Dhaka ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গঙ্গাচড়ায় দুই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৬৭ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি:


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পুকুরখুড়ি দোলার খাল এবং লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইশরকুল খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সহকারী অধ্যাপক রায়হান সিরাজী ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম, গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা মৌজার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর ইশরকুল খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১৪৯ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা, নন-ওয়েজ কস্ট বাবদ ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর মৌজার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরখুড়ি খালের ২ হাজার ১৬০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১২৮ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ২৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৯ টাকা, নন-ওয়েজ কস্ট বাবদ ২৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “প্রকল্পের প্রতিটি কাজ প্রশাসনের তদারকিতে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করা হবে।”

আরও পড়ুনঃ  গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।”

সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, “সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিত। সংশ্লিষ্টদের আশা, পুনঃখননের মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

 “বৃষ্টিতে সুখ–দুঃখ”

গঙ্গাচড়ায় দুই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন

সময়: ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি:


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পুকুরখুড়ি দোলার খাল এবং লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইশরকুল খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সহকারী অধ্যাপক রায়হান সিরাজী ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম, গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা মৌজার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর ইশরকুল খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১৪৯ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা, নন-ওয়েজ কস্ট বাবদ ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর মৌজার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরখুড়ি খালের ২ হাজার ১৬০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১২৮ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ২৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৯ টাকা, নন-ওয়েজ কস্ট বাবদ ২৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “প্রকল্পের প্রতিটি কাজ প্রশাসনের তদারকিতে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করা হবে।”

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে ৩০টি বেসরকারি এতিমখানার মাঝে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুদানের চেক বিতরণ

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।”

সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, “সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিত। সংশ্লিষ্টদের আশা, পুনঃখননের মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।