লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) উন্নয়ন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে বিল উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল-আমিন সরকারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি জুন মাসে অর্থবছর ক্লোজের টার্গেট সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে যাচাই না করেই বিভিন্ন প্রকল্পের বিল ও চেক প্রস্তুত ও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকল্পের রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর-নগদ টাকা) কর্মসূচির আওতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার সাপটানা আবাসনের ভেতরে অবস্থিত পৌর শিশু নিকেতন স্কুলের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল-আমিন সরকার এ প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রাশেদকে দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাশেদ শুধু ওই প্রকল্পের সভাপতি নন; পিআইওর আস্থাভাজন হওয়ায় সাপটানা আবাসনের পুকুরপাড় সংস্কার প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পে পুকুরপাড় সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া ও উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে কাগজপত্রে প্রকল্প দুটির কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্প দুটির জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রকল্পের সভাপতি রাশেদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জোর করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে পিআইও আল-আমিন সরকারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, পৌর শিশু নিকেতন স্কুলে সাপটানা আবাসনের বাসিন্দাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে। সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পরও স্কুলটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, নামমাত্র উন্নয়ন দেখিয়ে ভাউচার তৈরি করে প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে।
এদিকে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির আওতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ‘ময়নুল মোহবীর বাড়ি হতে দোকান ভায়া ওপদা বাঁধ শাহআলী বাড়ি পর্যন্ত’ সড়কের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে নাজমুলের বাড়ির তেপতি থেকে ভায়া নূরজানমালের বাড়ি হয়ে হানিফের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির আওতায় শুধু রাস্তার উঁচু-নিচু অংশ সমান করে প্রথম দফার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টিআর-কাবিটা প্রকল্পের অধিকাংশ কাজই সঠিকভাবে করা হয়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘একদিন এসে রাস্তার ঘাস পরিষ্কার করে মাঝখানের গর্তগুলো সমান করে দিয়ে আর আসেনি। আমরা এখনো ভাঙা ও কাদাযুক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। আমাদের খোঁজখবরও কেউ নেয় না।’
তাদের দাবি, বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ দিয়েও যদি যথাযথভাবে কাজ করা হতো, তাহলে অন্তত রাস্তাগুলোর কিছুটা উন্নতি হতো। কিন্তু প্রকল্পে মূলত রাস্তার গর্ত ভরাট ও উঁচু-নিচু অংশ সমান করার মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পুরোনো রাস্তা সংস্কারের কাজকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে। বাস্তবে কাজ না করেও একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও পিআইওর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে বিল পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি একজন নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজেই করেছেন বলেও পিআইওর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল-আমিন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। পরবর্তীতে তিনি ‘স্ক্রিনশট রাখলাম’ বলে জানান।
Reporter Name 






















