মো. আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শাহ আরেফিন (রাঃ) আস্থানায় এক খাদেমের বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে জোরপূর্বক কক্ষে নিয়ে যাওয়াসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভক্তবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ভক্তবৃন্দের দাবি, শাহ আরেফিন এলাকার বাসিন্দারা হাসুন আলী ওরফে ‘হাসুইন্না’ নামের ওই খাদেমকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এর আগে ওই নারীকে জোর করে খাদেমের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার একটি দৃশ্য আস্থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। কিছুসংখ্যক নেশাগ্রস্ত ও চোরাকারবারি লোকজন দ্বারা মোকাম কমিটি গঠন করার কারণে তাদের যোগসাজশে ভক্তবৃন্দের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় ভক্তবৃন্দের ভাষ্য মতে, ওই নারীর চিৎকার শুনে কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তারা খাদেমকে ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। অভিযুক্ত খাদেমসহ বর্তমান কমিটি বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার কিছুসংখ্যক ভক্তবৃন্দ। তারা আরও বলেন, হযরত শাহজালাল (রাঃ) আলাইহি মোকামের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরে আসলেও হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) মোকাম-আস্তানার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শাহ আরেফিন আস্থানার মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলম সাব্বির বলেন, ঘটনার বিষয়টি জানার পরপরই মাজার কমিটি ও খাদেম কমিটি বসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। যে নারীকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাকে আমরা সেখানে পাইনি। তবে পবিত্র মাজারের ভেতরে কোনো নারীকে কক্ষে নিয়ে যাওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে আমরা মাজার বা খাদেম কমিটির দায়িত্বে রাখব না। তাই তাকে দ্রুত মোকাম-আস্তানা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই খাদেমের ভালো কিছু গুণও ছিল। সে প্রায়ই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে গোসল করানোসহ খাবার খাওয়াত এবং ফজরের নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করত। কিন্তু এবারের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ভক্তবৃন্দ বলেন, স্থানীয় জনগণকে নিয়ে অভিযুক্ত খাদেমকে শাস্তি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাজার ও খাদেম কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তি মাজার কমিটি বা খাদেম কমিটির কোনো দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এমনকি মোকামের বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি গঠন করারও দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাসুন আলী ওরফে ‘হাসুইন্না’ বলেন, একটি কুচক্রী সিন্ডিকেট মহলের স্বার্থ হাসিলের জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে অবৈধভাবে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, শাহ আরেফিন (রাঃ) মোকামে খাদেম কর্তৃক মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে কক্ষে ঢোকানোর বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। তবে ভক্তবৃন্দ বা মোকাম কমিটির কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 

























