
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানকের গহীন পাহাড়ে পরিচালিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘মিন্টু বাহিনী’র প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮)কে আটক করা হয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মহেশখালী থানার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে চক্রটি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘মিন্টু বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাকে আটকের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার অন্যতম একটি চক্রের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সফলতা অর্জিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মিন্টু বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি এবং চোরাচালান দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Reporter Name 
























