Dhaka ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’, দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় বুড়িচংয়ে হাজী জসিম উদ্দিন এমপি ডাবল হোন্ডা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিক্ষার্থী – হুমকিতে এলাকাছাড়া ১০ টাকার বাদশা এখন ২৫ হাজার মানুষের ভরসা, শিল্পায়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে মাধবপুরের হরিতলা সিলেট মহানগরীর ২৪নং ওয়ার্ড আল ইসলাহ’র পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী সা. অনুষ্ঠান সম্পন্ন কালীগঞ্জে মেয়ের জামাইয়ের কুড়ালের কোপে শ্বশুর নিহত, থানায় আত্মসমর্পণ তাহিরপুরে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলন: আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, এসি ল্যান্ড বরাবর অভিযোগ “বিশ্বের মুসলিম জাতির গৌরব মর্যাদা পুনরুদ্ধারে মেধাভিত্তিক ধর্মচর্চার বিকল্প নেই- সৈয়্যদ মিনহাজুর রহমান চারঘাটে ৬০ গ্রাম হেরোইন ও মোটরসাইকেলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার কালিগঞ্জের সমাজ সংস্কারক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জয়পুরহাটের হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় জনতার অবরুদ্ধ করে ডাক্তারকে

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

মোঃ মাফিজুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে পাশের একটি বেসরকারি দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীদের অভিযোগ, ওই সময় ডা. মোর্শেদুল ইসলামের আক্কেলপুর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার কথা ছিল। তার কাছে চিকিৎসা নিতে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পার হলেও তিনি হাসপাতালে ফিরে না আসায় অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইয়াসমিন নামের এক রোগী বলেন, ডাক্তারের কাছে দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি ফোন পেয়ে উঠে চলে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাকে পাইনি।

পরে স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে হাসপাতালের পাশের দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ গিয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে রোগী দেখার সময় দেখতে পান৷ সেখানে রুজিনা নামের এক রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় সিফাত হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার সময় তার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু তাকে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।পরে আক্কেলপুর থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কে বলেছে আপনাকে ভাই? আমি পাঁচ মিনিট পর আপনাকে ফোন ব্যাক করতেছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  হৃদরোগে আক্রান্ত দুলালের পাশে বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্ট

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো চিকিৎসক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেছেন কি না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো জমা দেওয়ার জন্যই আমি সেখানে যাই। ওই সময় আমার সামনে কোনো রোগী ছিল না এবং রোগী দেখার জন্য কোনো প্যাড, খাতা বা কলমও ছিল না। সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আমি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে একদিন রোগী দেখি। তবে ঘটনার সময় আমি কোনো রোগী দেখছিলাম না।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’, দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

জয়পুরহাটের হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় জনতার অবরুদ্ধ করে ডাক্তারকে

সময়: ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ মাফিজুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে পাশের একটি বেসরকারি দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীদের অভিযোগ, ওই সময় ডা. মোর্শেদুল ইসলামের আক্কেলপুর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার কথা ছিল। তার কাছে চিকিৎসা নিতে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পার হলেও তিনি হাসপাতালে ফিরে না আসায় অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইয়াসমিন নামের এক রোগী বলেন, ডাক্তারের কাছে দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি ফোন পেয়ে উঠে চলে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাকে পাইনি।

পরে স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে হাসপাতালের পাশের দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ গিয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে রোগী দেখার সময় দেখতে পান৷ সেখানে রুজিনা নামের এক রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় সিফাত হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার সময় তার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু তাকে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।পরে আক্কেলপুর থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কে বলেছে আপনাকে ভাই? আমি পাঁচ মিনিট পর আপনাকে ফোন ব্যাক করতেছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, থানায় লিখিত অভিযোগ

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো চিকিৎসক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেছেন কি না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো জমা দেওয়ার জন্যই আমি সেখানে যাই। ওই সময় আমার সামনে কোনো রোগী ছিল না এবং রোগী দেখার জন্য কোনো প্যাড, খাতা বা কলমও ছিল না। সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আমি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে একদিন রোগী দেখি। তবে ঘটনার সময় আমি কোনো রোগী দেখছিলাম না।