Dhaka ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে লিটার প্রতি কত? দেনমোহর না দিয়ে স্ত্রীকে আদালতে যেতে বাধ্য করলে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবেন পারিবারিক আদালত নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করে চিকিৎসকের ফেসবুক পোস্ট,’ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’ গঙ্গা চুক্তি শুধু নবায়ন নয়, নতুন করে করতে হবে: নাহিদ ইসলাম মধুপুরে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে ভাসমান দোকান উচ্ছেদ, জব্দ সরঞ্জাম দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী সড়ক, রেল ও বিদ্যুৎ খাতসহ ১৩ প্রকল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে ডিসিএইচ ট্রাস্টকে আহ্বান রাষ্ট্রপতির আপসনামার ভিত্তিতে গাজী নজরুলকে জামিন দিলে ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে: আদালত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ Time View

 

বিশেষ প্রতিনিধি:


যুক্তরাজ্যে (ইউকে) ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুবিচার ও পাওনা টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সূত্রে তিনি ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী ১নং বিবাদী এবং ২নং বিবাদী ইমন আহমদের সাথে যোগাযোগ করেন। গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অফিসে আলোচনার পর বিবাদীরা জানান যে, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য মোট ১৭,৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা) খরচ হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রসেসিং ফি হিসেবে একই দিনে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার চেক (নং-বিএস২৫-১২৮৭৭১২) প্রদান করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল- কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রদত্ত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিবাদীগণ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জানান যে, তাঁর ভিসার ‘কস’ (COS) চলে এসেছে এবং দ্রুত অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিবাদীদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

টাকা হস্তান্তরের বিবরণ :

১. ২০/১১/২০২৪: বাদীর পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৬,৫০,০০০ টাকা।
২. ২০/১১/২০২৪: মাহমুদুল হাসানের পূবালী ব্যাংক (শাহজালাল উপশহর শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৪,০০,০০০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  মানবাধিকার সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ

৩. ২৫/১১/২০২৪: সুফিয়া বেগমের পূবালী ব্যাংক (শাহগলি বাজার শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৫,০০,০০০ টাকা।
৪. ২৬/১১/২০২৪: ইমা বেগম ও মুরাদ আহমদের সিটি ব্যাংক (বিয়ানীবাজার শাখা) হিসাব থেকে ২নং বিবাদী ইমন আহমদের ডাচ-বাংলা ব্যাংক (উপশহর শাখা) হিসাবে ১০,০০,০০০ টাকা।
৫. ০৯/১২/২০২৪: তাছমিম জাহানের পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ১,২০,০০০ টাকা।
৬. ০৯/১২/২০২৪: ক্যাশ ডিপোজিটের মাধ্যমে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে আরও ৬০,১২০ টাকা।

পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদীর ভিসা রিফিউজ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২নং বিবাদীর পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার কোনো দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানান। একই দিনে হোয়াটসঅ্যাপে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞাতনামা লোকজন দিয়ে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বাদী জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে লিটার প্রতি কত?

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সময়: ১১:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধি:


যুক্তরাজ্যে (ইউকে) ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুবিচার ও পাওনা টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সূত্রে তিনি ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী ১নং বিবাদী এবং ২নং বিবাদী ইমন আহমদের সাথে যোগাযোগ করেন। গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অফিসে আলোচনার পর বিবাদীরা জানান যে, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য মোট ১৭,৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা) খরচ হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রসেসিং ফি হিসেবে একই দিনে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার চেক (নং-বিএস২৫-১২৮৭৭১২) প্রদান করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল- কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রদত্ত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিবাদীগণ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জানান যে, তাঁর ভিসার ‘কস’ (COS) চলে এসেছে এবং দ্রুত অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিবাদীদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

টাকা হস্তান্তরের বিবরণ :

১. ২০/১১/২০২৪: বাদীর পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৬,৫০,০০০ টাকা।
২. ২০/১১/২০২৪: মাহমুদুল হাসানের পূবালী ব্যাংক (শাহজালাল উপশহর শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৪,০০,০০০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  দুই পায়ে হাঁটতে পারেন না কামাল, জীবিকার তাগিদে ওঠেন গাছের মগডালে

৩. ২৫/১১/২০২৪: সুফিয়া বেগমের পূবালী ব্যাংক (শাহগলি বাজার শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৫,০০,০০০ টাকা।
৪. ২৬/১১/২০২৪: ইমা বেগম ও মুরাদ আহমদের সিটি ব্যাংক (বিয়ানীবাজার শাখা) হিসাব থেকে ২নং বিবাদী ইমন আহমদের ডাচ-বাংলা ব্যাংক (উপশহর শাখা) হিসাবে ১০,০০,০০০ টাকা।
৫. ০৯/১২/২০২৪: তাছমিম জাহানের পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ১,২০,০০০ টাকা।
৬. ০৯/১২/২০২৪: ক্যাশ ডিপোজিটের মাধ্যমে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে আরও ৬০,১২০ টাকা।

পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদীর ভিসা রিফিউজ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২নং বিবাদীর পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার কোনো দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানান। একই দিনে হোয়াটসঅ্যাপে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞাতনামা লোকজন দিয়ে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বাদী জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।