মোহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ্,
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে পৈতৃক ওয়ারিশ ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া বসতভিটায় ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সামাজিক শালিসের রায় অমান্য করে বসতভিটা জবরদখলের চেষ্টা, ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি এবং বহিরাগতদের এনে হামলার হুমকির অভিযোগ উঠেছে তুষার সরকার ও তার ভাই কিশোর সরকার নামের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও জমির দলিল সূত্রে জানা যায়, শিবপুর গ্রামের উক্ত বসতভিটার জায়গাটি সিএস (CS) রেকর্ডে মুচিরাম সরকারের নামে সাবেক দাগ নং ৭৪৮ ও ৭৪৯-এ মোট ৮৪ শতক জমি ছিল। পরবর্তীতে এসএ (SA) ও বিএস (BS) খতিয়ানে মুচিরাম সরকারের ছেলে রমণী সরকার ৪৩ শতক জমির মালিক হন। রমণী সরকারের চার ছেলে—হলধর সরকার, চক্রধর সরকার, পাশ্বনাথ সরকার ও সখী চরণ সরকার পৈতৃক সূত্রে প্রত্যেকে পৌনে ১১ শতক (১০.৭৫ শতক) করে প্রাপ্য হন।
বর্তমান বসতবাড়ির অংশে তিন ভাইয়ের ভাগে ৮ শতক করে মোট ২৪ শতক নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে সখী চরণ সরকার (অভিযুক্ত তুষার সরকারের বাবা) তাঁর অংশের ৮ শতক জমি থেকে ৭ শতক জমি পাশ্বনাথ সরকারের (সজল ও রিপন সরকারের বাবা) কাছে সাফ-কাবলা মূলে বিক্রি করে দেন। বাকি ১ শতক জায়গার ওপর তুষারদের একটি ঘর রয়েছে এবং তাঁদের অবশিষ্ট হিস্যা সীমানা প্রাচীরের উত্তর পাশের যৌথ সম্পত্তিতে প্রাপ্য রয়েছে।
ভবন নির্মাণকারী রিপন সরকার অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা তাঁদের পুরনো বসতঘরের স্থানে বৈধ ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ করছেন। অথচ তুষার একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে তাঁদের কাজে বাধা দিচ্ছে, ভুয়া অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে তাঁদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
রিপন সরকারের ভাই সজল সরকার বলেন, তাঁদের কাগজপত্রের প্রতিটি হিসাব নিখুঁত ও সঠিক। তুষার অন্যায়ভাবে জায়গা জবরদখলের পাঁয়তারা করছে। তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। কিন্তু মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ তাঁদের প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও সুবিচার দাবি করছেন।
এ বিষয়ে শিবপুর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী ও উত্তর পাশের প্রতিবেশী সালিসদার মোহাম্মদ মহসিন সরকার জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে সার্ভেয়ার (আমিন) এনে এই বাড়ির মোট ২৪ শতক জায়গা পরিমাপ করা হয়। সেই শালিসে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তখন পরিমাপ অনুযায়ী জুয়েল ও রিপনদের পরিবারকে তাদের ৮ শতক করে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তুষারের বাবা জীবিত থাকতেই তাঁর ৮ শতকের মধ্যে ৭ শতক বিক্রি করে দিয়েছিলেন, বাকি ১ শতকে তাঁদের ঘর নির্ধারণ করা হয়। এখন তুষার রিপনের নতুন বিল্ডিংয়ের ভেতরে জায়গা দাবি করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাদের যদি কোনো হিস্যা থাকে, তবে তা বাউন্ডারির উত্তর পাশের জমিতে রয়েছে। সেখানে সবারই প্রাপ্য রয়েছে। কিন্তু তা না করে বাড়িতে এসে বিশৃঙ্খলা ও ঝামেলা তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তুষার সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “দশ মিনিট পর কথা বলব” জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিকবার কল ও চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইন অমান্য করে কেউ জোরজবরদস্তি বা সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 





















