Dhaka ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গুড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও আ.লীগ নেতা কালু গ্রেপ্তার ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি আদমদীঘিতে চোলাইমদ ও ওয়াশসহ শাশুড়ি-জামাই গ্রেপ্তার নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধে তারিখ কারসাজি, নকল BSTI লোগো: চট্টগ্রামে ৩ প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা বগুড়ায় দিনে দুপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, লুটপাট-ভাঙচুর; আহত ৪ শ্যামনগরে নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে পুরুষদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর নিলেন ডা. নূরুল হক কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“শক্তির ওজন”

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩৪ Time View

 

 

শক্তির ওজন
 অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

একদিন এক বাদশাহ গেলেন
এক দরবেশের দরবারে—
দেখলেন, দরবেশ ডুবে আছে অজানা মন্ত্রে,
যে মন্ত্রে আল্লাহর রহমতে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠত অলৌকিকভাবে।

বাদশাহ বললেন বিনয়ের সুরে—
“হে দরবেশ, আমাকে শেখাও সেই মন্ত্রটি।”
দরবেশ মাথা নত করে বললেন—
“এ শিক্ষা সকলের জন্য নয়,
এটা আমানত… আমি দিতে পারব না।”

বাদশাহ রেগে ফিরে গেলেন
শাসনের অহংকারে ভর করে;
কিন্তু অদূরে নিয়তি অপেক্ষা করছিল
এক নতুন সত্যের দরজায়।

কয়েকদিন পর বাদশাহ ডাকলেন সেই দরবেশকে—
দরবার যখন ভরা, সিংহাসন যখন গৌরবে দীপ্ত,
বাদশাহ বললেন,
“তোমার না বলা মন্ত্র আমি অন্যের কাছে শিখেছি।
কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

এখন তুমি বলো—
আমার ভুল কোথায়?
কোন আয়াতে, কোন ব্যাখ্যায় সমস্যা?
না বললে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।”

দরবেশ তখন শান্তভাবে বললেন—
“হে বাদশাহ, সিপাহীদের বলো—
তোমাকে বন্দী করতে।”

সিপাহীরা স্তব্ধ—
বাদশাহও বিস্ময়ে;
দরবেশ আবার বললেন উচ্চস্বরে—
“সিপাহী! বাদশাহকে বন্দী করো!”

কেউ নড়ল না।
এক ইঞ্চিও না।
দরবার নিস্তব্ধ।

বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে চিৎকার করলেন—
“এই দরবেশকে বন্দী করো এখনই!”
তলোয়ার ঝনঝন শব্দে
সব সিপাহী ছুটে গেল দরবেশের দিকে,
চোখে আগুন, হাতে শাসনের শক্তি।

দরবেশ হেসে বললেন—
“দেখলে বাদশাহ?
আমার কথাও ছিল হুকুম,
তোমার কথাও ছিল হুকুম।

কিন্তু পার্থক্য হলো—
আমার কথার পেছনে কোন শক্তি নেই,
তোমার কথার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে।

এই কারণেই
তোমার শিখে আনা মন্ত্র কাজ করেনি।
মন্ত্র নয়—
মানুষের অবস্থানই আসল ক্ষমতা।

যেমন কোরআনও—
আয়াত তো সবার হাতে,
কিন্তু তার আলো সবার হৃদয়ে নামে না।

আল্লাহ বলেন:
“পাক ঘরে তা-ই প্রবেশ করে,
যার অন্তর পবিত্র।”
(সূরা নূর ২৪:২১)

প্রশ্ন কখনোই এটা নয়—
কোরআনে প্রতিকার আছে কি নেই।
প্রশ্ন হলো—
কে কোরআন পড়ছে?
তার নিয়ত কতটা সত্য?
তার তাওয়াক্কুল কতটা দৃঢ়?
তার হৃদয় কতটা পরিষ্কার?
সে কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ?

আরও পড়ুনঃ  ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরেছে, নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ—জানতে চান হাসনাত

সুরা আনফাল বলে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে,
যাদের ঈমান দৃঢ়।”
(৮:২)

সুরা শোরা বলে—
“যার কর্ম শুদ্ধ,
তাদের জন্য রহমতের দরজা খোলা।”
(৪২:২৬)

সুরা ত্বালাক বলে—
“যে আল্লাহকে ভয় করে,
আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।”
(৬৫:২)

মন্ত্রের শক্তি নয়,
ধর্মগ্রন্থের বাণী নয়—
হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাই
আল্লাহর রহমতকে ডেকে আনে।

দরবেশ বললেন—
“হে বাদশাহ,
কথার ওজন নয়,
কথা বলার মানুষের ওজন-ই আসল সত্য।

হৃদয় যদি পরিশুদ্ধ হয়,
নিয়ত যদি সৎ হয়,
তাহলে একটি আয়াতই
হাজার মন্ত্রের সমান শক্তি বহন করে।

আর যদি হৃদয় হয় কলুষিত,
নিয়ত হয় স্বার্থপর,
তাহলে হাজার মন্ত্র, হাজার আয়াত—
কোনোটিই কাজে আসে না।”

বাদশাহের চোখে জল এল—
গর্ব ভেঙে পড়ল নরম ধুলোর মতো।

দরবেশ শেষবার বললেন—
“শুনে রাখো বাদশাহ,
আল্লাহ মানুষকে চেনেন
তার ভাষায় নয়, তার মুখোশে নয়—
তার নিয়ত, তার ঈমান, তার হৃদয়ের আলোয়।

এই আলো যার আছে,
তার দোয়া মঞ্জুর হয়
বজ্রের মতো শক্তিতে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

“শক্তির ওজন”

সময়: ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

শক্তির ওজন
 অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

একদিন এক বাদশাহ গেলেন
এক দরবেশের দরবারে—
দেখলেন, দরবেশ ডুবে আছে অজানা মন্ত্রে,
যে মন্ত্রে আল্লাহর রহমতে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠত অলৌকিকভাবে।

বাদশাহ বললেন বিনয়ের সুরে—
“হে দরবেশ, আমাকে শেখাও সেই মন্ত্রটি।”
দরবেশ মাথা নত করে বললেন—
“এ শিক্ষা সকলের জন্য নয়,
এটা আমানত… আমি দিতে পারব না।”

বাদশাহ রেগে ফিরে গেলেন
শাসনের অহংকারে ভর করে;
কিন্তু অদূরে নিয়তি অপেক্ষা করছিল
এক নতুন সত্যের দরজায়।

কয়েকদিন পর বাদশাহ ডাকলেন সেই দরবেশকে—
দরবার যখন ভরা, সিংহাসন যখন গৌরবে দীপ্ত,
বাদশাহ বললেন,
“তোমার না বলা মন্ত্র আমি অন্যের কাছে শিখেছি।
কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

এখন তুমি বলো—
আমার ভুল কোথায়?
কোন আয়াতে, কোন ব্যাখ্যায় সমস্যা?
না বললে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।”

দরবেশ তখন শান্তভাবে বললেন—
“হে বাদশাহ, সিপাহীদের বলো—
তোমাকে বন্দী করতে।”

সিপাহীরা স্তব্ধ—
বাদশাহও বিস্ময়ে;
দরবেশ আবার বললেন উচ্চস্বরে—
“সিপাহী! বাদশাহকে বন্দী করো!”

কেউ নড়ল না।
এক ইঞ্চিও না।
দরবার নিস্তব্ধ।

বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে চিৎকার করলেন—
“এই দরবেশকে বন্দী করো এখনই!”
তলোয়ার ঝনঝন শব্দে
সব সিপাহী ছুটে গেল দরবেশের দিকে,
চোখে আগুন, হাতে শাসনের শক্তি।

দরবেশ হেসে বললেন—
“দেখলে বাদশাহ?
আমার কথাও ছিল হুকুম,
তোমার কথাও ছিল হুকুম।

কিন্তু পার্থক্য হলো—
আমার কথার পেছনে কোন শক্তি নেই,
তোমার কথার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে।

এই কারণেই
তোমার শিখে আনা মন্ত্র কাজ করেনি।
মন্ত্র নয়—
মানুষের অবস্থানই আসল ক্ষমতা।

যেমন কোরআনও—
আয়াত তো সবার হাতে,
কিন্তু তার আলো সবার হৃদয়ে নামে না।

আল্লাহ বলেন:
“পাক ঘরে তা-ই প্রবেশ করে,
যার অন্তর পবিত্র।”
(সূরা নূর ২৪:২১)

প্রশ্ন কখনোই এটা নয়—
কোরআনে প্রতিকার আছে কি নেই।
প্রশ্ন হলো—
কে কোরআন পড়ছে?
তার নিয়ত কতটা সত্য?
তার তাওয়াক্কুল কতটা দৃঢ়?
তার হৃদয় কতটা পরিষ্কার?
সে কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ?

আরও পড়ুনঃ  আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

সুরা আনফাল বলে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে,
যাদের ঈমান দৃঢ়।”
(৮:২)

সুরা শোরা বলে—
“যার কর্ম শুদ্ধ,
তাদের জন্য রহমতের দরজা খোলা।”
(৪২:২৬)

সুরা ত্বালাক বলে—
“যে আল্লাহকে ভয় করে,
আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।”
(৬৫:২)

মন্ত্রের শক্তি নয়,
ধর্মগ্রন্থের বাণী নয়—
হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাই
আল্লাহর রহমতকে ডেকে আনে।

দরবেশ বললেন—
“হে বাদশাহ,
কথার ওজন নয়,
কথা বলার মানুষের ওজন-ই আসল সত্য।

হৃদয় যদি পরিশুদ্ধ হয়,
নিয়ত যদি সৎ হয়,
তাহলে একটি আয়াতই
হাজার মন্ত্রের সমান শক্তি বহন করে।

আর যদি হৃদয় হয় কলুষিত,
নিয়ত হয় স্বার্থপর,
তাহলে হাজার মন্ত্র, হাজার আয়াত—
কোনোটিই কাজে আসে না।”

বাদশাহের চোখে জল এল—
গর্ব ভেঙে পড়ল নরম ধুলোর মতো।

দরবেশ শেষবার বললেন—
“শুনে রাখো বাদশাহ,
আল্লাহ মানুষকে চেনেন
তার ভাষায় নয়, তার মুখোশে নয়—
তার নিয়ত, তার ঈমান, তার হৃদয়ের আলোয়।

এই আলো যার আছে,
তার দোয়া মঞ্জুর হয়
বজ্রের মতো শক্তিতে।”