কখনো নিজের স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। তবে যারা হাল ছাড়ে না, তারাই একদিন নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে।

মানবজীবন: একজন নারী উদ্যোক্তার সফলতার মূল চাবিকাঠি কী?

আলপনা মোসাদ্দেক: নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি অটল বিশ্বাস। সমাজে অনেক নেতিবাচক কথা থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সেগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। বাধা আসবেই, কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করার মানসিকতাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মানবজীবন: একজন নারীর সফলতার ক্ষেত্রে পারিবারিক সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আলপনা মোসাদ্দেক: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি মেয়ে বাবার বাড়িতে আদর-ভালোবাসায় বড় হয়। বিয়ের পর স্বামীই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ। একজন নারী যদি স্বামীর সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন না পান, তাহলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমি সবসময় বলি—
“সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে, গুণবান স্বামী যদি থাকে তার সনে।”
নারী-পুরুষ উভয়ের বোঝাপড়াই সুন্দর সংসারের মূল ভিত্তি।

আরও পড়ুনঃ  ১৮০ দিনে পুঁজিবাজারে বদলের ছক, সরকারের বড় উদ্যোগগুলো কী

মানবজীবন: নারী নির্যাতন বন্ধে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আলপনা মোসাদ্দেক: প্রথমেই প্রতিটি নারীকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। শিক্ষা একজন নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। বিয়ের আগে প্রতিটি মেয়েকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা খুব জরুরি। একজন শক্তিশালী নারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।

মানবজীবন: জীবনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই।

আলপনা মোসাদ্দেক: একসময় আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে মানুষকে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। এই চিন্তা আমাকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। এরপর আমি তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত হই। অনেক বাধা এসেছে, কিন্তু আমি সেই পথ থেকে সরে আসিনি। ইসলামী মূল্যবোধ এখন আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মানবজীবন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি বিশেষভাবে অসহায় বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই। তাদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীদের সচেতন ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রেও কাজ করতে চাই।

 

মানবজীবন: জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নারীদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি বলতে চাই, কোনো বাধাকেই শেষ মনে করা যাবে না। ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে মানুষ অবশ্যই একদিন সফল হবে। একজন সচেতন, শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারীই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে। তাই নারীদের কখনো নিজের স্বপ্ন থেকে সরে আসা উচিত নয়।0

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কমলগঞ্জে নবাগত ইউএনওর সাথে নিসচা কমলগঞ্জ শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

আলপনা মোসাদ্দেক; সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতার এক অনুপ্রেরণার নাম

সময়: ০১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যারা পথচলা শুরু করেন, সময় একদিন তাদের পরিচয়কে সম্মানের আসনে পৌঁছে দেয়। প্রতিকূলতার ভেতর থেকেও যারা নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলেন, তাদের জীবন হয়ে ওঠে অন্যদের জন্য প্রেরণার গল্প। তেমনই এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব আলপনা মোসাদ্দেক। চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সাফল্য, ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মানবজীবনের রির্পোটার জান্নাত প্রীতি কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে।

 

মানবজীবন: আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে জানতে চাই।

আলপনা মোসাদ্দেক: আমার জন্ম ১৯৬৮ সালের ১ অক্টোবর জামালপুরের সরিষাবাড়ির নানা বাড়িতে। তবে আমার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। ছোটবেলা থেকেই জীবনের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছি। পরিবার, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেছে নিজের একটি অবস্থান গড়ে তুলতে।

মানবজীবন: বর্তমানে আপনি বিভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত। নিজের কর্মজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং হোপেজ হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ‘আলপনা বুটিকস’ পরিচালনা করছি। এছাড়া মানবজীবন পত্রিকার সহ-সম্পাদক, একটি মাদ্রাসার সহ-সভাপতি, মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী ও রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত আছি। কৃষি খামার ও জমি ব্যবসার মতো ক্ষেত্রেও কাজ করছি।

মানবজীবন: আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রামের সময় কোনটি ছিল?

আলপনা মোসাদ্দেক: অল্প বয়সেই আমার বিয়ে হয়। তখন সামনে ছিল এসএসসি পরীক্ষার স্বপ্ন। কিন্তু সংসার ও বাস্তবতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে মাতৃত্বের দায়িত্ব আসে। সংসার, সন্তান ও নানা বাধা মিলিয়ে নিজের স্বপ্নগুলো যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি কখনো ভেঙে পড়িনি।

 

 

মানবজীবন: দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনায় ফিরে আসার সাহস কীভাবে পেলেন?

আরও পড়ুনঃ  অর্থের অভাবে থমকে যাচ্ছে চা বিক্রেতা বাবার দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

আলপনা মোসাদ্দেক: ভেতরে সবসময় একটা ইচ্ছা কাজ করত যে আমাকে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। সেই ইচ্ছাশক্তিই আমাকে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনে। ২০০৮ সালে উন্মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। আমার কাছে এটি শুধু পরীক্ষায় পাস নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে ফিরে পাওয়ার গল্প।

 

মানবজীবন: নিজের সফলতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি মনে করি জীবনের প্রতিটি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারাই সফলতা। সংসার, সন্তান, পড়াশোনা, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে আমি নিজেকে প্রায় শতভাগ সফল মনে করি। সফলতা শুধু অর্থ বা পদবিতে নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেও রয়েছে।

মানবজীবন: নারী জীবনের সংগ্রামকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি মনে করি নারী মানেই এক অবিরাম যুদ্ধ। একজন নারীকে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। কখনো সংসারের দায়িত্ব, কখনো সামাজিক বাধা, আবার কখনো নিজের স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। তবে যারা হাল ছাড়ে না, তারাই একদিন নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে।

মানবজীবন: একজন নারী উদ্যোক্তার সফলতার মূল চাবিকাঠি কী?

আলপনা মোসাদ্দেক: নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি অটল বিশ্বাস। সমাজে অনেক নেতিবাচক কথা থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সেগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। বাধা আসবেই, কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করার মানসিকতাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মানবজীবন: একজন নারীর সফলতার ক্ষেত্রে পারিবারিক সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আলপনা মোসাদ্দেক: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি মেয়ে বাবার বাড়িতে আদর-ভালোবাসায় বড় হয়। বিয়ের পর স্বামীই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ। একজন নারী যদি স্বামীর সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন না পান, তাহলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমি সবসময় বলি—
“সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে, গুণবান স্বামী যদি থাকে তার সনে।”
নারী-পুরুষ উভয়ের বোঝাপড়াই সুন্দর সংসারের মূল ভিত্তি।

আরও পড়ুনঃ  গণিত অলিম্পিয়াডের পদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

মানবজীবন: নারী নির্যাতন বন্ধে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আলপনা মোসাদ্দেক: প্রথমেই প্রতিটি নারীকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। শিক্ষা একজন নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। বিয়ের আগে প্রতিটি মেয়েকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা খুব জরুরি। একজন শক্তিশালী নারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।

মানবজীবন: জীবনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই।

আলপনা মোসাদ্দেক: একসময় আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে মানুষকে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। এই চিন্তা আমাকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। এরপর আমি তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত হই। অনেক বাধা এসেছে, কিন্তু আমি সেই পথ থেকে সরে আসিনি। ইসলামী মূল্যবোধ এখন আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মানবজীবন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি বিশেষভাবে অসহায় বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই। তাদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীদের সচেতন ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রেও কাজ করতে চাই।

 

মানবজীবন: জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নারীদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

আলপনা মোসাদ্দেক: আমি বলতে চাই, কোনো বাধাকেই শেষ মনে করা যাবে না। ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে মানুষ অবশ্যই একদিন সফল হবে। একজন সচেতন, শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারীই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে। তাই নারীদের কখনো নিজের স্বপ্ন থেকে সরে আসা উচিত নয়।0