Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
লালমনিরহাট সদরে প্রকল্পের রক্ষক যখন ভক্ষক, পিআইওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রোহিঙ্গা সংকট ছাড়িয়েছে মানবিকতার গণ্ডি, যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তা ও অভিবাসন উদ্বেগ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিদেশে পালানোর আশঙ্কা, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা সংবিধানে নিশ্চিত করা হবে চাঁদা না পেয়ে পিস্তল তাক, পরে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি বুড়িচংয়ের কংশনগর বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি,দুই রেস্টুরেন্টকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা খুলনায় তিন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা মসজিদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির শিমু হত্যা মামলায় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য, আত্মপক্ষ শুনানি ২৬ অক্টোবর
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ Time View

 

বিশেষ প্রতিনিধি:


যুক্তরাজ্যে (ইউকে) ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুবিচার ও পাওনা টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সূত্রে তিনি ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী ১নং বিবাদী এবং ২নং বিবাদী ইমন আহমদের সাথে যোগাযোগ করেন। গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অফিসে আলোচনার পর বিবাদীরা জানান যে, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য মোট ১৭,৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা) খরচ হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রসেসিং ফি হিসেবে একই দিনে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার চেক (নং-বিএস২৫-১২৮৭৭১২) প্রদান করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল- কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রদত্ত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিবাদীগণ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জানান যে, তাঁর ভিসার ‘কস’ (COS) চলে এসেছে এবং দ্রুত অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিবাদীদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

টাকা হস্তান্তরের বিবরণ :

১. ২০/১১/২০২৪: বাদীর পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৬,৫০,০০০ টাকা।
২. ২০/১১/২০২৪: মাহমুদুল হাসানের পূবালী ব্যাংক (শাহজালাল উপশহর শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৪,০০,০০০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  লালমনিরহাট সদরে প্রকল্পের রক্ষক যখন ভক্ষক, পিআইওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

৩. ২৫/১১/২০২৪: সুফিয়া বেগমের পূবালী ব্যাংক (শাহগলি বাজার শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৫,০০,০০০ টাকা।
৪. ২৬/১১/২০২৪: ইমা বেগম ও মুরাদ আহমদের সিটি ব্যাংক (বিয়ানীবাজার শাখা) হিসাব থেকে ২নং বিবাদী ইমন আহমদের ডাচ-বাংলা ব্যাংক (উপশহর শাখা) হিসাবে ১০,০০,০০০ টাকা।
৫. ০৯/১২/২০২৪: তাছমিম জাহানের পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ১,২০,০০০ টাকা।
৬. ০৯/১২/২০২৪: ক্যাশ ডিপোজিটের মাধ্যমে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে আরও ৬০,১২০ টাকা।

পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদীর ভিসা রিফিউজ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২নং বিবাদীর পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার কোনো দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানান। একই দিনে হোয়াটসঅ্যাপে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞাতনামা লোকজন দিয়ে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বাদী জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

লালমনিরহাট সদরে প্রকল্পের রক্ষক যখন ভক্ষক, পিআইওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সময়: ১১:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধি:


যুক্তরাজ্যে (ইউকে) ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুবিচার ও পাওনা টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সূত্রে তিনি ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী ১নং বিবাদী এবং ২নং বিবাদী ইমন আহমদের সাথে যোগাযোগ করেন। গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অফিসে আলোচনার পর বিবাদীরা জানান যে, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য মোট ১৭,৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা) খরচ হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রসেসিং ফি হিসেবে একই দিনে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার চেক (নং-বিএস২৫-১২৮৭৭১২) প্রদান করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল- কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রদত্ত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিবাদীগণ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জানান যে, তাঁর ভিসার ‘কস’ (COS) চলে এসেছে এবং দ্রুত অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিবাদীদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

টাকা হস্তান্তরের বিবরণ :

১. ২০/১১/২০২৪: বাদীর পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৬,৫০,০০০ টাকা।
২. ২০/১১/২০২৪: মাহমুদুল হাসানের পূবালী ব্যাংক (শাহজালাল উপশহর শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৪,০০,০০০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  দুই পায়ে হাঁটতে পারেন না কামাল, জীবিকার তাগিদে ওঠেন গাছের মগডালে

৩. ২৫/১১/২০২৪: সুফিয়া বেগমের পূবালী ব্যাংক (শাহগলি বাজার শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৫,০০,০০০ টাকা।
৪. ২৬/১১/২০২৪: ইমা বেগম ও মুরাদ আহমদের সিটি ব্যাংক (বিয়ানীবাজার শাখা) হিসাব থেকে ২নং বিবাদী ইমন আহমদের ডাচ-বাংলা ব্যাংক (উপশহর শাখা) হিসাবে ১০,০০,০০০ টাকা।
৫. ০৯/১২/২০২৪: তাছমিম জাহানের পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ১,২০,০০০ টাকা।
৬. ০৯/১২/২০২৪: ক্যাশ ডিপোজিটের মাধ্যমে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে আরও ৬০,১২০ টাকা।

পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদীর ভিসা রিফিউজ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২নং বিবাদীর পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার কোনো দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানান। একই দিনে হোয়াটসঅ্যাপে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞাতনামা লোকজন দিয়ে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বাদী জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।