
মোঃ মাইদুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন একজন শিক্ষিকা দিয়ে পাঠদান পরিচালনার সংবাদ প্রকাশের পর তিনজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে পদায়ন করা শিক্ষকদের মধ্যে একজন তিনবার স্ট্রোক করা রোগী বলে জানা গেছে। নির্ধারিত দিনেও কেউ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।
এর আগে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষিকা দিয়ে পাঠদান চলছিল। বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও শিক্ষা অফিসের কিছু অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, বড় খাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম এবং পশ্চিম বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিনকে উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ১৪ মে ২০২৬ তারিখে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে কোনো শিক্ষকই বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ। তিনি বলেন, “তিনজন শিক্ষক দেওয়ার আদেশ হয়েছে, কিন্তু কেউ যোগদান করেননি। তাদের মধ্যে একজন স্ট্রোকের রোগী বলেও জেনেছি।”
বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ সেলিমা পারভীন বলেন, “মিজানুর রহমান তিনবার স্ট্রোক করেছেন। অসুস্থ একজন মানুষ এত দূরে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন? কাছাকাছি থেকে শিক্ষক দিলে ভালো হতো।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “আমি তিনজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দিয়েছি। কেন তারা যোগদান করেননি, সেটি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলতে পারবেন।”
এদিকে স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের পাঠদান স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
Reporter Name 


























