Dhaka ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আর, এম, পির বিশেষ চেকপোস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত দুলালের পাশে বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্ট চরিত্রই ছিল তাঁর শ্রেষ্ঠ পরিচয়: কুরআন ও হাদিসের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নরসিংদীতে গ্যাসের সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পলাশে দলীয় পরিচয়ে জমি জবরদখল ও কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ কেরানীগঞ্জে গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগ, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের দাবি বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবার নতুন দিগন্ত, নাগরিকদের জন্য মিলছে নানা সুযোগ-সুবিধা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই -ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদন রাসূল (সা.)সারা জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

দেবিদ্বারের ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ফিরোজের রাজত্বে ভূমি অফিস

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ২০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক || সিরিজ রিপোর্ট-০১

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ফিরোজ ভূঁইয়া, যেন আরেক রাজত্বের অফিস গড়ে তুলেছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে।

মাস তিনেক হয় দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেছেন। ফিরোজ যোগদান করার সাথে সাথে একত্রিত অফিসকে নিজের জন্য আলাদা কক্ষ গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে এমন রাজকীয়তা নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে যেই যেই স্থানে ছিলেন সেই সেই স্থানেও তার এমন রাজকীয়তা গড়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এখানেও তিনি এমন নজির স্থাপন করেছেন।

সাধারণ একটি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ভূমি অফিস তার মধ্যে ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব: ১/ নায়েব ফিরোজ ভূঁইয়া, ২/ অফিস সহায়ক নূরুল ইসলাম, ৩/ অফিস সহায়ক বকুল আক্তার, ৪/ ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাস মোট চারজন কর্মরত রয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাসকে তিন দিন গিয়েই দেখা গেছে কম্পিউটারে জমি খারিজ সহ খানা খারিজের কাজ করতে। ঝাড়ুদারকে দিয়ে যদি খারিজের মতন অনলাইন কাজ করানো হয় তাহলে সরকারি ভূমি সার্ভারের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নও উঠে। প্রশ্নও উঠে তহসিলদার ও অফিস সহায়কদেরকে নিয়েও। ঝাড়ুদার যদি এসব কাজ করতে পারেন তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কী প্রয়োজন?

ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বিভিন্ন সময় সেবা নিতে আসা লোকদের সাথে জমি খারিজ ও খারিজের বিষয় মোটা অংকের চুক্তি করে খাজনা ও খারিজ করার। এছাড়াও তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া ধামতী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা আসাদনগরে বাড়ি হওয়াতে তার আধিপত্য বিস্তার করছেন পারিবারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় যে, তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া কচি ডাব খেতে খুব পছন্দ করেন এছাড়াও তার বাড়ির জন্য তাজা সবজির অফিসে বসেই বাজার করেন। বিভিন্ন লোকরা তার অফিসে এনে দিয়ে যেতেই দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  পলাশে দলীয় পরিচয়ে জমি জবরদখল ও কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ, কালাম সহ রফিকুলের অভিযোগ খারিজ করতে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা খারিজ করতে হয়েছে। আরও অভিযোগ করেন জমি নিয়ে বড় সমস্যা থাকলে লাখ টাকাও গুনতে হয় এই অফিসে। তবে আগে এমন হত না কিন্তু তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া আসার পর থেকেই এমন চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে। তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া নিজে ডিল করেন না ঝাড়ুদার সহ অফিস সহায়কদেরকে দিয়ে তিনি এসব বেশিভাগ ডিল করার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খারিজ করতে আসা লোকদের কেউ কেউ ২০,৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কন্ট্রাক্ট করে খারিজ করাচ্ছেন। তাদের দাবি নাম প্রকাশ করলে তাদের খারিজ করতে সমস্যা হবে বলে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। তবে তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কুমিল্লা জেলার বড় বড় সাংবাদিকদের পরিচয় দেন খুব কাছের লোক ভাই বন্ধু বলেও। এসব বলে প্রতিবেদককে দমানোর চেষ্টা করতেও তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি।

তিনি ভূমি তহসিলদার সমিতির সদস্য হওয়ার পরেও তিনি ভোট দেন না চিনান না সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদেকেও। চিনার কিংবা ভোট প্রধানের প্রয়োজন পরে না কারন তিনি অনেক ক্ষমিতাধর।

তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া দেবিদ্বার উপজেলার আসাদনগরের আব্দুল রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে। তার কর্মস্থল ধামতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংলগ্ন এলাকা হওয়াতে তার আধিপত্য বেড়েই চলছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আর, এম, পির বিশেষ চেকপোস্ট

দেবিদ্বারের ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ফিরোজের রাজত্বে ভূমি অফিস

সময়: ১০:১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক || সিরিজ রিপোর্ট-০১

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ফিরোজ ভূঁইয়া, যেন আরেক রাজত্বের অফিস গড়ে তুলেছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে।

মাস তিনেক হয় দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেছেন। ফিরোজ যোগদান করার সাথে সাথে একত্রিত অফিসকে নিজের জন্য আলাদা কক্ষ গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে এমন রাজকীয়তা নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে যেই যেই স্থানে ছিলেন সেই সেই স্থানেও তার এমন রাজকীয়তা গড়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এখানেও তিনি এমন নজির স্থাপন করেছেন।

সাধারণ একটি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ভূমি অফিস তার মধ্যে ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব: ১/ নায়েব ফিরোজ ভূঁইয়া, ২/ অফিস সহায়ক নূরুল ইসলাম, ৩/ অফিস সহায়ক বকুল আক্তার, ৪/ ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাস মোট চারজন কর্মরত রয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাসকে তিন দিন গিয়েই দেখা গেছে কম্পিউটারে জমি খারিজ সহ খানা খারিজের কাজ করতে। ঝাড়ুদারকে দিয়ে যদি খারিজের মতন অনলাইন কাজ করানো হয় তাহলে সরকারি ভূমি সার্ভারের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নও উঠে। প্রশ্নও উঠে তহসিলদার ও অফিস সহায়কদেরকে নিয়েও। ঝাড়ুদার যদি এসব কাজ করতে পারেন তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কী প্রয়োজন?

ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বিভিন্ন সময় সেবা নিতে আসা লোকদের সাথে জমি খারিজ ও খারিজের বিষয় মোটা অংকের চুক্তি করে খাজনা ও খারিজ করার। এছাড়াও তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া ধামতী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা আসাদনগরে বাড়ি হওয়াতে তার আধিপত্য বিস্তার করছেন পারিবারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় যে, তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া কচি ডাব খেতে খুব পছন্দ করেন এছাড়াও তার বাড়ির জন্য তাজা সবজির অফিসে বসেই বাজার করেন। বিভিন্ন লোকরা তার অফিসে এনে দিয়ে যেতেই দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  আল মোস্তফা সুন্নিয়া মডেল মাদ্রাসায় সবক প্রদান ও জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সঃ) অনুষ্ঠিত

স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ, কালাম সহ রফিকুলের অভিযোগ খারিজ করতে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা খারিজ করতে হয়েছে। আরও অভিযোগ করেন জমি নিয়ে বড় সমস্যা থাকলে লাখ টাকাও গুনতে হয় এই অফিসে। তবে আগে এমন হত না কিন্তু তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া আসার পর থেকেই এমন চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে। তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া নিজে ডিল করেন না ঝাড়ুদার সহ অফিস সহায়কদেরকে দিয়ে তিনি এসব বেশিভাগ ডিল করার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খারিজ করতে আসা লোকদের কেউ কেউ ২০,৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কন্ট্রাক্ট করে খারিজ করাচ্ছেন। তাদের দাবি নাম প্রকাশ করলে তাদের খারিজ করতে সমস্যা হবে বলে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। তবে তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কুমিল্লা জেলার বড় বড় সাংবাদিকদের পরিচয় দেন খুব কাছের লোক ভাই বন্ধু বলেও। এসব বলে প্রতিবেদককে দমানোর চেষ্টা করতেও তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি।

তিনি ভূমি তহসিলদার সমিতির সদস্য হওয়ার পরেও তিনি ভোট দেন না চিনান না সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদেকেও। চিনার কিংবা ভোট প্রধানের প্রয়োজন পরে না কারন তিনি অনেক ক্ষমিতাধর।

তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া দেবিদ্বার উপজেলার আসাদনগরের আব্দুল রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে। তার কর্মস্থল ধামতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংলগ্ন এলাকা হওয়াতে তার আধিপত্য বেড়েই চলছে।