মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ও বিদেশি বাহিনীর সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এদিকে কুয়েতের ভূখণ্ডে ইরানের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ কাতার।
কুয়েতের বিমানঘাঁটিতে বড় হামলার দাবি
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ‘সাইকা’ বা ‘বজ্রপাত’ নামে চলমান সামরিক অভিযানের ৩১তম ধাপে কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে, ওই বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী আকাশপথে নজরদারি ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
আল মিনহাদ ঘাঁটিতেও হামলার দাবি
একই অভিযানের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত বিদেশি সেনা ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
ইরানের দাবি, বিদেশি সামরিক শক্তিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে ইরানের ওপর আগের হামলা ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিশোধ হিসেবে।
তেহরান আরও সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব আরও কঠোর ও ভয়াবহ হতে পারে।
কুয়েতে হামলার নিন্দা কাতারের
এদিকে কুয়েতের ওপর ইরানের নতুন দফার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কুয়েতের ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
কাতার আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এসব হামলার সার্বিক দায় ইরানকেই বহন করতে হবে।
কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান
সংকটের এই পরিস্থিতিতে কুয়েতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে কাতার।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দোহা। আগের সমঝোতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
কাতারের মতে, সামরিক সংঘাত আরও বাড়তে থাকলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Reporter Name 






















