Dhaka ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

দূর্বল ও নিরীহ মানুষদের কে অত্যাচার করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল শক্তিশালী আদ জাতি 

 

দূর্বল ও নিরীহ মানুষদের কে অত্যাচার করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল শক্তিশালী আদ জাতি   

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

 

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে। যারা নিজেদেরকে খুব শক্তিশালী মনে করে। তাদের অত্যাচারে প্রতিবেশী অসহায়। অনেকে শক্তির প্রভাব খাটিয়ে অন্যজনের জায়গা জমিন ও বাড়ি ঘর দখল করে থাকেন। হযরত নূহ (আ.) এর বংশধরদের মধ্যে আদ নামক এক ক্ষমতাশালী বাদশাহ ছিলেন। তার সমকক্ষ শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি সে যুগে অন্য আর কেউই ছিল না। এ বাদশাহ সন্তান সন্ততি ও বংশধরগণও সবদিক দিয়ে শক্তিমান ও প্রভাবশালী ছিল। বাদশাহ আদের নামানুসারে এরা কওমে আদ বা আদ বংশীয় লোক নামে ইতিহাসে পরিচিতি। এদের মধ্যে কোন কোন লোকের দেহের উচ্চতা ছিল চারশত গজ পর্যন্ত। এদের মধ্যম শ্রেণীর লোকদের উচ্চতা ছিল দুইশত গজ পর্যন্ত। আর যারা সবচেয়ে খাটো তাদের উচ্চতা ছিল সত্তর গজ পর্যন্ত। এরাই সবাই যেমন ছিল সাহসী, তেমনই ছিল শক্তিশালী। তারা ছিল খুব অহংকারী ও তাদের অন্তর ছিল খুব কঠিন। তারা সত্যকে মিথ্যা বলতে, মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচার করতো। তারা দূর্বল ও নিরীহ মানুষদেরকে খুব অত্যাচার করতো। তাদের বাসভূমি ছিল ইয়ামান দেশের আহ্কাফ নামক জায়গা। তারা ছিল মরুচারী ও পাহাড়ী লোক। (তাফসীরে ইবনে কাসির)

 

 

 

সাহস ও শক্তির গৌরবে তারা আল্লাহ ও নবীকে ভূলে গিয়েছিলেন। তারা সৎকাজ ও ভালকাজ কখনো করতো না, বরং শয়তানের কু পরামর্শে দেবদেবীর মূর্তির পূজা করতো। আদ কওমের যখন এ অবস্থা প্রবল আকার ধারণ করল, তখন তাদেরকে হেদায়াত করার উদ্দেশ্য আল্লাহ পাক কওমে আদের মধ্য হতেই হুদ নামক এক ব্যক্তিকে নবীরূপে প্রেরণ করলেন। আল্লাহ বললেন, আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে নাবী রুপে পাঠিয়েছিলাম। সে বললঃ হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন মাবূদ নেই, তোমরা কি সাবধান হবেনা? (সূরা আল আরাফ, আয়াত ৬৫) হযরত হুদ (আ.) আদ জাতিদেরকে দেব দেবীর মূর্তি পূজা ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদাত করতে বললেন। তখন তারা নবীর সাথে তর্ক বিতর্ক করলেন। পবিত্র কুরআন মাজীদে এসেছে, তার জাতির নেতারা বললঃ আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং আমরাতো তোমাকে নিশ্চিত রূপে মিথ্যাবাদী মনে করি। সে (নবী) বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমি নির্বোধ নই, বরং আমি হলাম সারা জাহানের রবের মনোনীত রাসূল। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৬৬,৬৭) তারপরে শক্তিশালী আদ জাতিকে হযরত হুদ (আ.) আল্লাহর সত্য ধর্মের প্রতি আহ্বান করলেন এবং আল্লাহর নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য বললেন। পবিত্র কুরআন মাজীদে এসেছে, আমি আমার রবের বার্তা তোমাদের নিকট পোঁছে দিচ্ছি, আর তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাংখী তোমরা কি এতে বিস্মিত হচ্ছ যে, তোমাদের জাতিরই একটি মাধ্যমে তোমাদের রবের পক্ষ হতে তার বিধান ও উপদেশসহ তোমাদের কাছে এসেছে? তোমরা সেই অবস্থার কথা স্বরণ কর যখন নূহের সম্প্রদায়ের পর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে অন্যদের অপেক্ষা শক্তিতে অধিকতর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরণ কর, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৬৮,৬৯)

আরও পড়ুনঃ  মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

 

 

 

হযরত হুদ (আ.) তাদেরকে অনেক বুঝালেন ও অনেক উপদেশ দিলেন। কিন্তু শুনলেন না। হযরত হুদ (আ.) দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে আল্লাহর পথে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাতে কোন সফল হয় নাই। মাত্র সত্তরজন লোককে তিনি কোনরূপে হেদায়াত করতে সক্ষম হলেন। তারাও কাফেরদের ভয়ে গোপনে আল্লাহর ইবাদাত করত, প্রকাশ্যে ইবাদাত করতে সাহস পেত না। তারপরেও হযরত হুদ (আ.) আদ জাতিদেরকে ধর্মের পথে আহ্বান করতেছিলেন। আর আদ জাতি এভাবে তার উত্তর দিচ্ছিল, হুদ! তুমি কি আমাদের কাছে এ আশা করছ যে, আমরা তোমার কথামত বাপ দাদার ধর্ম দেবদেবীর পূজা ত্যাগ করে এক খোদার উপাসনা করব? তা তুমি জেনে রাখ, আমরা তোমার খোদার এবাদাত করব না। তুমি যে তোমার খোদার ভয় দেখাচ্ছ যদি সত্যি হয়, তবে তা আমাদেরকে প্রত্যক্ষ করাও না কেন? না হলে আমরা তো তা বিশ্বাস করবই না; বরং আমরা তোমাকে জানে মেরে ফেলব। কুরআন মাজীদে এসেছে, তারা বললঃ তুমি কি আমাদের নিকট শুধু এই উদ্দেশে এসেছ যে, আমরা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করি এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরা যাদের পূজা করত তাদেরকে বর্জন করি? তুমি তোমার কথা ও দাবীতে সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৭১)

 

 

 

হযরত হুদ (আ.) এদের সম্পর্কে একেবারে নিরাশ হয়ে আল্লাহর দরবারে এরূপ দোয়া করলেন, হে মাবুদ! এরা আমার কথা শুনতেছে না। বরং আমাকে প্রাণে মরার ভয় দেখাচ্ছে। আমার এমন শক্তিও নেই যে, আমি তাদের সাথে পেরে উঠব। তারা অনেক শক্তিশালী। আপনি আমাকে তাদের হাত হতে রক্ষা করুন। বাদশাহ এমন বেশি শক্তির অধিকারী ছিল যে, সে যখন কোন পাথরের উপর দিয়ে হেটে যেত তার জানু পর্যন্ত ঐ পাথরের মধ্যে ডুবে যেত। শক্তির গর্বে আদ কওমের লোকেরা এরূপ বলত যে, কে আছে সারা জাহানের বুকে আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী?

আরও পড়ুনঃ   উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত ৮, সবাই কন্যাশিশু

 

 

হযরত হুদ (আ.) তার সত্তরজন মুমিন উম্মত নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সময় আরো একবার কাফেরদেরকে সত্যধর্মে প্রতি আহ্বান করে বললেন, এখনও তোমরা আমার কথা মেনে নাও। না হলে কিন্তু অচিরেই তোমরা আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়ে যাবে। আদ জাতি হযরত হুদ (আ.) এর কথা শুনে তাকে ঠাট্রা ও বিদ্রূপ করল। যার ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদের দেশে একাধারে তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ রাখলেন। দেশে কোন ফসলাদি জন্মিল না। ফলে সারাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। গজব শুরু হওয়ার আগে হযরত হুদ (আ.) তার উম্মতগণকে নিয়ে তাড়াতাড়ি সে স্থান ত্যাগ করলেন। আল্লাহ বলেন, অতঃপর তাকে (হুদকে) এবং তার সঙ্গী সাথীদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, আর যারা আমার নিদর্শকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং যারা ঈমাদার ছিলনা তাদের মূলোৎপাটন করলাম। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৭২)

 

 

কিছুক্ষণ পরে ভয়াবহ গজব শুরু হলো। মূহূর্তের মধ্যে এমন প্রবল বেগে তুফান শুরু হল যে, দাম্ভিক আদ কওমের লোকদের সকল দাত মুহূর্তে ধূলিস্মাৎ হয়ে গেল। তাদের ঘর বাড়ি প্রথম ঝাপটায়ই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। দ্বিতীয়বারে তাদের আশ্রয় জায়গা পাহাড়ের গুহাসমূহে বায়ু প্রবেশ করে তাদের সকলকে বাইরে উড়িয়ে এনে এমনভাবে আছাড় মারল যে, সাত লক্ষ মানুষের দেহগুলো যেন উৎপাটিত খেজুর গাছের মত নিম্প্রাণদেহে ভূমিতলে পড়ে রইল। তারপর প্রবল বায়ুর তান্ডাব ধূলা মাটি উড়িয়ে উক্ত লাশগুলোর উপরে এমনভাবে নিয়ে আসল যে, তাতে তারা চাপা পড়ে রইল। আল্লাহ বলেন, আর আদ সম্প্রদায় তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্ঝবায়ু দ্বারা। (সূরা আল হাক্কাহ, আয়াত: ৬) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, তুমি কি দেখনি তোমার রব্ব কি করেছেন আদ বংশের। (সূরা আল ফাজর, আয়াত: ৬)

 

লেখক: আলেম, গবেষক

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বোয়ালখালী পৌরসভাস্থ দুশত বছরের বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংসের পথে!

দূর্বল ও নিরীহ মানুষদের কে অত্যাচার করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল শক্তিশালী আদ জাতি 

সময়: ০৮:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

 

দূর্বল ও নিরীহ মানুষদের কে অত্যাচার করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল শক্তিশালী আদ জাতি   

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

 

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে। যারা নিজেদেরকে খুব শক্তিশালী মনে করে। তাদের অত্যাচারে প্রতিবেশী অসহায়। অনেকে শক্তির প্রভাব খাটিয়ে অন্যজনের জায়গা জমিন ও বাড়ি ঘর দখল করে থাকেন। হযরত নূহ (আ.) এর বংশধরদের মধ্যে আদ নামক এক ক্ষমতাশালী বাদশাহ ছিলেন। তার সমকক্ষ শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি সে যুগে অন্য আর কেউই ছিল না। এ বাদশাহ সন্তান সন্ততি ও বংশধরগণও সবদিক দিয়ে শক্তিমান ও প্রভাবশালী ছিল। বাদশাহ আদের নামানুসারে এরা কওমে আদ বা আদ বংশীয় লোক নামে ইতিহাসে পরিচিতি। এদের মধ্যে কোন কোন লোকের দেহের উচ্চতা ছিল চারশত গজ পর্যন্ত। এদের মধ্যম শ্রেণীর লোকদের উচ্চতা ছিল দুইশত গজ পর্যন্ত। আর যারা সবচেয়ে খাটো তাদের উচ্চতা ছিল সত্তর গজ পর্যন্ত। এরাই সবাই যেমন ছিল সাহসী, তেমনই ছিল শক্তিশালী। তারা ছিল খুব অহংকারী ও তাদের অন্তর ছিল খুব কঠিন। তারা সত্যকে মিথ্যা বলতে, মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচার করতো। তারা দূর্বল ও নিরীহ মানুষদেরকে খুব অত্যাচার করতো। তাদের বাসভূমি ছিল ইয়ামান দেশের আহ্কাফ নামক জায়গা। তারা ছিল মরুচারী ও পাহাড়ী লোক। (তাফসীরে ইবনে কাসির)

 

 

 

সাহস ও শক্তির গৌরবে তারা আল্লাহ ও নবীকে ভূলে গিয়েছিলেন। তারা সৎকাজ ও ভালকাজ কখনো করতো না, বরং শয়তানের কু পরামর্শে দেবদেবীর মূর্তির পূজা করতো। আদ কওমের যখন এ অবস্থা প্রবল আকার ধারণ করল, তখন তাদেরকে হেদায়াত করার উদ্দেশ্য আল্লাহ পাক কওমে আদের মধ্য হতেই হুদ নামক এক ব্যক্তিকে নবীরূপে প্রেরণ করলেন। আল্লাহ বললেন, আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে নাবী রুপে পাঠিয়েছিলাম। সে বললঃ হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন মাবূদ নেই, তোমরা কি সাবধান হবেনা? (সূরা আল আরাফ, আয়াত ৬৫) হযরত হুদ (আ.) আদ জাতিদেরকে দেব দেবীর মূর্তি পূজা ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদাত করতে বললেন। তখন তারা নবীর সাথে তর্ক বিতর্ক করলেন। পবিত্র কুরআন মাজীদে এসেছে, তার জাতির নেতারা বললঃ আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং আমরাতো তোমাকে নিশ্চিত রূপে মিথ্যাবাদী মনে করি। সে (নবী) বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমি নির্বোধ নই, বরং আমি হলাম সারা জাহানের রবের মনোনীত রাসূল। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৬৬,৬৭) তারপরে শক্তিশালী আদ জাতিকে হযরত হুদ (আ.) আল্লাহর সত্য ধর্মের প্রতি আহ্বান করলেন এবং আল্লাহর নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য বললেন। পবিত্র কুরআন মাজীদে এসেছে, আমি আমার রবের বার্তা তোমাদের নিকট পোঁছে দিচ্ছি, আর তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাংখী তোমরা কি এতে বিস্মিত হচ্ছ যে, তোমাদের জাতিরই একটি মাধ্যমে তোমাদের রবের পক্ষ হতে তার বিধান ও উপদেশসহ তোমাদের কাছে এসেছে? তোমরা সেই অবস্থার কথা স্বরণ কর যখন নূহের সম্প্রদায়ের পর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে অন্যদের অপেক্ষা শক্তিতে অধিকতর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরণ কর, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৬৮,৬৯)

আরও পড়ুনঃ  বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত

 

 

 

হযরত হুদ (আ.) তাদেরকে অনেক বুঝালেন ও অনেক উপদেশ দিলেন। কিন্তু শুনলেন না। হযরত হুদ (আ.) দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে আল্লাহর পথে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাতে কোন সফল হয় নাই। মাত্র সত্তরজন লোককে তিনি কোনরূপে হেদায়াত করতে সক্ষম হলেন। তারাও কাফেরদের ভয়ে গোপনে আল্লাহর ইবাদাত করত, প্রকাশ্যে ইবাদাত করতে সাহস পেত না। তারপরেও হযরত হুদ (আ.) আদ জাতিদেরকে ধর্মের পথে আহ্বান করতেছিলেন। আর আদ জাতি এভাবে তার উত্তর দিচ্ছিল, হুদ! তুমি কি আমাদের কাছে এ আশা করছ যে, আমরা তোমার কথামত বাপ দাদার ধর্ম দেবদেবীর পূজা ত্যাগ করে এক খোদার উপাসনা করব? তা তুমি জেনে রাখ, আমরা তোমার খোদার এবাদাত করব না। তুমি যে তোমার খোদার ভয় দেখাচ্ছ যদি সত্যি হয়, তবে তা আমাদেরকে প্রত্যক্ষ করাও না কেন? না হলে আমরা তো তা বিশ্বাস করবই না; বরং আমরা তোমাকে জানে মেরে ফেলব। কুরআন মাজীদে এসেছে, তারা বললঃ তুমি কি আমাদের নিকট শুধু এই উদ্দেশে এসেছ যে, আমরা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করি এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরা যাদের পূজা করত তাদেরকে বর্জন করি? তুমি তোমার কথা ও দাবীতে সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৭১)

 

 

 

হযরত হুদ (আ.) এদের সম্পর্কে একেবারে নিরাশ হয়ে আল্লাহর দরবারে এরূপ দোয়া করলেন, হে মাবুদ! এরা আমার কথা শুনতেছে না। বরং আমাকে প্রাণে মরার ভয় দেখাচ্ছে। আমার এমন শক্তিও নেই যে, আমি তাদের সাথে পেরে উঠব। তারা অনেক শক্তিশালী। আপনি আমাকে তাদের হাত হতে রক্ষা করুন। বাদশাহ এমন বেশি শক্তির অধিকারী ছিল যে, সে যখন কোন পাথরের উপর দিয়ে হেটে যেত তার জানু পর্যন্ত ঐ পাথরের মধ্যে ডুবে যেত। শক্তির গর্বে আদ কওমের লোকেরা এরূপ বলত যে, কে আছে সারা জাহানের বুকে আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী?

আরও পড়ুনঃ  মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

 

 

হযরত হুদ (আ.) তার সত্তরজন মুমিন উম্মত নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সময় আরো একবার কাফেরদেরকে সত্যধর্মে প্রতি আহ্বান করে বললেন, এখনও তোমরা আমার কথা মেনে নাও। না হলে কিন্তু অচিরেই তোমরা আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়ে যাবে। আদ জাতি হযরত হুদ (আ.) এর কথা শুনে তাকে ঠাট্রা ও বিদ্রূপ করল। যার ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদের দেশে একাধারে তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ রাখলেন। দেশে কোন ফসলাদি জন্মিল না। ফলে সারাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। গজব শুরু হওয়ার আগে হযরত হুদ (আ.) তার উম্মতগণকে নিয়ে তাড়াতাড়ি সে স্থান ত্যাগ করলেন। আল্লাহ বলেন, অতঃপর তাকে (হুদকে) এবং তার সঙ্গী সাথীদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, আর যারা আমার নিদর্শকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং যারা ঈমাদার ছিলনা তাদের মূলোৎপাটন করলাম। (সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৭২)

 

 

কিছুক্ষণ পরে ভয়াবহ গজব শুরু হলো। মূহূর্তের মধ্যে এমন প্রবল বেগে তুফান শুরু হল যে, দাম্ভিক আদ কওমের লোকদের সকল দাত মুহূর্তে ধূলিস্মাৎ হয়ে গেল। তাদের ঘর বাড়ি প্রথম ঝাপটায়ই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। দ্বিতীয়বারে তাদের আশ্রয় জায়গা পাহাড়ের গুহাসমূহে বায়ু প্রবেশ করে তাদের সকলকে বাইরে উড়িয়ে এনে এমনভাবে আছাড় মারল যে, সাত লক্ষ মানুষের দেহগুলো যেন উৎপাটিত খেজুর গাছের মত নিম্প্রাণদেহে ভূমিতলে পড়ে রইল। তারপর প্রবল বায়ুর তান্ডাব ধূলা মাটি উড়িয়ে উক্ত লাশগুলোর উপরে এমনভাবে নিয়ে আসল যে, তাতে তারা চাপা পড়ে রইল। আল্লাহ বলেন, আর আদ সম্প্রদায় তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্ঝবায়ু দ্বারা। (সূরা আল হাক্কাহ, আয়াত: ৬) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, তুমি কি দেখনি তোমার রব্ব কি করেছেন আদ বংশের। (সূরা আল ফাজর, আয়াত: ৬)

 

লেখক: আলেম, গবেষক