Dhaka ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রসুলপুরে হাডুডু খেলার মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত: পদ্মা টাইগার্স চ্যাম্পিয়ন পূর্ব আটপাড়া হিলফুল ফুজুল ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরন কর্ণফুলী ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ফোরাম ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাতে  চট্টগ্রামের হকি’র উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস রাশেদ খাঁনের দাবি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফোনে ‘সব ফাঁস করে দেবো’ বলে হুমকি দিয়েছেন জামালপুরে অপহরণ মামলা ভিত্তিহীন দাবি গৃহবধূর, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ বদলগাছীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু দেশসেরা স্প্রিন্টার জাকির হোসেনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সম্মাননা তুমুলিয়া প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল টিপিএস (সিজন-৩) টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে টিকিট প্রতারণার অভিযোগ, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দের অভিযোগ: আদমদীঘিতে ১ কোটি টাকা অনিয়মের দাবিতে তদন্তের আহ্বান

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১১ Time View

বগুড়া প্রতিনিধি:


বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একই প্রকল্পের নামে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ১ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ এনে অনিয়ম ও অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-২ থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল উপজেলা পরিষদ থেকে কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের রাস্তা সংস্কার, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের মেরামত এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের সংস্কার।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় একই ধরনের প্রকল্পের জন্য আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফার বরাদ্দে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশপথ, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবন মেরামতের কথা উল্লেখ করা হয়।

এভাবে একই ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরের বেশিরভাগ উন্নয়নকাজ এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার দায়িত্বকালেই সম্পন্ন হয়েছিল। এ অবস্থায় একই প্রকল্প পুনরায় দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া রূপসা ও যমুনা আবাসিক ভবনে দৃশ্যমান সংস্কারকাজের তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। রূপসা ভবনের দেয়ালে শেওলা জমে রয়েছে এবং ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। যমুনা ভবনের নিচতলার বারান্দায় আগাছা জন্মেছে, ছাদেও শেওলা ও পরজীবী গাছ দেখা গেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  খুলনার রূপসায় র‍্যাবের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশপথ এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন রাস্তার জন্য দুই দফায় বরাদ্দ এলেও নতুন করে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নকাজ চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে, পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কারের নামে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে কয়েকটি কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও বরাদ্দকৃত প্রকল্প তালিকায় এ কাজের উল্লেখ নেই।

সচেতন মহলের দাবি, একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রসুলপুরে হাডুডু খেলার মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত: পদ্মা টাইগার্স চ্যাম্পিয়ন

একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দের অভিযোগ: আদমদীঘিতে ১ কোটি টাকা অনিয়মের দাবিতে তদন্তের আহ্বান

সময়: ০৭:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বগুড়া প্রতিনিধি:


বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একই প্রকল্পের নামে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ১ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ এনে অনিয়ম ও অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-২ থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল উপজেলা পরিষদ থেকে কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের রাস্তা সংস্কার, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের মেরামত এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের সংস্কার।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় একই ধরনের প্রকল্পের জন্য আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফার বরাদ্দে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশপথ, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবন মেরামতের কথা উল্লেখ করা হয়।

এভাবে একই ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরের বেশিরভাগ উন্নয়নকাজ এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার দায়িত্বকালেই সম্পন্ন হয়েছিল। এ অবস্থায় একই প্রকল্প পুনরায় দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া রূপসা ও যমুনা আবাসিক ভবনে দৃশ্যমান সংস্কারকাজের তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। রূপসা ভবনের দেয়ালে শেওলা জমে রয়েছে এবং ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। যমুনা ভবনের নিচতলার বারান্দায় আগাছা জন্মেছে, ছাদেও শেওলা ও পরজীবী গাছ দেখা গেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যনগরে মাদকসহ ২ যুবক আটক

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশপথ এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন রাস্তার জন্য দুই দফায় বরাদ্দ এলেও নতুন করে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নকাজ চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে, পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কারের নামে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে কয়েকটি কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও বরাদ্দকৃত প্রকল্প তালিকায় এ কাজের উল্লেখ নেই।

সচেতন মহলের দাবি, একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।