আশরাফুজ্জামান সরকার, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর কৃতি শিক্ষার্থী মোছাঃ ফাবিহা তাসনীম এশা ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
সে পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ফলাফল ঘোষণার পর তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের বন্যা বইছে।
এশা’র শিক্ষাজীবনের শুরু ২০১২ সালে পলাশবাড়ী পৌর শহরের সুপরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। ওই বিদ্যালয় থেকেই ২০১৭ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে প্রথমবারের মতো নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখে।
এরপর ২০২৩ সালে গ্রীনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের ২০২৫ সালে পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পুনরায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে সেই সাফল্য অব্যাহত রেখেছে।
এশা তার সাফল্যের জন্য মা-বাবা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এশা’র বাবা মোঃ ফেরদাউছ মিয়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সুপরিচিত সাংবাদিক ও শিক্ষক। তিনি দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি এবং গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মা মোছাঃ মাহমুদা বেগম লাইজু উপজেলার কিশোরগাড়ী ক্লাস্টারের কাতুলী ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
শিক্ষা ও নৈতিকতায় নিবেদিতপ্রাণ এই পরিবারেই বেড়ে উঠছে ফাবিহা তাসনীম এশা—যে ছোটবেলা থেকেই অনুপ্রাণিত সততা, পরিশ্রম ও মানবিকতার চেতনায়। ছোটবেলা থেকেই এশা’র স্বপ্ন একজন মানবিক ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই অদম্য স্বপ্নই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক নতুন গন্তব্যের পথে।
এশা’র সাফল্যে পরিবারে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীরা গর্বিত তার এই অর্জনে।
এশা’র বাবা-মা বলেন—
“এশা আমাদের একমাত্র সন্তান। ওর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলাবোধের ফলেই আজকের এই সাফল্য। আমরা কৃতজ্ঞ আল্লাহর কাছে। সবাই দোয়া করবেন, যেন আমাদের মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করে একজন ভালো মানুষ ও মানবিক ডাক্তার হতে পারে।”
সহপাঠী ও শিক্ষকদের মতে, এশা অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী। পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ বলেন,
“এশা খুব মনোযোগী ও লক্ষ্যনিষ্ঠ ছাত্রী। তার এই অর্জন আমাদেরও গর্বিত করেছে। ভবিষ্যতে সে আরও বড় কিছু অর্জন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আশরাফুজ্জামান সরকার ,গাইবান্ধা 


























