Dhaka ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, দেশজুড়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিজয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুড়িগ্রামে বিকাশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলা কিউআর সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় বিএবিএটি বাংলাদেশের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাখাবের বেনিদজে লুটপাট ও পাচারমুখী বাজেট সংশোধনের দাবিতে ফরিদগঞ্জে অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের উঠান বৈঠক পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জের মহিষখলা-কালাগড় সড়ক, ভেঙেছে কালভার্ট পলাশ উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি হাজ্বী শফিকুল ইসলাম স্বপনের মায়ের ৫ ম মৃত্যু বার্ষিকী অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা ২০২৬-এ ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে জরুরি ও পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ইউসুফ আলী হত্যা মামলায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৪ চাঁদপুরে মাটির নিচে গাঁজার ড্রাম, মাদক কারবারি আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভদ্রা নদীর পলি অপসারণ কাজ পরিদর্শন কৃষি ও জলাবদ্ধতামুক্ত এলাকার নিশ্চয়তা চান ভুক্তভোগী কৃষকরা

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):


ডুমুরিয়ার কৃষিনির্ভর পূর্বাঞ্চলের প্রাণরস হিসেবে পরিচিত হরি ভদ্রা নদীর নাব্যতা সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান পলি অপসারণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে বিভাগীয় ও উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৩টায় ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া এলাকায় হরি ভদ্রা নদীর পুনঃখনন ও পলি অপসারণ কাজ পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগী কৃষকরা।

ডোমরা বিলসহ ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরি ভদ্রা নদী। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীতে ড্রেজিং ও পলি অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলমান খনন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পলি অপসারণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে তাদের সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম।

তিনি বলেন, “হরি ভদ্রা নদী আমাদের এলাকার কৃষির প্রাণ। নদীতে দ্রুত পলি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলে জমে থাকা পানি নামতে পারছে না। সামনে রোপা আমন মৌসুম। নদী সময়মতো পরিষ্কার না হলে হাজার হাজার একর ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে এবং বহু মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  কোটচাঁদপুরের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পলি অপসারণ কাজ যেন শুধু সাময়িকভাবে না হয়; বরং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।”

প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে মোল্যা আবুল কাশেম বলেন, “বিভাগীয় কমিশনার, ইউএনও এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা সরাসরি আমাদের সমস্যা দেখতে এসেছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের দাবি হলো—ড্রেজিং কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে এবং নদীর ভাটি অঞ্চল পর্যন্ত পলি সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও মৎস্য চাষিরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।”

পরিদর্শন শেষে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন এবং ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে ড্রেজিং কার্যক্রম দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তারা আশ্বস্ত করেন, হরি ভদ্রা নদীর পলি অপসারণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, দেশজুড়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন

ভদ্রা নদীর পলি অপসারণ কাজ পরিদর্শন কৃষি ও জলাবদ্ধতামুক্ত এলাকার নিশ্চয়তা চান ভুক্তভোগী কৃষকরা

সময়: ০৯:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):


ডুমুরিয়ার কৃষিনির্ভর পূর্বাঞ্চলের প্রাণরস হিসেবে পরিচিত হরি ভদ্রা নদীর নাব্যতা সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান পলি অপসারণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে বিভাগীয় ও উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৩টায় ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া এলাকায় হরি ভদ্রা নদীর পুনঃখনন ও পলি অপসারণ কাজ পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগী কৃষকরা।

ডোমরা বিলসহ ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরি ভদ্রা নদী। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীতে ড্রেজিং ও পলি অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলমান খনন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পলি অপসারণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে তাদের সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম।

তিনি বলেন, “হরি ভদ্রা নদী আমাদের এলাকার কৃষির প্রাণ। নদীতে দ্রুত পলি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলে জমে থাকা পানি নামতে পারছে না। সামনে রোপা আমন মৌসুম। নদী সময়মতো পরিষ্কার না হলে হাজার হাজার একর ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে এবং বহু মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে তদন্তের আশ্বাস

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পলি অপসারণ কাজ যেন শুধু সাময়িকভাবে না হয়; বরং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।”

প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে মোল্যা আবুল কাশেম বলেন, “বিভাগীয় কমিশনার, ইউএনও এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা সরাসরি আমাদের সমস্যা দেখতে এসেছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের দাবি হলো—ড্রেজিং কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে এবং নদীর ভাটি অঞ্চল পর্যন্ত পলি সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও মৎস্য চাষিরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।”

পরিদর্শন শেষে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন এবং ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে ড্রেজিং কার্যক্রম দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তারা আশ্বস্ত করেন, হরি ভদ্রা নদীর পলি অপসারণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।