
মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
পূবাইল-এর মেঘডুবী এলাকায় মুদি দোকানি কুলসুম আক্তার (৪৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন কুলসুম আক্তার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় গাজীপুর জেলা পিবিআই। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় সংস্থাটি।
আটককৃতরা হলেন—রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে কামরুজ্জামান (৩৫), বাদশা মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন (৩০) ও আফজাল হোসেন (৩৩)। তারা সবাই মেঘডুবী কড়ইটেক এলাকার এ ওয়ান পলিমার কারখানার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ভিকটিমের পাশের বাসায় ভাড়া থাকতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা নিয়মিত কুলসুম আক্তারের দোকান থেকে বাকিতে কেনাকাটা করতেন। বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে তাদের সঙ্গে কুলসুমের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে এবং কুলসুম বাসায় একা থাকেন—এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে তারা।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২৫ এপ্রিল রাতে অভিযুক্তরা কুলসুমকে জানায় যে তারা বাসায় বান্ধবী নিয়ে কিছু সময় কাটাতে চায়। কুলসুম এতে রাজি হয়ে পরদিন দুপুরে আসতে বলেন।
পরদিন দুপুরে কামরুজ্জামান বিভিন্ন ধরনের ফল নিয়ে কুলসুমের বাসায় যায়। সেখানে এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়। পরে ঘরে থাকা একটি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে কুলসুমকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
হত্যার পর ঘরে থাকা নগদ ৩ হাজার ২৫০ টাকা, শিশুদের হাতের চুড়ি, টিকলি ও গলার চেইন নিয়ে রংপুরে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে গিয়ে তারা জানতে পারে সেগুলো আসল স্বর্ণ নয়, বরং সিটি গোল্ড।
পিবিআই জানিয়েছে, আটক তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
Reporter Name 

























