আন্দোলনের সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে র্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
তিনি বলেন, অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।
৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
র্যাব জানায়, গত সোমবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে একই রাতে আরও সাতজন আত্মসমর্পণ করেন। সব মিলিয়ে আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল, সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের কারণে জেলে, বনজীবীসহ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষ জিম্মি, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব পলাশ জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
তার ভাষ্য, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনীহা এবং হয়রানির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে ফিরে যাচ্ছেন। তবে আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের জন্য আগের তুলনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
তিনি জানান, সুন্দরবনে এখনও চার-পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাদেরও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নেওয়া পুনর্বাসন প্যাকেজ দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানির বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক বা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
সুন্দরবনে র্যাব ব্যাটালিয়নের প্রস্তাব
সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে একটি র্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন র্যাব মহাপরিচালক। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী চাইলে সেখানে র্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন বলে জানান তিনি।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে র্যাবের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মো. আহসান হাবীব পলাশ।
Reporter Name 


























