স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আঃ মান্নান
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা-এ এক সহকারী শিক্ষিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং বিভিন্ন পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়া-এর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ৯ মে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ লুৎফা আক্তার-কে উপজেলা শিক্ষা অফিসার দীর্ঘদিন ধরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল দিয়ে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষা অফিসার তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সরকারি কার্যক্রম ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা অভিযোগে উল্লেখ করেন, এসব ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কর্মস্থলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। একজন নারী শিক্ষক হিসেবে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ লুৎফা আক্তার বলেন, যারা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাড়া দেন না, তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সরকারি কার্যক্রম ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেসব বিদ্যালয়ে সুন্দরী শিক্ষিকারা রয়েছেন, সেসব স্কুলেই বেশি পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন ওই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, এর আগেও নারী সংক্রান্ত বিষয়ে তার বিরুদ্ধে জেলা শহরে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
আরেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার একটি স্ক্যান্ডাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং ওই স্কুলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দাওয়াতে অংশ নেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়া বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে মহন লাল দাস বলেন, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেদী হাসান মানিক জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু ছুটি শেষে ফিরে এলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 



























